kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশ্ব অর্থনীতি কি মন্দার মুখে পড়তে যাচ্ছে

অনলাইন থেকে

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিয়ারিেস আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমস্যাবলির ব্যাপারে সুস্পষ্ট যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এ সম্মেলনে সফলতার সম্ভাবনা এত করুণ ছিল যে কেউ এমন অবস্থা কামনা করে না। বলতে গেলে রীতিরক্ষার একটা সম্মেলন হয়েছে।

জি-৭ কেমন ফোরাম? ভাবা হয় এ ফোরামে নেতৃস্থানীয় পশ্চিমা দেশগুলো বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইস্যুর মাধ্যমে তাদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। ১৯৭৫ সালে হমবুইয়েতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ভালেরি জিস্কা দেস্তাঁর আয়োজনে জি-৭-এর প্রথম সম্মেলন হয়েছিল। এরপর অনেক সময় গড়িয়েছে, তার পরও এ ফোরাম নিয়ে অনেক কথা বলার আছে। এবার যে বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে সেসবের মধ্যে বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ, ব্রেক্সিট ও ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি একেবারে সামনের দিকে ছিল। ফল যদিও ততটা আশাব্যঞ্জক নয়।

সত্তরের দশকের মাঝামাঝি বিশ্ব অর্থনীতি বেশ হৃষ্টপুষ্ট ছিল, এখন অবস্থা তত ভালো নয়। প্রবৃদ্ধি মন্থর হচ্ছে এবং মন্দা দশার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জি-৭-এর সদস্য জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে উত্পাদন হ্রাসমান এবং ইতালির অর্থনীতি স্থবির দশায়। বিশ্বজুড়ে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম উত্পাদন করছে। সংরক্ষণবাদী প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতির এ দুর্বলতার একমাত্র কারণ নয়। গত এক দশকে স্পষ্ট হয়েছে যে ২০০৮-০৯ সালে অর্থনীতিতে যে ধস নেমেছিল তার থেকে উত্তরণ অসম্পূর্ণ ছিল এবং করপোরেট ও ভোক্তাঋণ প্রক্রিয়ার ওপর অত্যধিক আস্থা রাখা হয়েছিল। ১৮ মাস আগে ট্রাম্প যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন নিশ্চিতভাবেই তা বাণিজ্য আস্থা বাড়াতে বা কম্পানিগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহী করার ব্যাপারে সহায়তা করেনি।

জি-৭-এর ব্যাপারে জিস্কার যে ধারণা ছিল সেটা হলো, এ ফোরাম হবে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার একটি আয়োজন, যেখানে নেতারা একান্তে খোলাখুলিভাবে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলবেন। উল্লেখ্য, জি-৭ ফোরামে ইউরোপের বৃহৎ চারটি অর্থনীতির দেশ অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে ব্রিটেন ব্রেক্সিট সংকটে রয়েছে। ভাবা হয়েছিল, এবার অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানোর বিষয়ে খুঁটিয়ে আলোচনা করার সুযোগটি গ্রহণ করা হবে। শেষ পর্যন্ত তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি।

ক্লাইমেট ইমার্জেন্সির বিষয়টিও ভালো করে নজরে নেওয়া হবে বলে আশা করা হয়েছিল। সেটাও হয়েছে বলে জোর দিয়ে বলা যায় না। ম্যাখোঁ চেয়েছিলেন, আমাজন রেইনফরেস্ট রক্ষার উপায় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু হোক। কার্যকর ব্যবস্থা নিতে গেলে ট্রাম্পের সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া দরকার। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ‘ক্লাইমেট সায়েন্স ডিনায়ার’-এর সঙ্গে সে বোঝাপড়া তো সহজ কাজ নয়।

কয়েক দশক ধরেই জার্মানি ইউরোপের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন। এখন তাতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত বছর কোনো রকমে মন্দা এড়িয়েছে দেশটি। এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে টাল সামলাতে ব্যস্ত। দ্বিতীয় প্রান্তিকে উত্পাদন ০.১ শতাংশ কমেছে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তৃতীয় প্রান্তিকে আরো কমবে। ডয়চে ব্যাংকের ধারণা, জার্মান অর্থনীতি এরই মধ্যে মন্দা দশায় পড়েছে।

সংকট ঘনীভূত হয়েছে জার্মানির রপ্তানিকেন্দ্রিক উত্পাদন খাতে। এ খাত টানা চার প্রান্তিকে সংকুচিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে গাড়ি উত্পাদনে, এক বছরে ১৭ শতাংশ উত্পাদন কমেছে। বড় ট্রেড পার্টনার যেমন চীন ও ব্রিটেনের হ্রাসমান চাহিদা এবং জার্মান ডিজেল মোটরের ব্যাপারে ভোক্তার রুচির বদলের কারণে উত্পাদন অনেকাংশে কমেছে। চীন-মার্কিন বাণিজ্যবিরোধ বাড়ার কারণে বাণিজ্য আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট ‘ইফো বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স’ ২০১২ সালের ইউরো জোন ঋণ সংকটের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। শ্রমবাজারও অক্ষত থাকেনি। উত্পাদকরা শর্ট টাইম ওয়ার্ক স্কিমের আওতায় শ্রমিক নিয়োগ করে ব্যয় কমাতে চাইছেন। এমন উত্পাদকের সংখ্যা বাড়ছে।

ইউরো জোনের সবচেয়ে বড় সদস্য মন্দায় পড়লে বাকি সদস্যদের ওপর কী অভিঘাত পড়বে তা আন্দাজ করা কঠিন নয়। গত দুই দশকে কারেন্সি ইউনিয়নের কারণে মন্দার প্রভাবের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে। আইএমএফের সমীক্ষা পর্যবেক্ষণ বলে যে এমন সহক্রিয়াজনিত প্রভাব সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। সম্প্রতি ইউরো জোনের বাকি অংশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে। তবে জার্মানির চেয়ে কম হারে। জার্মানির উত্পাদন খাতের সমস্যা শেষ পর্যন্ত ইউরো ব্লককে মন্দায় ঠেলে দেবে কি না নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিশ্বমন্দার সময় ইউরো জোনের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক নিম্নগতি সব সদস্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। যদিও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সব সদস্য জার্মানির মতো উন্মুক্ত নয়।

ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক এখন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চাইবে বলে মনে হয় না। ধীর প্রবৃদ্ধির একটা নিম্নমুখী চাপ রয়েছে। কিছুসংখ্যক অর্থনীতিবিদ আশা করছেন, অর্থনীতির চাকায় লম্ফগতি সঞ্চার করার জন্য সেন্ট্রাল ব্যাংক বন্ড কেনার স্কিম আবার চালু করবে।

 

তথ্যসূত্র : দি ইকোনমিস্ট

দ্য গার্ডিয়ান (ইউকে)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা