kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

জালের বেড়াজাল

ড. হারুন রশীদ

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জালের বেড়াজাল

ঈদুল আজহা সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠছে জালিয়াতচক্র। সাধারণত ঈদের সময় টাকার গতিপ্রবাহ বেড়ে যায়। আর এই সুযোগটিই গ্রহণ করার অপচেষ্টা করে জালিয়াতচক্র। এ ধরনের একাধিক চক্রকে সম্প্রতি আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জাল টাকা দেশের অর্থনীতির জন্য বিরাট হুমকি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশে এই জালিয়াতচক্র বর্তমানে ব্যাপকহারে তাদের জাল বিস্তার করেছে। অত্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে তারা টাকা জাল করে বাজারে ছাড়ছে। দেখতে হুবহু আসলের মতো। কিন্তু পুরোটাই নকল। সারা দেশে অনেক জাল টাকা তৈরির কারখানার খবরও ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে। জানা যায়, টাকা জাল করার প্রতিটি কারখানায় ঘণ্টায় প্রায় দুই লাখ টাকার জাল নোট তৈরি হয়। ব্যাপক হারে এসব নোট বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এসব অপরাধীর অনেককে পাকড়াও করা হলেও তারা আবার জামিনে বেরিয়ে এসে একই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আইনের ফাঁক থাকায় এই ঘৃণ্য অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যায়। এদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও সাক্ষীর অভাবে তা অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ করা দুরূহ হয়ে পড়ে। আর এভাবেই জালিয়াতচক্র সহজেই বড় ধরনের অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে, কিভাবে জালিয়াতচক্রের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, যাতে কেউ আর এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত হওয়ার সাহস না পায়।

জাল নোটের অবারিত বিস্তারে আসল টাকার মূল্য কমে যায়। মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয় এবং মুদ্রার ওপর আস্থা নষ্ট হয়। ফলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে দেশের কাগুজে মুদ্রার নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরো ভাবতে হবে। বিশেষ করে কোরবানি উপলক্ষে যেসব পশুর হাট বসছে, সেখানে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিনের ব্যবস্থা করতে হবে। জাল টাকা তৈরি ও বিপণন ফৌজদারি অপরাধ। এতে জড়িতদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের ফাঁক গলে অপরাধীচক্র ঠিকই অপরাধ করে যাচ্ছে। এসব অপরাধীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগাযোগ থাকার তথ্যও রয়েছে। জানা যায়, কিছু জঙ্গি সংগঠনের ব্যয় নির্বাহ হয় এই জাল টাকা দিয়ে। জাল টাকার বিস্তার রোধ করতে না পারলে বিপর্যস্ত হবে সাধারণ মানুষের জীবন।

ব্যাংকের এটিএম বুথেও নাকি পাওয়া যাচ্ছে জাল টাকা। এটি খুবই চিন্তার বিষয়। কারণ এ অবস্থায় জাল টাকার দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন। এ জন্য কিছু করণীয় রয়েছে। বুথ থেকে জাল বা অচল নোট পেলে সেটা সত্যিই ঝামেলার। কারণ ওই টাকা যে এটিএম বুথ থেকে পাওয়া তা প্রমাণ হবে কিভাবে? এ জন্য এটিএম থেকে টাকা বের হওয়ার পর প্রথম কাজ হচ্ছে, এটিএম বুথে দাঁড়িয়েই টাকা আসল না নকল তা যাচাই করা। যদি কোনো জাল বা অচল নোট চিহ্নিত হয়, তাহলে এটিএম বুথে লাগানো সিসিটিভির সামনে সেই নোটটি এমনভাবে তুলে ধরা, যাতে ক্যামেরায় টাকার নম্বরটির ছবি উঠে যায়। যদি সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকে কিংবা খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে জাল বা অচল নোটের বিষয়টি বুথের গার্ডকে জানান। যদি বুথের ভেতর কোনো হেল্প লাইন নম্বর থাকে, তাহলে সেখানে ফোন করেও বিষয়টি জানানো উচিত। এ ছাড়া এটিএম বুথ থেকে বের হয়ে নিকটবর্তী থানা এবং যে ব্যাংকের বুথ তাদের নিকটবর্তী শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

টাকা জাল প্রতিরোধে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যাংকিংয়ের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ডিজিটাইজড করা প্রয়োজন। ব্যাংক ব্যবস্থায় জাল নোট শনাক্তকারী মেশিনের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের পক্ষে মেশিনে আসল-নকল বোঝার সুযোগ নেই। এই মেশিন ছাড়াও কী দেখে নকল টাকা চেনা যাবে, সে বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে গণমাধ্যমে। যেকোনো মূল্যে জালের বেড়াজাল থেকে বের হতে হবে।

 

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট

[email protected]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা