kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অনলাইন থেকে

কাশ্মীরে আবার সংঘর্ষ, পরস্পরে দোষারোপ চলছে

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দিন কয়েক আগে কাশ্মীরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে পারস্পরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের পরস্পরবিরোধী খবরাখবরও পাওয়া গেছে। ভারতের সেনাবাহিনী বলেছে, আর্টিলারি হামলায় পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে ‘সন্ত্রাসীদের’ কমপক্ষে তিনটি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর প্রায় ২০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

এই হামলা পাকিস্তানি হামলার জবাব। প্রতিপক্ষের হামলার ফলে দুজন ভারতীয় সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। সাধারণত ভারতীয় সেনাবাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সীমান্তবর্তী সংঘর্ষের ক্ষেত্রে সাধারণ অস্ত্র ব্যবহার করে; এবার মাত্রা একটু বেড়েছে। এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘটেছে।

রবিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে সে অনুযায়ী ছয় থেকে ১০ জন পাকিস্তানি সেনা এবং প্রায় সমসংখ্যক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তিনটি সন্ত্রাসের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চতুর্থ আস্তানার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।’

ইসলামাবাদ অবশ্য এ বিবৃতি নাকচ করেছে। তারা ভারতীয় বাহিনীর মিথ্যাচারের প্রামাণিকতা দেখানোর জন্য হামলার স্থানগুলোতে বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা এবং পাঁচজনকে হত্যার অভিযোগ তুলেছে এবং ভারতের দূতকে ডেকে ‘বিনা উসকানিতে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন’ করার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তান এ কথাও বলেছে, তাদের পাল্টা হামলায় ৯ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ভারত পাকিস্তানের সব অভিযোগ নাকচ করেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি আসলে পাল্টা ব্যবস্থা। কারণ শনিবার সন্ধ্যায় বিনা উসকানিতে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছিল। তাতে দুই সেনা ও একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়।

শ্রীনগরে ভারতের প্রতিরক্ষা মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী বিনা উসকানিতে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে। সন্ত্রাসীদের ভারতে অনুপ্রবেশ করতে সহায়তা করাই এর উদ্দেশ্য ছিল। জবাবে ভারত পাল্টা হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের অবস্থান ও তাদের মদদদাতা পাকিস্তানি বাহিনীর পোস্ট হামলার লক্ষ্য ছিল। পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের তৎপরতায় মদদ দিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সূত্র বলেছে, সন্ত্রাসীদের যেসব আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলোর অবস্থান পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের নিলম উপত্যকায়।

সেনা সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, এ পাল্টা হামলাকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই। প্রসঙ্গত, ভারতীয় বাহিনীর দাবি অনুযায়ী ওই সময় পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ধ্বংস করেছিল তারা। তিনি বলেন, এ বছর বালাকোটে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় বিমান হামলার সঙ্গেও সাম্প্রতিক ঘটনাকে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই। এ হামলার তীব্রতা মাত্রাগতভাবে কম ছিল। পাল্টা হামলার মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কড়া বার্তা। পাকিস্তানি আর্টিলারি পজিশনে হামলা চালিয়ে তাদের বোঝানো হয়েছে যে তাদের গোপন পোস্টগুলো ভারতের কাছে আর গোপন নেই।

সেনাবাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দুই হাজার ৩১৭ বার অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। এ সময়ে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এবং অদূরবর্তী এলাকায় ১৪৭ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফয়সালের উদ্ধৃতি দিয়ে পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর তথাকথিত বিভিন্ন লঞ্চ প্যাড লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালিয়েছে বলে ভারতের গণমাধ্যমগুলো যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা পাকিস্তান স্বীকার করে না। তিনি বলেন, পাকিস্তান নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের (পারমানেন্ট ফাইভ-পি৫) বলেছে, তারা যেন টেরর লঞ্চ প্যাড বিষয়ে অভিযোগ সম্পর্কে ভারতকে তথ্য দিতে বলে। পাকিস্তান ওই সব অবস্থানে পি৫ কূটনীতিকদের পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে আগ্রহী।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর অভিযোগ করেছেন, ভারতের মিডিয়া সন্ত্রাসীদের আস্তানায় হামলার ব্যাপারে মিথ্যা প্রতিবেদন করছে। পাকিস্তান অবশ্য ভারতের হামলায় একজন সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। জুরা, শাহকোট ও নৌসেহরি সেক্টরে পাঁচজন বেসামরিক ব্যক্তির নিহত হওয়ার কথাও বলেছে। এ ছাড়া নারী ও শিশুসহ ছয়জনের মারাত্মক আহত হওয়ার কথা বলেছে। ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার গৌরব আহলুওয়ালিয়াকে তলব করে ভারতের গুলিবর্ষণের নিন্দা জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হায়েনার মতো বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালানো ভারতের স্বভাব। তারা ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মানবিক সংকট থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে চায়। ভারতীয় বাহিনী ২০১৭ সাল থেকে বেসামরিক এলাকায় আর্টিলারি ও মর্টার হামলা চালিয়েই যাচ্ছে; স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করছে। হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে। ২০১৭ সালে এক হাজার ৯৭০ বার অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে ভারত।

 

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ (ভারত) অনলাইন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা