kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রেক্সিট নিয়ে জনসনের গ্যাম্বলিং

টম কিবাসি

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উত্তর আয়ারল্যান্ড এখনো একটি সমস্যাসংকুল প্রসঙ্গ এবং বরিস জনসনের প্রস্তাব রাজনৈতিক স্ববিরোধে পূর্ণ। তিনি যা অঙ্গীকার করেছেন তাতে এমপিরা আস্থা রাখেন কি?

বরিস জনসন টেরেসা মের বেক্সিট চুক্তি সফলভাবে সংশোধন করেছেন এবং বিজয়ীর মনোভাব নিয়ে ঘুরছেন। কোনো মহিলার কাজের কৃতিত্ব কোনো পুরুষ দাবি করেছেন—এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কিন্তু জনসন সত্যিই বেক্সিট সংকটের সমাধান করতে পেরেছেন কি? নাকি এটা মিথ্যাচারের আরেক ফর্দ? পার্লামেন্টে তাঁর প্রস্তাব উতরে যেতে পারবে কি?

জনসনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার সব সম্ভাবনা কেন রয়েছে সে কথাই এখানে বলা হয়েছে। প্রথম দুর্বলতা উত্তর আয়ারল্যান্ড। আইরিশ রিপাবলিক ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে স্থিতিশীল রেগুলেশন ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটা দ্রুত ধসে পড়ছে। যুক্তরাজ্যের বাকি অংশ ভিন্ন রেগুলেটরি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে (যার প্রতিশ্রুতি বর্তমান রক্ষণশীল সরকার দিয়েছে) ওই রেগুলেশন ব্যবস্থার কী হবে? স্থল সীমান্ত যদি আমলে না নেওয়া হয় তাহলে একক বাজারের স্বার্থে আইরিশ সাগরে রেগুলেটরি চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা হবে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণের অনুকূলে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্পষ্টতই ডিইউপি বরিসের প্রস্তাবে সায় দেবে না। কেননা, তাতে ‘এক দেশ দুই ব্যবস্থা’ অনিবার্য হয়ে উঠবে।

আসল ভুলটা হলো, এই চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থে না দেখে চুক্তির শর্তেই দেখা। এ প্রশ্ন তোলাও গুরুত্বপূর্ণ যে এটা যৌক্তিক ও স্থায়ী হবে কি না? হবে না। জনসনের চুক্তি এ ধারণা থেকে করা হয়েছে যে ব্রিটেন দূরবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে নতুন চুক্তি করে অনেক কিছু পাবে। নিকট প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝামেলাহীন বাণিজ্য চুক্তি রক্ষা করার চেয়ে সেটা ভালো। অথচ সরকারের নিজের তথ্যই বলছে, হার্ড ব্রেক্সিট (কাস্টমস ইউনিয়ন ও একক বাজারের বাইরে থাকা) হলে প্রত্যেক পরিবারের আয় দুই হাজার পাউন্ডের বেশি কমে যাবে।

ব্রেক্সিটকে একটা প্রিজম ভাবা যেতে পারে, যার ভেতর দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত একটি যুক্তি প্রতিসরিত করা হয়েছে। এ কারণেই রাজনৈতিক ঘোষণায় প্রতিযোগিতার সমক্ষেত্রবিষয়ক অনুচ্ছেদগুলোর বিষয়ে যুক্তি এত পোক্ত। ইআরজি (ইউরোপিয়ান রিসার্চ গ্রুপ)-এর বিবেচনায় ব্রেক্সিটের কৌশলগত লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও উদীয়মান বাজারগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করার জন্য দেশের ভেতরে ডিরেগুলেশন করা। তাদের (ইআরজি ও সরকার) রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্রিটেনকে ইইউ থেকে বের করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করা।

অন্যদিকে লেবার এমপিদের কয়েকটি বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যেমন শ্রমিক অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষা। ব্রিটেনকে মিশ্র অর্থনীতির সোশ্যাল ডেমোক্রেসি হিসেবে টিকিয়ে রাখার জন্য এগুলো জরুরি। কিন্তু ভবিষ্যৎ বিষয়ক দুটি ভার্সন একসঙ্গে সত্য হতে পারে না। ব্রিটেন একই সঙ্গে সুইডেন ও সিঙ্গাপুর হতে পারে না; যুগপত্ভাবে মার্কিন রেগুলেটরি ব্যবস্থায় ও ইইউ ব্যবস্থায় থাকতে পারে না।

তাহলে জনসন কী করে এমন প্রস্তাব করলেন? চুক্তির ভাষ্যগুলোতে এবং রাজনৈতিক ঘোষণায় এর রহস্য লুকিয়ে আছে। যখন রাজনৈতিক ঘোষণা অভ্যন্তরীণ আইনে প্রযোজ্য হবে তখন এটা একটা উদ্দেশ্যের বয়ানমাত্র, এতে আন্তর্জাতিক চুক্তির অঙ্গীকারের ঘাটতি রয়েছে। অতঃপর জনসন ইআরজিকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন যে সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি রাজনৈতিক ঘোষণাকে পাশে ঠেলে দেবেন এবং ডিরেগুলেশনের দিকে পা বাড়াবেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ‘মিষ্টি’ বাণিজ্য চুক্তি করবেন। ইআরজিকে এমন বোঝানো হয়েছে যে জনসনের চুক্তি ভবিষ্যৎ বিষয়ক তাদের ধারণাকে পুষ্ট করবে। না হলে তারা এটাতে সমর্থন দেবে না।

লেবার এমপিদের খুব সতর্কভাবে চিন্তা করতে হবে এবং নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে জনসন তাঁদের কাছে এবং ব্রিটিশ জনগণের কাছে মিথ্যাচার করছেন কি না; অথবা ইআরজির কাছে মিথ্যাচার করছেন কি না। আর যাঁরা তাঁর চুক্তির পক্ষে ভোট দেন তাঁদের শুধু তিনি যা বলেছেন তাতে বিশ্বাস করলে হবে না, তাঁর বাসনার ওপর ও সেটা করার সামর্থ্যের ওপরও আস্থা রাখতে হবে। জনসন যদি সফল হন এবং শ্রমিক স্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলো অগ্রাহ্য করে ট্রাম্পের কাছে এনএইচএস (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস) বিকিয়ে দিতে অগ্রসর হন, তাহলে যেসব লেবার এমপি এমনটি ঘটতে দিচ্ছেন তাঁদের এ সময়ের বোকাদের তালিকার শীর্ষ স্তরে স্থান হবে। তাঁরা সবাই মিলে এমন এক চুক্তি করতে যাচ্ছেন, যার ফলে আমাদের অর্থনীতি দুর্বল হবে, আমাদের প্রভাব লোপ পাবে এবং দেশ বিভক্ত হবে।

 

লেখক : রাজনীতি ও অর্থনীতির গবেষক;

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান (ইউকে) অনলাইন

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা