kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বিপ্নের দিনবদলে শুদ্ধি অভিযান

বাপ্পু সিদ্দিকী

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বিপ্নের দিনবদলে শুদ্ধি অভিযান

একটা সময় ছিল ঘুমালেই দিনবদলের স্বপ্ন দেখতাম। মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের স্বপ্ন—নিজেকে উন্নত দেশের নাগরিক ভেবে সেই দেশের নাগরিকদের সঙ্গে তালে তাল মেলানোর স্বপ্ন। এখন আর এত বেশি স্বপ্ন দেখি না, আবার যা দেখি তা মনেও রাখতে পারি না বা চাই না। শান্তি-সম্প্রীতির স্বপ্নকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। নৃশংসতা, নির্মমতা, বর্বরতা এমন স্তরে উপনীত, যেখানে ছাত্ররা ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। এরাই নাকি আবার মেধাবী! ধিক শত ধিক তাদের মেধাকে। একের পর এক নৃশংসতায় প্রাণ হারাচ্ছে আবরার ফাহাদ, রাজীব, মীম, রূপা, তিষা, রাফি, দীপন, আবুবকর ও অভিজিত্রা। আবার কখনো সৌহার্দের স্বপ্নকে গ্রাস করছে ধর্মান্ধ জঙ্গিবাদীরা। আবার কখনো স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে যাচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি আর আমাদের অসংগতিতে।

চলমান শুদ্ধি অভিযানে দিন দিন প্রতিভাত হয়ে উঠছে কিভাবে আমজনতার স্বপ্ন ভঙ্গ করে সম্পদের পাহাড় তুলছে মদ, জুয়া আর ক্যাসিনো ব্যবসায়ীরা। প্রতিক্রিয়াশীল মুনাফালোভী দুর্নীতিবাজরা যখন সব বাধা অতিক্রম করে নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যেতে চায়, তখনই রাষ্ট্র তার স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়ে ফেলে। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দেশে কোনো প্রবল ক্ষমতাধর সামন্ততান্ত্রিক শ্রেণি বা কায়েমি স্বার্থভোগী বুর্জোয়া শ্রেণি নেই—তবু কেন বারবার আমাদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে?

২০০৮ সাল থেকে ক্ষমতাসীন বঙ্গবন্ধুতনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বাধীনে আওয়ামী লীগ সরকার। নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ২০০৮ সাল থেকে অদ্যাবধি ক্ষমতা ধরে রেখেছেন, যা তৃতীয় বিশ্বে এক অনন্য ঘটনা। অদম্য মনোবল নিয়ে বাংলার গণমানুষের মুক্তির জন্য দিনবদলের সংগ্রামে কোনো ছাড় দেবেন না বলেই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি চান সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের ভাগ্যোন্নয়নে সহযোদ্ধা হয়ে লড়াই করে যেতে। সুদীর্ঘকাল সামরিকজান্তা ও তাদের দোসররা যে হিংস্র জঙ্গি সমাজব্যবস্থা চালু করেছিল, সেই সমাজব্যবস্থাকে সমূলে ধ্বংস করে দিনবদলের মধ্য দিয়ে এক নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে গণমানুষের নেতা শেখ হাসিনা। শুভ যাত্রাপথে অবশ্যই তাঁকে সব কণ্টক ও আগাছা উপড়ে ফেলতে হবে। যে দেশের মানুষ একদা ছিল নিরন্ন, বুভুক্ষু, আজ সেই দেশ তারই অক্লান্ত প্রচেষ্টায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার দ্বার অবারিত করতে প্রত্যেক মানুষ বিদ্যা-বুদ্ধি, সততা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করে যাবে—এটাই তাঁর আশা। এ দেশে কেউ বেকার ও নিরক্ষর থাকবে না। বিনা চিকিৎসায় প্রাণ যাবে না কোনো নাগরিকের। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ সুদূরপ্রসারী ও সম্ভাবনাপূর্ণ, তখন কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত তাঁর যাত্রা পথকে কলঙ্কিত করতে পারে না।

দীর্ঘ সময় ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদনের লক্ষ্যে জননেত্রীর দলে যেমন হাইব্রিড ও নব্য সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগার ঢুকে পড়ছে, তেমনি কিছু সুযোগসন্ধানী আওয়ামী লীগার নিজেদের আখের গোছাতে বেপরোয়া হয়ে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর দিনবদলের স্বপ্নকে শুধু বাধাগ্রস্তই করছে না, অনেকটা হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা সাধারণ আওয়ামী লীগাররা যখন ব্যস্ত দিনবদলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, ঠিক তখনই নষ্ট-ভ্রষ্ট চরিত্রের হাইব্রিডরা ব্যস্ত নিয়োগ বাণিজ্য, ক্যাসিনো বাণিজ্য, মাদক বাণিজ্যসহ নানা অনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে রাতারাতি বিত্তবৈভবের মালিক হতে। নীতি বা আদর্শের সঙ্গে নয়, যাদের সম্পর্ক টাকার সঙ্গে, তারা রাজনীতিকে বাণিজ্যিকীকরণ করে সমাজের প্রতিটি স্তরের আইনের বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সুশাসনের সুবাতাসকে থামিয়ে দিতে চাইবে। আজ কারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতায় সমাজে প্রভাব বিস্তার করে দম্ভোক্তি করছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় যারা ২১ বছরে কোনো দিন ‘জয় বাংলা’ বলতে পারেনি, আজ তাদের ‘জয় বাংলা’ বলার কোনো অধিকার নেই।

বারবার আমরা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনৈতিক অপশক্তির ক্রীড়নকে পরিণত হতে পারি না। মেনে নিতে পারি না আবরার ফাহাদসহ রাজীব, মীম, রূপা, তিষা, রাফি, দীপন, আবুবকর ও অভিজিেদর হত্যাকাণ্ড। দারিদ্র্যের অভিশাপ, দর্বৃত্তায়নের কলঙ্ক ও দুর্নীতির আবর্জনা মুক্ত হয়ে যদি বাংলার আকাশ-বাতাস হয় নির্মল, সাগর গিরি ও নদী বহে নিরবধি, দুঃখী মেহনতি জনতা কষ্ট ভুলে হয় হাস্যোজ্জ্বল, তবেই সার্থকতা পাবে মানবিকতায় সমুজ্জ্বল জননেত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান।

লেখক : সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা