kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের তালেবানপ্রীতি

অনলাইন থেকে

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থবির হয়ে যাওয়া আলোচনা ফের শুরু করতে ‘দোহা তালেবান পলিটিক্যাল কমিশনের’  (টিপিসি) একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফর করেছে। টিপিসির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের নেতৃত্বাধীন এই দলটি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি এবং ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। 

প্রবল ধারণা রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও এই দলটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গণমাধ্যমে এ ধরনের বৈঠকের খবরও ছাপা হয়। এই গুজবের কিছু ভিত্তি থাকাও অসম্ভব নয়। কারণ ইমরান নিজেই তালেবান খান নামে পরিচিত! যদিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এ ধরনের বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি।

পাকিস্তান দাবি করেছে, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইমরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদের সঙ্গে এ আলোচনা প্রসঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সে সময় তাঁরা এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখতে তালেবানের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে একমত হন। কাজেই পাকিস্তান এখন তাদের জন্য নির্ধারিত ভূমিকা পালন করছে। তবে ইসলামাবাদের যুক্তি হচ্ছে, তালেবানের সঙ্গে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠক আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতার আলোচনা ছিল না।

ইসলামাবাদে টিপিসি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত খলিলজাদের সঙ্গেও বৈঠক করে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এটিই ছিল দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। শোনা যায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তির খসড়াও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল শুধু স্বাক্ষর। খলিলজাদ ওই খসড়া নিয়ে কাবুলেও ছুটে যান। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকে খসড়ার অনুলিপি দেখিয়ে আসেন। তবে গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে চুক্তিটি ভেস্তে গেছে বলে ঘোষণা করেন। শুরুতে অবশ্য ক্যাম্প ডেভিডে তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা ছিল ট্রাম্পের।

ইসলামাবাদে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকের পর পাকিস্তান আলোচনা শুরুর ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। কারণ তাদের সেনারা এখনো কাবুলে রয়েছে। আলোচনা স্থবির হয়ে আছে এবং ফের শুরু হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত নয়।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের মৃত্যু এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কখনো আলোচনা স্থগিত করার চেষ্টা করেনি। খলিলজাদের সঙ্গে বৈঠক তালেবানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে না। তবে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তালেবানের আলোচনা অবশ্যই মধ্যস্থতা শুরুর একটি প্রক্রিয়া।

কাবুল হয়তো দেখবে সকালের শিশিরের মতোই আফগান সরকারের প্রতি তালেবানের বিদ্বেষ মিলিয়ে গেছে। আর এর জন্য তাদের খুব বেশি মূল্যও চুকাতে হচ্ছে না। এ ছাড়া আফগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও এখন শেষ। সরকার তালেবানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করার জন্য এখন আগের চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে। গতবারের আলোচনা থেকে আফগান সরকারকে দূরে রাখার জন্য কাবুলের মধ্যে খেদ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসন চাইবে এবার আফগানদের নেতৃত্বেই আলোচনা শুরু হোক।

পাকিস্তানে এবার তালেবান সদস্যদের যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় তা খুব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তালেবান সদস্যদের সঙ্গে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হাস্যোজ্জ্বল আলিঙ্গনের ছবি আফগানদের ক্ষুব্ধ করেছে। তালেবান সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য কাবুল ইসলামাবাদের তীব্র সমালোচনা করে।  

আফগান কর্মকর্তাদের পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ২০১৬ সালে তালেবান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্কের হাতে অপহৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক যুক্তরাষ্ট্রের কেভিন কিং ও অস্ট্রেলিয়ার টিমোথি উইকসের মুক্তির ব্যাপারে আলোচনার জন্য তারা মিলিত হয়েছে।   

গত মাসে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার আগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান জানায়, তারা চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি জায়গায় চলে গেছে। তবে মার্কিন ও আফগানিস্তানের কয়েকজন কর্মকর্তা আশঙ্কা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করায় সহিংসতার মাত্রা আরো বাড়তে পারে।

আফগানিস্তানে শান্তির ধুয়া তুলে পাকিস্তান আফগান সীমান্তে সেনা সমাবেশ করতে পারে। আর এই সেনা সমাবেশ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের সঙ্গে মধ্যস্থতার অসিলায় ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগও খুঁজতে পারে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের দ্বিচারিতার কথা সবাই জানে। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তালেবানের হয়ে পাকিস্তানের ১০ হাজার সেনা লড়াই করেছে। কিন্তু পুরো বিশ্বের সামনে পাকিস্তান দাবি করেছে যে তালেবান সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রয়েছে।

পাকিস্তানের আগুন নিয়ে খেলা চলছেই। তাদের অর্থনীতি এখন বিপর্যস্ত, প্রশাসনিক ব্যবস্থাও বিধ্বস্তপ্রায়। কখন এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের শিক্ষা হবে?

সূত্র : নয়াদিল্লি টাইমস

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা