kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

এসএ গেমস ক্রীড়াঙ্গনের প্রেরণা

ইকরামউজ্জমান

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এসএ গেমস ক্রীড়াঙ্গনের প্রেরণা

বাস্তবতায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানের পরিপ্রেক্ষিতে বেশির ভাগ ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়ের লক্ষ্য এবং বড় স্বপ্ন  হলো মাল্টিপল স্পোর্টস ডিসিপ্লিনের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক ‘গ্রেটেস্ট স্পোর্টস ইভেন্ট’ এমএ গেমসে (সাউথ এশিয়ান গেমস) অংশগ্রহণ এবং এই স্পোর্টস কার্নিভালে’ দেশের জন্য অবদান রাখার সাধ্যমতো চেষ্টা। জন্মভূমির জন্য ক্রীড়াঙ্গনে লড়ার চেয়ে তো সম্মান ও গৌরবের আর কিছু নেই। কিছু একক ও দলগত খেলার ডিসিপ্লিনে অবশ্য আমাদের খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদরা আরো দূরের চত্বরে বড় স্বপ্ন সব সময় দেখেন। আর এই স্বপ্ন তো বাস্তবায়িত হচ্ছে একক ও দলীয় খেলায়। ক্রীড়াঙ্গনে বড় স্বপ্ন দেখতেই হবে আর তা হতে হবে বাস্তবসম্মত। ক্রীড়াঙ্গন চলমান প্যারেড। এখানে থমকে থাকার সুযোগ নেই।

সাতটি দেশের ১৭০ কোটিওর বেশি মানুষের আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ইভেন্ট হলো এসএ গেমস। অনেক স্বপ্ন, লক্ষ্যে আর আবেগে মোড়ানো। আসন্ন ১৩তম সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ৩০টি স্বর্ণ জিতবে এমনটি আশা করা মানেই হতাশাকে জোর করে টেনে আনা। বাংলাদেশ অংশ নেবে ২৫টি খেলার ডিসিপ্লিনে। বাংলাদেশ অবশ্যই অন্য যেকোনো বারের চেয়ে এবার বিদেশের মাটিতে অনেক বেশি ভালো করবে বলে আশা করতে পারি। এর কারণ হলো সময় হাতে রেখে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অর্থানুকূল্যে নিজ নিজ খেলার ফেডারেশনগুলোর তত্ত্বাবধানে নিবিড় প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা। সাফল্যের ভিত্তি হচ্ছে মনোভাব বা দৃষ্টিভঙ্গি। খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদদের শক্তি ও সামর্থ্যের কতটা ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে—এটা দিয়ে সাফল্য নির্ধারিত হয়। তা ছাড়া সাফল্য নির্ভর করে খেলোয়াড়দের পরিশ্রম, স্কিল, মনঃসংযোগক্ষমতা এবং পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তির ওপর।

এসএ গেমস আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের মান উন্নয়ন, বিভিন্ন খেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রধান অনুপ্রেরণার চত্বর। ক্রীড়াঙ্গনের জন্য আলোর দিশারি। এসএ গেমস আছে বলেই আমাদের ক্রীড়াঙ্গন এগিয়ে চলেছে। স্বপ্ন দেখা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিবারই এসএম গেমসে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে যেভাবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যক্ষ সাহায্য ও সহযোগিতায় প্রতিটি খেলায় যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়, এটা তো খেলার মানোন্নয়নের পক্ষেই সহায়ক হচ্ছে। এসএ গেমস না থাকলে তো অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এত বৃহৎ কর্মসূচি থাকত না। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন পুরো বিষয়টিকে দেখেছে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, আর তাই বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে—যেটি আগে দেখা যায়নি। এখানেই সচেতনতা এবং খেলার গুরুত্ব রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে বাড়ছে বলে মনে করি।

সাফ গেমসের যাত্রা শুরু ৩৬ বছর আগে, ১৯৮৪ সালে নেপালের কাঠমাণ্ডু থেকে। শুরুতে এই গেমসের নাম ছিল সাফ গেমস। অর্থাৎ সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন গেমস। ২০০৪ সালে দক্ষিণ এশীয় ক্রীড়া সংস্থার (এসএওসি) পরিচালনা পরিষদ সভায় সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেশন শব্দটি বাদ দিয়েছে। অর্থাৎ সাউথ এশিয়ান গেমস।

যে উদ্দেশ্য, চেতনা এবং স্বপ্ন নিয়ে এই গেমসের শুরু সেই চেতনা এবং লক্ষ্য থেকে কিন্তু গেমসের আঞ্চলিক বডি অনেকটাই সরে গেছে। দেখা যাচ্ছে কেউ কেউ এই গেমসের গুরুত্ব তেমনভাবে আর অনুভব করছে না। তা ছাড়া গেমস অরগানাইজ সময়মতো করা সম্ভব হচ্ছে না। দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়া বিশ্লেষক দীপক প্যাটেল লিখেছেন, ‘ভারত এসএ গেমসের প্রতি উৎসাহ আগের তুলনায় অনেক হারিয়ে ফেলেছে। ভারত তাকাচ্ছে এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিকের দিকে। তা ছাড়া ভারত ও পাকিস্তান তো ক্রীড়াঙ্গনে পরস্পর পরস্পরের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধা পোষণ করে না। এ বিষয়টি গেমসের ওপরও প্রভাব বিস্তার করে কমবেশি! তবে এই গেমসকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আঞ্চলিক ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থেই। ভারত এসএ গেমসে ডমিনেট করে—এটাই স্বাভাবিক। আমার দিক হলো, অন্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোও কিন্তু এগিয়ে আসছে প্রতিবারই।’

এসএ গেমস নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ সন্দেহ নেই। তবে এ ক্ষেত্রে সার্কযুক্ত দেশগুলোর এনওসির মধ্যে ঐক্য, সুসম্পর্ক ও আস্থা বড় জরুরি। আস্থা ও বিশ্বাসের অভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে বিরাট জনসম্পদ। যত কিছুই বলা হোক না কেন, দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গন অলিম্পিকে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না এত বড় জনসম্পদ থাকা সত্ত্বেও—এ প্রশ্নের উত্তর কিন্তু খুঁজতেই হবে।

 

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা