kalerkantho

বাংলাদেশ : রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে

আবুল কাসেম ফজলুল হক

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বাংলাদেশ : রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে

ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে যেসব কথা ক্রমাগত প্রচার করা হচ্ছে, তাতে আমাদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মূল চেতনা তলিয়ে যাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রভাষারূপে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হচ্ছে এবং আমাদের জাতি ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মূল চেতনা ও উদ্দেশ্য থেকে ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। বিলীয়মান মাতৃভাষাগুলোর উন্নতির জন্য রাষ্ট্রভাষা বাংলার উন্নতিকে স্থগিত রাখা ঠিক হবে না। উন্নত নতুন ভবিষ্যৎ সৃষ্টিতে আমাদের এগোতে হবে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের স্পিরিট অবলম্বন করে। এতে আজ আমাদের কর্তব্য রাষ্ট্রভাষারূপে বাংলা ভাষাকে এবং রাষ্ট্ররূপে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। একুশে ফেব্রুয়ারিকে উদ্যাপন করতে হবে ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ রূপে এবং তার মাধ্যমে জনজীবনে জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের এবং রাষ্ট্রভাষারূপে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করার নবচেতনা সৃষ্টি করতে হবে।

দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয় এমন মাত্র ২০০ ভাষা দুনিয়ায় আছে। এসব ভাষা বিকাশমান। এগুলোর মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্যের দিক দিয়ে বাংলা ভাষার স্থান এখনো ওপরের দিকেই আছে। এগুলো ছাড়া বিভিন্ন মহাদেশে কয়েক হাজার ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী আছে, তাদেরও আলাদ ভাষা আছে, তাদের ভাষা বিলীয়মান।

বাংলাদেশে ৪৫টি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ৪৫টি বিলীয়মান মাতৃভাষা আছে। এই ৪৫টি জনগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের সামান্য বেশি। তারা জন্মের পর থেকেই নিজেদের ভাষার মতোই বাংলা ভাষাও শেখে। তাদের বলা যায় দ্বিভাষিক। বাংলা ভাষাকেই তারা তাদের উন্নতির অবলম্বন মনে করে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের এবং বাংলাদেশেরও বিলীয়মান মাতৃভাষাগুলোকে রক্ষা করার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়। এ ক্ষেত্রে ইউনেসকোর প্রচার ও কাজ বাস্তবতাবিরোধী। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী জীবনযাত্রার ও উন্নতির প্রয়োজনে নিজেদের মাতৃভাষার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলা শিখছে। এর মধ্যে রয়েছে তাদের উন্নতির সম্ভাবনা। বিভিন্ন রাষ্ট্রে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোর উন্নতির ও মানবজাতির মূলধারায় আসার সুযোগ সর্বত্র বাড়াতে হবে। তাদের চিরকাল আদিবাসী করে রাখার নীতি বর্জনীয়। আদিবাসীদের মধ্যেও মানবজাতির মূলধারায় আসার আগ্রহ দরকার। বৃহৎ জাতিগুলোকে ক্ষুদ্র জাতিগুলোর উন্নতির প্রতি যত্নবান হতে হবে।

আমাদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মূল চেতনা ও উদ্দেশ্য থেকে ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। এর দ্বারা রাষ্ট্রভাষারূপে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হচ্ছে এবং রাষ্ট্ররূপে বাংলাদেশের গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও নষ্ট হচ্ছে।

সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন, এনজিও ও ইউনেসকো ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোর উন্নয়নের জন্য যে পথ প্রদর্শন করে, যেসব পরিকল্পনা ও কার্যক্রম চালায়, অনেক সময় সেগুলো ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোর উন্নতির অন্তরায় হয়। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোর নিজেদের উন্নতির জন্য পার্শ্ববর্তী বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে রাষ্ট্র গঠন করতে হয় এবং রাষ্ট্রভাষা শিখতে হয়। তারা যদি বাইরে থেকে কিছুই গ্রহণ না করে এবং শুধু নিজেদের বিলীয়মান মাতৃভাষা ও নিজেদের অভ্যস্ত জীবনযাত্রা নিয়ে থাকে, তাহলে তারা কোনোকালেই উন্নতি করতে পারবে না। যেকোনো জনগোষ্ঠীর জন্যই না নিয়ে, না দিয়ে নিজেদেরকে নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে রাখার ফল খারাপ হয়। আত্মবিকাশের ও উন্নতির জন্য ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোকে বাইরে থেকে ভালো জিনিস গ্রহণ করতে হবে। নিজেদের উন্নতির প্রয়োজনে রাষ্ট্রভাষাকে নিজেদের মাতৃভাষার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তাদের জীবনব্যাপী আয়ত্ত করা ও বিকশিত করে চলা সমীচীন। এভাবে চললে দু-তিন জেনারেশনের মধ্যে তাদের অনেক উন্নতি হবে। সরকারের কর্মনীতিও সেভাবে তৈরি করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রভাষা দ্বারা শুধু অফিসের ভাষা  (Official Language) বোঝায় না, বোঝায় তার সঙ্গে আরো অনেক কিছু। রাষ্ট্রভাষার মধ্যে অফিস চালানোর ভাষা আছে, সেই সঙ্গে আছে জাতীয় জীবনে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টির ভাষা—আছে কোনো জাতির আর্থ-সামাজিক, রাষ্ট্রিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভাষা। রাষ্ট্রভাষার উন্নতি হলে রাষ্ট্রের অন্তর্গত জাতির সভ্যতাও উন্নত হয়।

কোনো ভাষার অর্থনৈতিক ভিত্তি বিকাশশীল থাকলে সে ভাষা বিকাশশীল থাকে। কোনো ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীই তার বিলীয়মান মাতৃভাষা নিয়ে জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারে না। সাম্রাজ্যবাদীরা সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে বিলীয়মান মাতৃভাষাগুলোকে রক্ষা করার প্রচার চালিয়ে বাংলা ভাষার আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে তারা জাতীয় সংহতি গড়ে উঠতে দিচ্ছে না।

উপনিবেশবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীরা দুর্বল রাষ্ট্রগুলোতে জাতীয়তাবাদের ঘোর বিরোধী। দুর্বল রাষ্ট্রগুলো শক্তিশালী হোক, এটি তারা চায় না। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স প্রভৃতি রাষ্ট্র এখন তাদের দেশে তাদের সাম্রাজ্যবাদী নীতির পাশাপাশি নিজেদের স্বার্থে কিছু নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। তারা তাদের দেশে অশ্বেতাঙ্গদের আর নাগরিকত্ব দিচ্ছে না। অশ্বেতাঙ্গ যারা নাগরিকত্ব নিয়ে আছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নতুন বিধি-বিধান জারি করছে। তাদের রাষ্ট্র শুধু শ্বেতাঙ্গদের—এই ঘোষণা দিয়ে তারা বর্ণবৈষম্য নীতি অবলম্বন করছে। এ অবস্থায় দুর্বল জাতিগুলোর উচিত নিজেদের জন্য স্বতন্ত্র জাতীয়তাবাদ অবলম্বন করে নিজেদের রাষ্ট্র গঠন করা এবং শক্তিশালী করা। বাংলাদেশে এখন জাতীয়তাবাদী চেতনা খুঁজে পাওয়া যায় না—রাষ্ট্র চেতনাও খুঁজে পাওয়া যায় না।

আমাদের উপলব্ধি করা দরকার যে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও উন্নতির জন্য রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার অস্তিত্ব ও উন্নতি অপরিহার্য। চলমান বহু ঘটনা আছে, যেগুলো দেখে বলা যায়, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা না টিকলে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ টিকবে না।

দেশ থাকবে; মাটি, মানুষ, গাছপালা, পশুপাখি, নদীনালা ও আকাশ-বাতাস থাকবে; কিন্তু রাষ্ট্র থাকবে না। যারা বাংলাদেশে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার বদলে ইংরেজি চায় তারা রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে রক্ষা করবে? ‘দেশ’ এবং ‘রাষ্ট্র’ এক নয়। দেশ প্রকৃতির সৃষ্টি, রাষ্ট্র মানুষের। আমাদের রাষ্ট্র না থাকলে, শুধু দেশ থাকলে আমরা কি ভালো থাকব? নিজেদের রাষ্ট্র না থাকলে আমরা কি স্বাধীন থাকব?

ভৌগোলিক বাস্তবতা, ভূ-রাজনৈতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং বাঙালি চরিত্র লক্ষ করে ১৯৭৩ সাল থেকেই কোনো কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তি বলে আসছেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার মতো  (Viable) নয়। তাঁরা জোর দিয়েছেন বাঙালি চরিত্রের নিকৃষ্টতায়। তাঁদের যুক্তি ও মত আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তাঁরা অনেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং প্রায় সবাই তাঁদের সন্তানদের ওই সব রাষ্ট্রে নাগরিক করেছেন।

আমি সব সময় মনে করেছি এবং এখনো মনে করি, বাঙালি চরিত্রের উন্নতি সম্ভব। আমি সব সময় মনে করেছি এবং এখনো মনে করি, বাংলাদেশকে বাংলাদেশের জনগণের প্রগতিশীল রাষ্ট্ররূপে গড়ে তোলা যাবে। সে লক্ষ্যেই আমাদের চিন্তা ও কাজ। জাতীয় হীনতাবোধ বাংলাদেশের ধনী-গরিব, শিক্ষিত-শিক্ষাবঞ্চিত, ক্ষমতাবান-ক্ষমতাবঞ্চিত সব মানুষকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। জনসাধারণ ঘুমন্ত। ঘুমন্ত জনসাধারণকে জাগাতে হবে। জাতীয় হীনতাবোধ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। অবস্থার উন্নতির জন্য যা কিছু করা দরকার, সবই আমাদের করতে হবে।

সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলোর বিশিষ্ট নাগরিকরা নিঃরাজনীতিকরণের  (Depoliticization) ও নিঃরাষ্ট্রকরণের  (Anarchism) কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক দলগুলো জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতে সেই ধারায় চলছে। ব্যতিক্রম দুর্লভ। প্রধান দুই দল জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের কথা না ভেবে, দেশের জনগণের ওপর আস্থা না রেখে, রাজনীতিকে করে তুলেছে বৃহৎ শক্তিবর্গের স্থানীয় দূতাবাস অভিমুখী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দিষ্ট ডেস্ক অভিমুখী। বাংলাদেশের সব প্রচারমাধ্যম ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে বিবিসি রেডিওর অন্ধ অনুসারী হয়ে কাজ করেছে। বিরোধী দলগুলোও তা-ই করেছে। নিজেদের ওপর আস্থা হারিয়ে, দেশের জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বিদেশি সহায়তায় অরাজনৈতিক, নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, ৯০ দিন মেয়াদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কোনো কোনো দলের কিছু নেতা নিউ ইয়র্কে গিয়ে তদবির করেন। সাম্রাজ্যবাদী অর্থ সংস্থাগুলো ‘দাতা সংস্থা’ ও ‘উন্নয়ন সহযোগী’ নাম নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে যুক্ত হয়। উচ্চ ও মধ্য শ্রেণির লোকজন—সরকারি ও সরকারবিরোধী উভয় মহল তাদের ছেলে-মেয়েদের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রের নাগরিক করে চলেছে। মন্ত্রিপরিষদ, জাতীয় সংসদ, প্রশাসনব্যবস্থার উচ্চপর্যায়, বিচারব্যবস্থার উচ্চপর্যায়, শিক্ষাব্যবস্থার উচ্চপর্যায়ে লক্ষ করলেই এটি বোঝা যায়। এই ব্যক্তিরাই বাংলাদেশে রাষ্ট্রব্যবস্থার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্তৃত্বে আছেন। বাংলাদেশে একদিকে আছে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ব্রিটিশ কাউন্সিল ও কেমব্র্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত ও-লেভেল, এ-লেভেল এবং অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার প্রবর্তিত ইংলিশ ভার্সন। এসব বাংলাদেশের ভূভাগে জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। জনজীবনের অবস্থা ভালো নয়। ধর্ষণ, দুর্নীতি, সড়ক দুর্ঘটনা, জুলুম-জবরদস্তি, খুনখারাবি জাতীয় জীবনে বড় রকমের খারাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা কোথায়?

হতাশা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমার লেখা নয়। আমি চাই দেশবাসীর মধ্যে গভীর সংকটের ও মহান সম্ভাবনার উপলব্ধি। সংকট আমরা জীবন দিয়ে প্রতিদিন উপলব্ধি করছি। জাতীয় হীনতাবোধ ও নৈরাজ্যবাদ আমাদের গ্রাস করেছে। সম্ভাবনার দিক সন্ধান করতে হবে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ও শ্রমশক্তির কল্যাণে এবং আন্তর্জাতিক কিছু সযোগ-সুবিধার কারণে এমন এক অবস্থা আজ বাংলাদেশে এবং গোটা পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়েছে যে আইন-কানুন ও বিধি-বিধান উন্নত করে প্রত্যেক মানুষ আজ খেয়ে-পরে সচ্ছল, সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টিতেও অগ্রগতির অন্তহীন সম্ভাবনা আছে। আমাদের ঔদাসীন্যের ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাংলাদেশে আমরা দুঃখজনক বাস্তবতায় আছি। এই অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। উন্নতির দিকে আমাদের এগোতে হবে।

রাজনীতিকে উন্নতিশীল করতে হবে। বৌদ্ধিক চরিত্রের (Intellectual character) অনুশীলনকে মর্যাদা দিতে হবে। উন্নত চরিত্রের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে হবে। তার জন্য গুরুত্ব দিতে হবে রাজনৈতিক দল গঠনে। বর্তমান দলগুলো তাদের রাজনৈতিক চরিত্র উন্নত করতে পারে। বাংলাদেশকে বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীন রাষ্ট্ররূপে গড়ে তুলতে হবে। বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে নৈতিক উন্নতির নিরন্তর অনুশীলন চালাতে হবে। রাষ্ট্রের অন্তর্গত সব ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে হবে। আমার কোনো কোনো বইতে এবং ‘আটাশ দফা : আমাদের মুক্তি ও উন্নতির কর্মসূচি’ শীর্ষক পুস্তিকায় এ বিষয়ে আমার চিন্তার প্রকাশ আছে। বাস্তবায়নের কার্যক্রম দরকার। ‘রোকেয়া’ কাব্যে কবি ইকবাল আল্লাহকে অভিযুক্ত করেছেন মুসলমানদের দুর্গতিতে ফেলার জন্য। ‘জওয়াবে শেকোয়ায়’ আল্লাহ দুর্গত অভিযোগকারীর উদ্দেশে বলেছেন :

‘দয়াউন্মুখ সদাই আমি, কিন্তু কোথায় যাচ্ঞাকারী?

পথ দেখাব কাহার তরে, নাই যে পথে যাত্রাকারী।’

 

লেখক : প্রগতিপ্রয়াসী চিন্তাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল

মন্তব্য