kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাধাতে চান নেতানিয়াহু

কার্ট নিমো

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিরিয়া ও ইরাক, দুই দেশেই নির্বিচারে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, কেউ বাধা দেয়নি। গত কয়েক বছরে সিরিয়া কয়েক শ ইসরায়েলি হামলা সয়েছে। গত জুলাইয়ে আইডিএফ (ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী) যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এফ-৩৫আই স্টিলথ জঙ্গিবিমান ব্যবহার করে ইরাকে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রহস্যজনক হামলার দায় কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। ইরাকি কর্মকর্তাদের দৃঢ় অনুমান, এসব হামলা ইসরায়েল করে থাকতে পারে; তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভেবেছে। পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস নামে পরিচিত ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া বাহিনীর উপপ্রধান প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি ড্রোন ওই হামলা চালিয়েছে; তবে শেষ পর্যন্ত এর দায় ওয়াশিংটনের। ভবিষ্যতে এমন হামলা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজাতীয় হামলার উদ্দেশ্য ইরাককে এবং ইরাকি সরকারকে অস্থিতিশীল করা। যদিও দেশটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপড়েনে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টাই করেছে।

প্রতিবেশীদের ওপর বেআইনি বোমা হামলার কথা ইসরায়েল সাধারণত স্বীকার করে না। তবে ইরাকে ওই হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কৃতিত্ব দাবি করেন। ফেসবুক পোস্টে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব দিক থেকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য সব কিছু করছেন তিনি।

বাস্তবে ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘র‌্যাডিকেল ইসলাম’ ও হিজবুল্লার হাত থেকে ইসরায়েলিদের রক্ষা করছেন না নেতানিয়াহু; বরং বড় ধরনের একটি যুদ্ধ নিশ্চিত করছেন। যার কারণে লাখ লাখ বেসামরিক লোক বিপন্নতার মুখে পড়বে। ২০০৬ সালে লেবাননে আগ্রাসন চালানোর ফলেও এ বিপন্নতা দেখা দিয়েছিল, সেবার ইসরায়েল ব্যর্থ হয়েছিল। সামনেই নির্বাচন। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো প্রকট হলে নেতানিয়াহু জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন।

ইরাক এরই মধ্যে ওই হামলাকে ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ আখ্যা দিয়েছে। সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলার যথা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ইরান ও হিজবুল্লাহ। মনে হচ্ছে, ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর হাতে পরাজয় ও অপমানের পর যে যুদ্ধের প্রতিজ্ঞা করেছিল ইসরায়েল সে লক্ষ্যেই এগোচ্ছে তারা।

প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত ১ সেপ্টেম্বর সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলের একটি সামরিক যান ধ্বংস করেছে হিজবুল্লাহ। সীমান্তে উসকানি সৃষ্টির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ইসরায়েলের, উদ্দেশ্য শত্রুকে সাড়া দিতে বাধ্য করা, যাতে যুদ্ধ বাধে এবং এ অজুহাতে লেবাননকে ধ্বংস করা যায়, অগণিত বেসামরিক লোককে হত্যা করা যায়। যদি ইরানের প্রেস টিভির ভাষ্য অনুযায়ী ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার মারা গিয়ে থাকে, তাহলে নিঃসন্দেহে ইসরায়েলি বাহিনী আরো আগ্রাসী আচরণ করবে।

ইসরায়েল অবশ্যই অধিকৃত এলাকায় আইডিএফ যানে হামলার ঘটনাকে ইসরায়েলি শিশু ও বৃদ্ধাদের প্রতি মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখাবে। ২০১৫ সালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালন-পরবর্তী যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক লেবাননি নাগরিককে হত্যার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছিলেন। জেরুজালেমে এক সম্মেলনে তিনি ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন।

যদি মনে করে থাকেন ইসরায়েল একটি নীতিপরায়ণ রাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র—এমনটিই বারবার বলা হয়ে থাকে—এবং গণহত্যার মতো চরম বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটাতে অক্ষম, তাহলে ২০১৪ সালে পূর্ব গাজার শুজানায় কী ঘটেছিল স্মরণ করুন। সেখানে যে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা ৭০ বছর আগে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠার পর ঘটানো শত শত ঘটনার মাত্র একটি।

বলা হয়, পরবর্তী যুদ্ধের জন্য হিজবুল্লাহ এক লাখের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট মজুদ রেখেছে। ইসরায়েল দাবি করে, তাদের অঘোষিত সব হামলা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ লাইনকে বাধাগ্রস্ত ও ধ্বংস করার জন্য; লেবানন, সিরিয়া ও ইরাকে ইরানের সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিহ্ন করার জন্য। তিনটি দেশেই উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং তারা ইরানের স্বাভাবিক মিত্র, শত শত বছর ধরে।

করপোরেট মিডিয়া হিজবুল্লাহকে আগ্রাসী হিসেবে দেখাতে তৎপর। তারা মধ্যপ্রাচ্যে পরবর্তী যুদ্ধের অনুঘটক হতেও পারে, নাও পারে। ইসরায়েল জানে, হোয়াইট হাউসের নিওকনরা তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে। তারা হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্রশস্ত্র ও সেনাদের জড়াতে দ্বিধা করবে না।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, পেন্টাগন বলেছে, বহিস্থ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইরাকের রয়েছে। বহিস্থ বলতে ইসরায়েল, যদিও পেন্টাগন সরাসরি এ কথা বলেনি। ইসরায়েল দাবার চাল চালছে, যাতে হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেওয়ার জন্য লেবাননি জনগণকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ লেবাননে আগ্রাসনে, সিরিয়ায় ও ইরাকে আগ্রাসন অব্যাহত রাখতে, অতঃপর ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে ট্রাম্প যাতে তাদের পূর্ণ সমর্থন দেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও তার সামরিক বাহিনী ছাড়া এ উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব নয়। নেতানিয়াহু চান, ইসরায়েলের নির্বাচনের আগেই পূর্ণ যুদ্ধ শুরু হোক।

 

লেখক : ব্লগার, গ্লোবাল রিসার্চের লেখক

সূত্র : গ্লোবাল রিসার্চ অনলাইন

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা