kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

মনের কোণে হীরে-মুক্তো

নির্ধারিত সময়ে নির্বাহীদের নিজ কক্ষে অবস্থান করার আবশ্যকতা

ড. সা’দত হুসাইন

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



নির্ধারিত সময়ে নির্বাহীদের নিজ কক্ষে অবস্থান করার আবশ্যকতা

পত্রিকান্তরে দেখলাম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ অফিসকক্ষে অবস্থানসংক্রান্ত আমার জারি করা একটি সার্কুলার সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পুনরুজ্জীবিত করে নতুনভাবে জারি করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ধন্যবাদ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আরো সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য এ কারণে যে সার্কুলারটি রচনার কৃতিত্ব তারা দাবি করেনি। সচিব অকপটে বলেছেন যে এ ধরনের সার্কুলার আগেই জারি করা হয়েছিল। গুরুত্ব অনুধাবন করে তাঁরা এটি পুনর্ব্যক্ত করেছেন মাত্র।

চাকরিজীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে আমার প্রতীতি জন্মেছে যে সরকারি, আধাসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায়ই নিজের অফিসকক্ষে বা ‘ওয়ার্ক স্টেশনে’ অবস্থান করেন না। তাঁরা বিভিন্ন অজুহাতে অন্য জায়গায় অবস্থান করেন। খবর নিলে জানা যায়, তাঁদের অবস্থান কখনো ব্যাংকে, কখনো হাসপাতালে, কখনো সেমিনার-ওয়ার্কশপে, আবার কখনো মন্ত্রী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অফিসে। অনেক সময় নিজের কক্ষে অবস্থান করা সত্ত্বেও সহকারীর মাধ্যমে তাঁরা জানিয়ে দেন যে অফিসকক্ষে তাঁরা নেই। যোগাযোগ প্রার্থী বা দর্শনার্থী তাঁদের না পেয়ে হতাশ হন। তাঁদের কাজকর্ম সব আটকে থাকে। উদ্দিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা হলে হয়তো পাঁচ মিনিটের মধ্যে তাঁরা কর্মসম্পাদন করতে পারতেন। নিজের অথবা সংগঠনের কর্মসূচিতে গতি আসত। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসূত্রের অভাবে সেটি হয়ে উঠছে না।

সারা দেশের হাজার হাজার সরকারি, আধাসরকারি অফিস, সংগঠনে (অধস্তন অফিসসহ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘ওয়ার্ক স্টেশন’ (কর্মের অকুস্থল) তথা অফিসে অবস্থান না করার কারণে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে কাজের গতি মারাত্মক শ্লথ হয়ে পড়ে। যে কাজ এক দিনে সম্পন্ন হতে পারত, সে কাজ এক সপ্তাহ পড়ে থাকে। এমন ঘটনাও ঘটে যে দিনের পর দিন একজন কর্মকর্তাকে তাঁর অফিসকক্ষে পাওয়া যায় না বা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। যোগাযোগপ্রত্যাশীকে এড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তিনি সহকারীদের নির্দেশ দেন যে তাঁরা যেন তোতা পাখির মতো উচ্চারণ করে যান, ‘স্যার রুমে নাই।’ একবার কোনো এক সিনিয়র অফিসারের পিএর মুখে বারবার এ কথা শুনে আমার খুব বিরক্তি ও জেদ হলো। আমি অফিস থেকে নেমে গাড়ি নিয়ে সোজা ওই অফিসার, যিনি আমার খুব পরিচিত তাঁর অফিসকক্ষে গিয়ে হাজির হলাম। অফিসার তাঁর সিটে বসা। পুরো ঘটনা বলার পর তিনি পিএকে ডেকে মেকি-স্বরে ধমকালেন আর আমাকে বললেন, ‘পিএরা নিজেদের খুশিমতো এমন উত্তর দিয়ে থাকে।’ আসলে কথাটা ঠিক নয়। তিনিই পিএকে এমন মিথ্যাচারে উৎসাহিত করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে একটি মজার গল্প মনে পড়ছে। এক পদস্থ কর্মকর্তার কক্ষে তাঁর বন্ধু হাজির হয়ে বললেন, “আমি অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে এসেছি। আমার সঙ্গে হাসপাতালে চল, তোর এখানে বসে থাকা ঠিক হবে না। শরীরের অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে। কর্মকর্তা হতচকিত হয়ে বললেন, ‘আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি তো ভালো আছি। আমার কোনো অসুখ হয়নি। আমি হাসপাতালেই বা যাব কেন?’ বন্ধু তখন বললেন, ‘সকাল থেকে আমি যতবার তোকে ফোন করেছি, তোর পিএ ততবার বলেছে, সাহেব বাথরুমে গিয়েছেন, আপনি পরে ফোন করুন।’ তাই আমি ভেবেছি, তোর বোধ হয় কঠিন ডায়রিয়া হয়েছে। সে জন্য বারবার তোকে বাথরুমে যেতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় বন্ধু হিসেবে তোকে কোনো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আমার কর্তব্য। সে জন্য অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে এসেছি।” পদস্থ কর্মকর্তা বুঝলেন, তাঁর মিথ্যাচার এ ধরনের বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে। তিনি আর কথা বাড়ালেন না। অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলেন।

ব্যক্তিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে কর্মসম্পাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপধায়ক। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত দৃষ্টি আকর্ষণ না করা গেলে কাজ এগোয় না। দিনের পর দিন তা পড়ে থাকে। এখানে কাজ শুরু করার জন্য ওপর থেকে বলে দিতে হয়। কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রায়শই তাগাদা দিতে হয়, উপদেশ-নির্দেশনা দিতে হয়। সর্বোপরি চূড়ান্ত পর্যায়ে কর্মসম্পাদনের জন্য তাঁকে সিদ্ধান্ত দিতে হয়। কাজ পুরোপুরি সম্পাদন না হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যাখ্যা-বক্তব্য আবেদনকারী বা সিদ্ধান্তপ্রত্যাশী ব্যক্তিকে অন্ততপক্ষে আশ্বস্ত করতে পারে। তিনি হতাশ বা বিক্ষুব্ধ না হয়ে সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি যান। প্রশাসনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন থাকে।

নির্দিষ্ট সময়ের পুরো অংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ অফিসকক্ষে অবস্থানের একটি বড় সুফল হলো, একজন যোগাযোগপ্রত্যাশী আজ বিকেলে উদ্দিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলেও নিশ্চিন্ত হতে পারেন যে আগামীকাল নির্দিষ্ট সময়ে, ধরুন ৯টা থেকে ৯টা ৪০-এর মধ্যে তাঁকে নিজ কক্ষে পাওয়া যাবে। তখন কোনো অজুহাতে তিনি নিজেকে আড়াল করতে পারবেন না। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা না হলে দিনের পর দিন ‘সাহেব রুমে নাই’—এ অজুহাতে যোগাযোগপ্রত্যাশী ব্যক্তিকে কর্মকর্তা এড়িয়ে বেড়াতে সক্ষম হতেন। এখন সে সুযোগ থাকছে না। সেবার গ্রাহক আর সেবকের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে। বেতনদাতা এবং বেতনভুক কর্মকর্তা যথাস্থানে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। জনপ্রশাসনের মূলভাব অটুট থাকছে।

অফিসে অবস্থান করার পদ্ধতি প্রচলন করতে গিয়ে আমাকে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন, যাঁরা অফিসকে ক্লাব হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁদের ইচ্ছা হলে অফিসে আসেন, কয়েক ঘণ্টা অফিসে কাটিয়ে আবার একটা অজুহাত খাড়া করে নিজের খুশিমতো বাড়ি চলে যান। অফিসে পরিচিত লোকজনের সঙ্গে দেখা হয়, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা হয়, এর ফাঁকে নথিপত্রে যৎসামান্য কাজ হয়। এতে নিজের মনে পরিতৃপ্তি মেলে যে অফিসে যথেষ্ট কাজ হয়েছে। বাকি কাজ কাল করা যাবে। এই গোত্রীয় কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সময় ধরে অফিসকক্ষে অবস্থান করতে চান না। তাঁদের জন্য দুটি অসুবিধা। প্রথমত, তাঁদের ৯টায় অফিসে আসতে হয়, কারণ ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসকক্ষে অবস্থান করা বাধ্যতামূলক। দ্বিতীয়ত, অফিসে ঢুকে কয়েক মিনিটের মধ্যে নিজের কাজে বা স্রেফ আড্ডা দেওয়ার জন্য বন্ধুবান্ধবের অফিসে যাওয়ার অবকাশ না থাকা। এ পদ্ধতিটি তারা মেনে নিতে পারছিলেন না। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ছাড়তে তাঁরা নারাজ। সাধারণ মানুষকে এত গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাঁদের কাছে পছন্দনীয় ছিল না।

কোনো মন্ত্রী বা রাজনীতিবিদ এ পদ্ধতির বিরোধিতা করেননি। মন্ত্রীদের আমি অনুরোধ করেছিলাম, তাঁরা যেন ৯টা ৪০ মিনিটের আগে কর্মকর্তাদের তাঁদের অফিসে না ডাকেন। তাঁরা বিনা বাক্য ব্যয়ে এ প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন। এর একটা বড় কারণ ছিল, বেশির ভাগ মন্ত্রী ৯টা ৪০ মিনিটের আগে অফিসে আসতেন না। দু-একজন সোয়া ৯টা-সাড়ে ৯টার মধ্যে অফিসে এলেও প্রাথমিক গোছগাছ করে কাজ শুরু করতে ৯টা ৪০ মিনিট পেরিয়ে যেত। সুতরাং তাঁদের জন্য ৯টা ৪০ মিনিটের শর্ত ছিল Non-binding constraint। যেসব কর্মকর্তা এ নিয়ম মানতে চাইতেন না, তাঁরা দুটি কৌশলে একে অকার্যকর করতে প্রয়াস পেতেন। প্রথমত, তাঁরা আদেশটিকে অবজ্ঞা করে একে গুরুত্বহীন করতে চাইতেন, সহকর্মীদের কাছে একে হাস্যাস্পদ করে তুলতে চাইতেন। দ্বিতীয়ত, ছোট ছোট ব্যত্যয় ও বিকৃতির মাধ্যমে আদেশটিকে অবদমিত করে তুলতেন। আমার মনে আছে, এক জেলা প্রশাসক নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে আসতেন। জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন যে জেলা প্রশাসকের বাসায় তাঁর কনফিডেনশিয়াল শাখা রয়েছে। তিনি সকালে বাসার সেই অফিসে অবস্থান করেন। তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হলো, এ আদেশের মূল উদ্দেশ্য হলো, যোগাযোগপ্রত্যাশীদের জন্য তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা। সুতরাং নির্দিষ্ট সময়ে—অর্থাৎ ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট সময়ে তাঁকে জেলা প্রশাসকের ‘পাবলিক অফিসে’ অবস্থান করতে হবে। এর অন্যথা হওয়ার উপায় নেই। এর পর থেকে জেলা প্রশাসক নির্ধারিত সময়ে তাঁর পাবলিক অফিসে অবস্থান করেছেন।

ধীরে ধীরে নতুন নিয়ম স্থায়িত্ব লাভ করেছিল। তবে এর জন্য সদা সপ্রতিভ থাকার আবশ্যকতা ছিল। বিচ্যুতি-বিকৃতির খবর পাওয়া মাত্র তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হতো। আগেই বলেছি, যাঁরা ফাঁকিবাজ, অফিসকে ক্লাব হিসেবে বিবেচনা করেন, তাঁরা সুযোগ পেলে ফাঁকফোকর বের করে নিয়মের বাইরে যেতে চেষ্টা করেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সতর্ক দৃষ্টি না থাকলে তাঁরা জনস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নিয়ম ভেঙে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী চলতে পছন্দ করেন।

প্রতিটি সংগঠন চালিয়ে নেওয়ার জন্য, এর উদ্দেশ্য সাধনের জন্য, কিছুসংখ্যক কাজের লোক (নির্বাহী ও সহকারী) নিয়োগ করা হয়। প্রায়ই দেখা যায়, তাঁদের স্বার্থ এবং সংগঠনের স্বার্থ এক রেখায় অবস্থান করে না। কাজের লোক নিজের সুবিধা এবং পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেয়। কোনো চাপ বা বাধ্যবাধকতা না থাকলে মালিক, প্রধান নির্বাহী কিংবা ঊর্ধ্বতন নির্বাহীর আদেশ পুরোপুরি আমলে নিয়ে তাঁরা সুচারুরূপে দায়িত্ব সম্পাদন করেন না। হয় শ্লথগতিতে তাঁর সুবিধামতো কাজ করেন অথবা মূল আদেশ বিকৃত করে কাজ সম্পন্ন করেন। কর্তৃপক্ষের আদেশ প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করার ক্ষেত্রে কাজের লোককে অবাধ্যতা

(Insubordination) বা আনুগত্যহীনতার অপরাধে সরাসরি শাস্তি দেওয়া যায়। কিন্তু আদেশটি বিলম্বে প্রতিপালন করা কিংবা কিছুটা বিকৃত করে পালন করার জন্য তাঁকে সরাসরি শাস্তি দেওয়া যায় না। তাঁর কর্মধারার পক্ষে কাজের লোক নানা অজুহাত দাঁড় করায়, যার সত্যাসত্য খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হয়। তদন্ত কর্মকর্তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর তদন্তের ফলাফল ও সুপারিশ অনেকাংশে নির্ভর করে। অভিযুক্ত কাজের লোককে শাস্তি প্রদান করা কিছুটা হলেও নির্দেশ প্রদানকারীর হাতের বাইরে চলে যায়। পদ্ধতিগত ভিন্নতার কারণে বেসরকারি সংস্থায় তুলনামূলকভাবে তাড়াতাড়ি শাস্তি দেওয়া সম্ভব, সরকারি সংস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান দুরূহ ব্যাপার। সরকারি আদেশ অবিকৃত অবস্থায় দ্রুততার সঙ্গে প্রায়ই প্রতিপালিত হয় না। এ নিয়ে হৈচৈ হয়। কিন্তু চূড়ান্ত শাস্তি প্রদান করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

নতুন পদ্ধতি সফলভাবে প্রচলন করা এবং একে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য নিরন্তর তদারকি ও মনিটরিংয়ের প্রয়োজন হয়। মহীয়ান ব্যক্তির আপ্তবাক্য, ‘Eternal vigilance in the prince of liberation’-কে শাশ্বত আলোকবর্তিকা হিসেবে ধরে নিয়ে নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নের কাজে এগিয়ে যেতে হবে। কর্মসূচি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্লান্তি বা শৈথিল্যের ফুরসত নেই। বিকৃতি ইঞ্চি ইঞ্চি করে ভেতরে ঢুকতে থাকে। একবার সামান্য প্রশ্রয় পেলে সে বিরাট ফোকর বানিয়ে পুরো পদ্ধতিকে খোলসে রূপান্তরিত করে। নতুন পদ্ধতিতে কেউ যেন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিকৃতি আনতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিরন্তর নিশ্ছিদ্র সতর্কতা জারি রাখার সবিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।

নবপ্রবর্তিত পদ্ধতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন সুঠাম ভিত্তির ওপর তত্ত্বাবধান, মনিটরিং এবং সুরক্ষাকাঠামো বিনির্মাণ, যাতে আদি প্রবর্তক অন্য জায়গায় চলে গেলেও তাঁর উত্তরসূরিরা উৎসাহ-উদ্দীপনা, দক্ষতা ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে পদ্ধতিটি ধরে রাখতে পারেন। আরো কার্যকর ও অর্থবহ হবে, এ পদ্ধতির সমর্থনে এমন একটি প্রণোদনাকাঠামো (Incentive Structure) তৈরি করা, যাতে কাজের লোক (নির্বাহী-সহকারীরা) এ পদ্ধতিতে কাজ করতে নিরন্তর উৎসাহী থাকে। X-efficiency-তত্ত্ব ব্যবহার করে তেমন কোনো কাঠামো নির্মিত হলে পদ্ধতিটি অবিকৃত অবস্থায় টিকে থাকার সুবর্ণ সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। সুঠাম কাঠামোয় সুরক্ষিত হলে ভালো পদ্ধতি উপকারভোগীদের সমর্থন সুরক্ষণে শেষ অবধি টিকে যাবে।

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব

ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা