kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট প্রহসন

অনলাইন থেকে

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের মাইনরিটি হুইপ স্টিভ স্ক্যালিজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসনবিষয়ক তদন্তপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার উদ্দেশে ভোটাভুটির আগে হাউস ফ্লোরে দাঁড়িয়ে রীতিমতো কথার তুবড়ি ফুটিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে শব্দবাণ ছুড়ে তিনি বলেছিলেন, যে প্রক্রিয়া চলছে তাকে ‘সাঁইত্রিশ দিনের সোভিয়েত স্টাইল অভিশংসন প্রক্রিয়া’ ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। প্রসঙ্গত, সোভিয়েত ইউনিয়নে এমন কোনো সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছিল না, যাতে নির্বাচিত আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রের নির্বাহীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারেন, তাঁকে অপসারণ করতে পারেন। কয়েক মাসের উন্মুক্ত শুনানি ও পাবলিক ট্রায়ালের পরিপ্রেক্ষিতে মিস্টার স্ক্যালিজ এ কথাই বলতে চেয়েছিলেন যে অভিশংসন প্রক্রিয়া, যা মূলত রুদ্ধদার পরিবেশে হয়েছে, এক ধরনের শো ট্রায়াল (বিচারের নামে প্রহসন)।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে কংগ্রেসের রিপালিকানরা যে দুটি মূল উদ্যোগ নিয়েছেন এটি (স্ক্যালিজের প্রয়াস) সেগুলোর একটি। অন্যটি হলো—ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সহযোগী জড়িত ছিল না। অর্থাৎ কেউ এ বিষয়ে দুতিয়ালি করেনি। এ কথা ট্রাম্পও বারবার জোর দিয়ে বলেছেন। এ প্রয়াসের অর্থ এই দাঁড়ায় যে আমেরিকার নির্বাচনে বিদেশি সহায়তা চাওয়া ঠিক আছে, এতে কোনো সমস্যা নেই। যা হোক, দুটি প্রয়াসই নিষ্ফল হতে শুরু করেছে।

প্রথম প্রয়াস সব সময়ই দুর্বল ছিল। ফৌজদারি অপরাধের বিচারে দোষী সাব্যস্ত করা হবে কি হবে না তা নির্ধারণের জন্য গ্র্যান্ড জুরি নিয়োগ করা হয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। অভিশংসন তদন্ত প্রক্রিয়ায় হাউসকে সংশ্লিষ্ট করার অর্থও একই। রুদ্ধদার শুনানি অনেক দিন ধরেই কংগ্রেসের তদারকি কার্যক্রমের অংশ। ন্যান্সি পেলোসি—প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার—রিপাবলিকানদের দাবি মেনে ফুল হাউস ভোটের (সব প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ভোটাভুটির অধিবেশন) ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে উন্মুক্ত শুনানি শুরু হবে।

দ্বিতীয় প্রয়াস আমলযোগ্য থাকবে কি থাকবে না, বলা কঠিন। কারণ একের পর এক সাক্ষী শপথ পড়ে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, আসলেই কেউ (ইউক্রেন বিষয়ে) সহায়ক বা সহযোগী হিসেবে ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত গর্ডন সন্ডল্যান্ড এ কোরাসে নবতম সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। মিস্টার সন্ডল্যান্ড আগে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তিনি (ইউক্রেনে দুর্নীতিবিষয়ক) তদন্ত শুরু করার ব্যাপারে ইউক্রেনি কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কখনো কথা বলেননি। এর মানে হলো, তিনি কখনো ভাবেননি যে সামরিক সহায়তার সঙ্গে কোনো পূর্বশর্ত জড়িত ছিল। অর্থাৎ তিনি জানতেন না কেন সামরিক সহায়তা আবার শুরুর করার বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছিল।

মিস্টার সন্ডল্যান্ড গত ৫ নভেম্বর তাঁর বক্তব্যের ভাষ্য সংশোধন করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক উইলিয়াম টেলরের বক্তব্য এবং টিম মরিসনের (দিন কতক আগেও যিনি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের রাশিয়া ও ইউরোপ বিষয়ক শীর্ষ উপদেশক ছিলেন) সাক্ষ্য তাঁর স্মৃতিকে পুনর্জাগরিত করেছে—ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেরেনিস্কর উপদেষ্টা আন্দ্রি ইয়ারমাকের সঙ্গে কথোপকথনের কথা তাঁর মনে পড়েছে। তিনি বলেছিলেন, (ইউক্রেনে) যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা আবার শুরু হবে না, যতক্ষণ না মিস্টার জেলেনিস্ক ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী পাবলিক অ্যান্টি-করাপশন স্টেটমেন্ট দেন। তিনি বলেন, মিস্টার মরিসনের বক্তব্যের সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ তাঁর নেই। মরিসন কী বলেছেন? তিনি বলেছেন, সামরিক সহায়তা পুনরারম্ভ করার সঙ্গে পাবলিক স্টেটমেন্টে জো বাইডেনের ছেলেকে নিযুক্তকারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্তের কথা, যা শর্ত হিসেবে যুক্ত করার কথা বলা হয়ে থাকতে পারে।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের ডিফেন্ডাররা সুর বদলাচ্ছেন। তাঁরা এখন বলতে শুরু করেছেন, বিদেশনীতিতে রুটিনমাফিক সহযোগী বা দূত সংশ্লিষ্ট করার বিধান থাকে। ট্রাম্প যদি কাউকে সংশ্লিষ্ট করে থাকেন, তাহলেও তা অভিশংসনযোগ্য আচরণ নয়। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ মিক মালভেনি এরই মধ্যে সাংবাদিকদের বলেছেন, এ নিয়ে আর ক্যাচাল করার দরকার নেই। এ যুক্তি নিয়েই অভিশংসন প্রক্রিয়ার পাবলিক ফেজে হাজির হবেন ট্রাম্পের ডিফেন্ডাররা। সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির প্রধান লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি সিনেটে প্রেসিডেন্টের অভিশংসন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। তিনি ভিন্নপথে হাঁটছেন। সিবিএস নিউজ নেটওয়ার্ককে তিনি বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটিই তিনি বাতিলের খাতায় রেখেছেন। এটিকে তিনি বুলশিট মনে করেন।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা