kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অনলাইন থেকে

মাদক উৎপাদনে দ্রুত এগোচ্ছে আফগানিস্তান

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আফগানিস্তানের মাদক উৎপাদকরা নতুন উপায়-উপকরণ খুঁজে পেয়েছে। বিশ্বের মোট আফিম উৎপাদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ উৎপাদিত হয় দেশটিতে; বিপুল পরিমাণ হাশিশ উৎপাদনও হয়। উৎপাদকরা এখন মাদকের বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ দিয়েছে। তারা এখন মেথামফেটামাইন (মেথ) উৎপাদন করছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর বলেছে, আফগান কর্তৃপক্ষের মেথ আটকের পরিমাণ লাফিয়ে বাড়ছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে পুলিশ মাত্র চার কেজি করে মেথ জব্দ করেছিল; আর এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই জব্দ করা হয়েছে ৬৫০ কেজি।

উৎপাদনের এ হঠাৎ উল্লম্ফন কর্তৃপক্ষকে বিমূঢ় করেছে। আফগানিস্তানে মেথ উৎপাদনে উল্লম্ফন শুরু হয়েছে তার পশ্চিমের প্রতিবেশীর সুবাদে। অনেক দিন ধরে ইরানে মেথ সমস্যা ছিল। তবে কঠোর অভিযানের ফলে সেখানকার উৎপাদকরা আর থই পাচ্ছে না। তাদের কেউ আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলাহীন মরু অঞ্চলে সরে এসেছে। আফগান অভিবাসী শ্রমিকরা সম্ভবত ইরানে মেথ ব্যবসা শিখেছে, পরে হয়তো দেশে চালু করেছে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের ডেভিড ম্যানসফিল্ড বলেছেন, আফগান মেথ উৎপাদনে একটি মোড় বদলের বিষয় রয়েছে। মাদক উৎপাদকরা সাধারণত মেথের মূল উপকরণ সিউডোএফিড্রিন সংগ্রহ করে—ঠাণ্ডাজনিত রোগ ও ফ্লুর যেসব ওষুধ প্রেসক্রিপশন ও লাইসেন্স ছাড়াই পাওয়া যায় সেসব থেকে। বিভিন্ন সরকার এ ধরনের ওষুধ শনাক্ত করার ও বিক্রি সীমিত করার চেষ্টা করছে। ফলে এসব ওষুধ সংগ্রহ বেশ খরুচে ও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আফগান উৎপাদকরা অন্য উেস ভর করেছে—এফেড্রা ঝোপ। এ তৃণ এশিয়ার উষর এলাকাগুলোতে বিপুল পরিমাণে হয়। এটি অনেক কাল ধরে অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টের জন্য দায়ী অন্যান্য রোগের চিকিৎসার জন্য ভেষজ ওষুধের মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ তৃণ সিউডোএফিড্রিনের প্রাকৃতিক উৎস।

ম্যানসফিল্ড বলেন, ইরান সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের ফারাহ প্রদেশের হেরোইন উৎপাদক ফ্যাক্টরিগুলো এখন এফেড্রাপাতাভর্তি ঝুড়িতে ঠাসা। এগুলো মেথ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ তৃণনির্ভর প্রক্রিয়া অবলম্বন করার কারণে উৎপাদন খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে কৃষকরা ম্যানসফিল্ডকে বলেছে, এক বছরের মধ্যে এফেড্রাপাতার দাম বেড়ে তিন গুণ হয়েছে।

উৎপাদিত মেথামফেটামাইন কোথায় যাচ্ছে, তা পরিষ্কার নয়। খুব সম্ভবত এসব ইরানে যাচ্ছে। গত জুলাইয়ে ইরানের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ জাহেদিয়ান বলেন, মার্চ মাস থেকে ওই সময় পর্যন্ত তাঁর দেশের আফগান সীমান্ত এলাকায় চার টন মেথ জব্দ করা হয়েছে। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও রয়েছে। পাকিস্তানেও মেথ জনপ্রিয়। কিছু মেথ সম্ভবত বাইরের অন্যান্য অঞ্চলেও চালান হয়।

আফগানিস্তানের যুদ্ধ-অর্থনীতিতে এ নতুন মাদক কিভাবে প্রভাব ফেলতে পারে? আফিম ও এর বিক্রি থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সংঘাত বাড়ায়। এ মুনাফা কৃষকদের জীবিকার ব্যবস্থাই শুধু করে না, জঙ্গিদের তহবিলের জোগানও দেয়। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের উেকাচের ব্যবস্থাও হয়। এফেড্রা স্থানীয়ভাবে ‘ওমন’ নামে পরিচিত। যেসব এলাকা আফিম চাষ ও বিক্রি থেকে তেমন লাভবান হয়নি, সেসব এলাকার জন্য ওমন সম্পদ আহরণের নতুন উৎস হতে পারে। এফেড্রা ঝোপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আড়াই হাজার মিটার (আট হাজার ২০০ ফুট) উচ্চতায় সবচেয়ে ভালো জন্মায় এবং বেশ কিছু প্রদেশে আফিমের চেয়ে এর উৎপাদন ভালো হয়। কিন্তু কেউ নিশ্চিত করে জানে না, আফগানিস্তানে কোথায় এবং কী পরিমাণে এফেড্রা চাষ হচ্ছে। এফেড্রার উৎপাদন পরিমাপের জন্য জাতিসংঘ স্যাটেলাইট ও সরেজমিন জরিপের পরিকল্পনা করেছে। আফিমের উৎপাদন জরিপের জন্য তারা এ কাজ এরই মধ্যে চালু করেছে।

আফগানিস্তানের উদ্ভাবক উৎপাদকরাই মেথ উৎপাদনের জন্য এফেড্রাপাতা প্রথম ব্যবহার করছে, তা নয়। চীন ও মিয়ানমারের গ্রামবাসীও এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত। কিন্তু আফগানিস্তানের আইন-শৃঙ্খলাহীন পরিস্থিতি এবং বিদ্যমান বিতরণ নেটওয়ার্ক (যেহেতু অন্যান্য মাদকও সেখানে উৎপাদিত হয়) এবং অতি অল্প খরচে চাষের সুযোগ দ্রুতই দেশটিকে বৈশ্বিক মেথ কারবারে ভয়ংকর প্রতিযোগীতে পরিণত করতে পারে।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা