kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নির্বাচনটি ঐতিহাসিক হতে পারে

জন হ্যারিস

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্বাচনের পক্ষের রাজনীতিক এবং যাঁদের ভোট দিতে হবে তাঁরা সবাই নিশ্চিতভাবেই জানেন, খুবই অস্বাভাবিক একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। অস্বাভাবিক সময় বেছে নেওয়া বা এটা যে ব্রেক্সিটের মৌলিক বিষয়গুলোর সমাধান করতে পারবে না—শুধু এ চিন্তা থেকে নয়; বরং গভীর উদ্বেগ ও স্ববিরোধী বিষয়াবলির কারণে এ কথা বলছি।

জনগণের বিশাল একটি অংশকে অবসন্ন মনে হচ্ছে। মূল দুটি দলের কোনটির দিকে তারা কী মাত্রায় ঝুঁকবে সেটা স্পষ্ট নয়। কাকে ভোট দেবে, তা জানার জন্য লোকজনকে জিজ্ঞেস করার অর্থ হচ্ছে তাদের দীর্ঘশ্বাস ফেলতে বলা। আজকাল নির্বাচনের ফলাফল খুবই এলোমেলো হচ্ছে—যেন ঘটনাগুলো দুর্ঘটনাবশত ঘটছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, ৫০ বছর ধরে গণমাধ্যমের আচরণ অপরিবর্তিত। তারা যে আচরণ করে, তা কার্যত যজ্ঞবিধিতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনকালে তারা ‘টার্গেট’ সিটগুলো বাছাই করে, সেগুলো নিয়ে কথা বলার জন্য বিশ্লেষকদের ডেকে আনে, জনমত প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে। এসবের ফলে ব্যত্যয়ী বিষয়গুলো আরো জটিল হয়ে ওঠে। উদ্ভট ব্যাপার হচ্ছে, এখনো মতামত জরিপে বেশ মনোযোগ দেওয়া হয়।

রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, টোরিরা লেবারদের চেয়ে আট বা ১৬ বা ১২ পার্সেন্টেজ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। পার্থক্যটা এত হওয়ার কথা নয়। যা হোক, এ নির্বাচন ঐতিহাসিক হয়ে উঠতে পারে—শুধু রাজনীতির জন্য নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্যও।

ব্যাপারটা আসলে কী? ২০১৭ সালের মতো কমপক্ষে তিনটি প্রসঙ্গে মত যাচাই হতে যাচ্ছে, যেমন ব্রেক্সিট; এটা টোরিদের ধারণা এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা চটজলদি তাতে শামিল হয়েছে; কৃচ্ছ  ও অসমতা বিষয়ে লেবারদের বিতর্ক এবং এ দুটি বিষয়কে জড়িত করে স্বাধীনতার প্রসঙ্গ ও স্কটল্যান্ড, এর কেন্দ্রে রয়েছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি।

এসব প্রসঙ্গ জনগণের কাছে কী মাত্রায় গ্রাহ্য তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তিন বছর ধরে ব্রেক্সিট নিয়ে যে বিরক্তিকর নাটক চলছে, তার ফলে রাজনীতির সঙ্গে জনগণের দূরত্ব শুধু বেড়েছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে দলের প্রতি যে সমর্থন ও আনুগত্য দেখা গেছে তাতে চিড় ধরেছে। প্রায় অর্ধেক ভোটার ২০১৭ সালে যে দলকে ভোট দিয়েছিল সে দল ছেড়ে ভিন্ন কোনো দলের দিকে ভিড়তে পারে।

আমাদের চিড় ধরা নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণেই এমনটি হচ্ছে। পুনরুজ্জীবিত লিবডেম, ব্রেক্সিট পার্টি বা গ্রিনস, কেউ সমাধান দেখতে বা দেখাতে পারবে বলে মনে হয় না; পারলেও তেমন আমলযোগ্য হবে না। যারা খুবই দলনিষ্ঠ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাদের বক্তব্য দেখা যায় তারা ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী; বরং তাদের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ রাজনৈতিকভাবে তৎপর। তারা সদা তৎপর।

হালনাগাদ যোগাযোগ কৌশল ও ব্যবস্থার কল্যাণেই এমনটি ঘটছে। হাজার হাজার বা লাখ লাখ ব্যক্তিগত মাইক্রো-ক্যাম্পেইন চলছে লোকজনের নিউজ-ফিডে। অনেক পক্ষ, অনেক কণ্ঠ—এসব পার্টি মেশিন ও প্রচলিত মিডিয়ার বাইরে হচ্ছে; প্রায়ই অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটছে।

দুই বছর আগে টেরেসা মে তাঁর অপারদর্শিতার কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসি-ঠাট্টার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। এবারও তেমন ঘটনা ঘটবে; তবে কারা কিভাবে নাকানিচুবানি খাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। আরো কিছু বিষয় দেখা যাবে, টুইটার হঠাৎ রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিতে পারে। তাতে কী? অনেক লোক রয়েছে যারা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—তারা বট, ফেইক অ্যাকাউন্ট এবং আরো যা আছে তা ব্যবহার করবে।

আমরা জানি, বরিস জনসনের বিশ্বস্ত লোক লিন্টন ক্রসবি পরিচালিত লবি ফার্ম সিটিএফ পার্টনারস সম্প্রতি ব্রেক্সিটপন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের ফেসবুক বিজ্ঞাপন তদারকি করতে গিয়ে ফেঁসেছে। এটাও জানি, কনজারভেটিভ পার্টি সিটিএফ-ঘনিষ্ঠ লোকদের ভাড়া করেছে; তারা চোরা অনলাইন ক্যাম্পেইন কৌশল বেশ ভালো জানে।

বিষয়টি পরিষ্কার, টোরিরা তাদের অনলাইন ক্যাম্পেইনের জন্য মিথ্যার ফুলঝুরি সাজিয়ে রেখেছে। বামপন্থীদের কথার তুবড়ি ছোটার আগেই আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে যে লেবার অনলাইনের জন্য যারা কাজ করবে তারা (বাস্তবের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক খুব হালকা) নোংরা ও অপতথ্য ব্যবহার করতে পারে।

যা হোক, ইন্টারনেট প্রগতিশীল লোকজন ও পার্টিগুলোর জন্য সুবিধাও বয়ে এনেছে। অ্যাক্টিভিস্টরা দ্রুত নেটওয়ার্ক গড়তে পারছে, তথ্যপ্রবাহ সৃষ্টি করতে পারছে। ফলে গোঁড়া ও দক্ষিণপন্থী মিডিয়াকে এড়িয়ে চলা সম্ভব হচ্ছে। তার পরও তাদের প্রচারণায় বাদ সাধার সুযোগ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর রয়েছে।

১৩ ডিসেম্বর যা দেখতে পাব তা আমাদের ভবিষ্যতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। কিন্তু পরের দিনই যথারীতি কূটকচাল ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব আমাদের চেপে ধরবে। কারণ আমাদের রাজনীতিতে যে বিবর্তন চলছে, তা আমরা বুঝতে শুরু করেছি মাত্র।

 

লেখক : দ্য গার্ডিয়ানের (ইউকে)

কলাম লেখক

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান (অনলাইন)

সংক্ষেপিত ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা