kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজনীতি পরিশীলিত হবে কি!

ড. নিয়াজ আহম্মেদ

৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজনীতি পরিশীলিত হবে কি!

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচিত বিষয় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আসন্ন কাউন্সিল অধিবেশন। যার ওপর নতুন নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংস্কার এবং রাজনীতি পরিশীলিত হওয়া ও না হওয়া নির্ভর করছে। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদককে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অভিযান এখনো চলমান। শুদ্ধি অভিযানের ধারাবাহিকতায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান, যুবলীগের নেতাকর্মীদের আটক, স্বেচ্ছাসেবক ও কৃষক লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে কাউন্সিল অধিবেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া, অনেকের নিজ ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা, বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞাসহ বিবিধ পদক্ষেপ আমাদের কাছে পরিশীলিত রাজনীতির লক্ষণ বলে মনে হয়। রাজনীতিবিদদের বাইরে প্রকৌশলীসহ ১৭ বড় সরকারি কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুদক। পত্রিকায় প্রকাশ, দুদকের জালে চার এমপিসহ ৮০ জন। সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। চলছে অনুসন্ধান কাজ। এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। যদিও রাজনীতি পরিশীলিত হওয়া আমাদের দেশে সুদূরপরাহত এবং কঠিন একটি কাজ। তবে এ কথা বলতে পারি রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, সংস্কার সাধন এবং বড় অর্থে শুদ্ধি ও পরিশীলিতকরণের উদ্যোগ অতীতে এমনভাবে কখনো নেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছে নভেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল অধিবেশনের দিকে, যার সমাপ্তি ঘটবে ডিসেম্বরে দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। আমাদের আশা আসন্ন অধিবেশনগুলো সৎ, দক্ষ, মেধাবী, সাহসী ও দুর্নীতির বাইরে থাকা নেতাদের বেছে নিতে সক্ষম হবে এবং তাঁদের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের রাজনীতি পরিশীলিত হওয়ার পথ সুগম হবে।

চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে রাজনীতি সততার জায়গা থেকে বেশ দূরে সরে এসেছে। একদিকে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, অন্যদিকে কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার না করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় যার ব্যাখ্যা এমনও হতে পারে শুধরানোর সুযোগ দেওয়া। যা-ই হোক না কেন অনিয়ম ও দুর্নীতির আকার বিবেচনায় চলমান অভিযান বেশি নয়। আমরা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মূল নেতৃত্বের মধ্যে গুটিকয়েককে আইনের আওতায় এনেছি এবং অন্যদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছি; কিন্তু ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এমন অসংখ্য নেতাকর্মী রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধেও বিস্তর অভিযোগ। তাদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা উচিত, তা না হলে চলমান অভিযান অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। অতীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন সাঁড়াশি অভিযান আমাদের চোখে পড়েনি। আশা করা যায় ধাপে ধাপে তৃণমূল পর্যায়েও অভিযান শুরু হবে।

আসন্ন কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আরো পরিশীলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এবং যে দলের নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে দেশটি স্বাধীন হয়েছে সেই আওয়ামী লীগের অসংখ্য নিবেদিত নেতাকর্মী রয়েছেন। তাঁদের খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব। দলের নেতৃত্বের জায়গায় তাঁদের আনতে পারলে প্রথম ধাপে নেতৃত্ব পরিশীলিত হবে।

দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। কেননা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম এবং একটি প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক  বাংলাদেশ বিনির্মাণে এর বিকল্প কোথায়। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন সঠিক ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব। বর্তমান নেতৃত্ব আমাদের নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আগামী চার বছর পর কিংবা আরো পরে আমরা

বাংলাদেশকে কোন জায়গায় দেখতে চাই তা নির্ভর করে আগামী দিনের নতুন নেতৃত্বের ওপর। আমরা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে আসবেন এবং রাজনীতি সঠিক পথে পরিচালনা করবেন। একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে এর বিকল্প নেই। আমাদের চাওয়া রাজনীতি পরিশীলিত হওয়া এবং এর মাধ্যমে আমাদের প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা। সবাইকে দুর্নীতির বাইরে রাখা। কেননা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল দেশ পরিচালনা করে। তাদের ওপরই নির্ভর করে দেশের ভালো-মন্দ।

 

লেখক : অধ্যাপক, সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা