kalerkantho

কালান্তরের কড়চা

দুটি বিষাদময় ঘটনা এবং একটি কৌতুককর প্রলাপোক্তি প্রসঙ্গে

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



দুটি বিষাদময় ঘটনা এবং একটি কৌতুককর প্রলাপোক্তি প্রসঙ্গে

এ সপ্তাহে লেখার সাবজেক্টের আর অভাব নেই। এটা আনন্দের খবর নয়, বিষাদের খবর। বাংলাদেশের ৬৪ জেলায়ই ডেঙ্গু দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। মারাও গেছে বহু রোগী। বাংলাদেশের এই দুর্দৈবের পাশাপাশি টেক্সাসে বিপণিবিতানে এবং ওহাইওর বারে গুলিতে নিহত ৩০ জন। এই সংখ্যা আরো বেড়েছে কি না এখন পর্যন্ত জানি না।

বলতে দ্বিধা নেই, দুটি ঘটনাই মনুষ্যসৃষ্ট। বাংলাদেশে আগেও ডেঙ্গু দেখা দিয়েছিল। তখন অসুখটি ছিল অজানা এবং চিকিৎসার কোনো কার্যকর ওষুধও ছিল না। বর্তমানে অবস্থা তা নয়। এবার পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গু দেখা দিতেই রাজ্য সরকার ও কলকাতা সিটি করপোরেশন দুই-ই ডেঙ্গুর বীজাণুবাহী এডিস মশা নিধনে অভিযান শুরু করে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করার অভিযান চালায়। মশক নিধনের ওষুধ এনে যথাসময়ে এই রোগের বিস্তার বন্ধ করে।

বাংলাদেশে তা হয়নি। ঢাকায় এখন দুটি সিটি করপোরেশন। দুজন  মেয়র। নির্বাচনের সময় দুজনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে ঢাকা শহরকে তাঁরা তিলোত্তমা বানাবেন। সে প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? ঢাকা শহরের ডোবা-নালা, রাস্তাঘাটের জঞ্জাল এডিস মশার আস্তানা। তা তেমন পরিষ্কার করা হয় না। রোগটি দেখা দিতেই ওষুধ ছিটানো হয়নি।

কেন হয়নি? ওষুধ ছিল না। অভিযোগ, ওষুধ আমদানিতে দেরি করা হয়েছে। পরে যে ওষুধ আনা হয়েছে,  তাও নাকি ভেজালমিশ্রিত। তাতে এডিস মশা মরে না। অর্থাৎ যেখানে হাজার হাজার মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত, সেখানেও চলেছে দুই নম্বরি বাণিজ্য। এ অভিযোগ সত্য হলে বলতে হবে, বাংলাদেশে এবারের ডেঙ্গু  মহামারিও মনুষ্যসৃষ্ট।  এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অমার্জনীয় অবহেলার অভিযোগ তোলা যেতে পারে।

টেক্সাসের ওয়ালমার্টের বিপণিবিতানে এবং তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকার ওহাইওতে একই বন্দুক হামলায় মোট ৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু একই মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনা। দুই স্থানেই দুই বন্দুকধারী এই বর্বরতা ঘটিয়েছে। আমেরিকা, মেক্সিকো এমনিতেই সন্ত্রাসকবলিত দেশ। তার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাঁর বর্ণবিদ্বেষ প্রচারের নীতি, অমানবিক এবং বিশ্বনিন্দিত ইমিগ্রেশন পলিসি দেশটির জাতীয় ঐক্যেই শুধু বিভাজন ঘটায়নি, সন্ত্রাস, দাঙ্গা ও রক্তক্ষয়ও বাড়িয়েছে। মার্কিন জনগণের কাঁধে চেপে বসা এই সিন্দবাদের দৈত্যের কার্যকলাপ প্রতিহত করা না গেলে তাতে শুধু আমেরিকার নয়, সারা বিশ্বের শান্তি-সমৃদ্ধিই ব্যাহত হবে।

ডেঙ্গু এবং ভয়াবহ সন্ত্রাসের খবরে মন যখন বিষাদে আচ্ছন্ন, তখন কিছুটা কৌতুকের খবরও পেয়েছি বাংলাদেশ থেকে। এই কৌতুকের জোগান দিয়েছেন বকেয়া মুক্তিযোদ্ধা বিএনপির সাবেক এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির বর্তমান নেতা কর্নেল অলি আহমদ (অব.)। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি যা বলেছেন, তা শুধু মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ মানুষ, ধর্ষিতা তিন লাখ নারী এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরই নয়, গোটা দেশের জন্য জঘন্য অপমান।

তথাপি তাঁর বক্তব্যকে কৌতুককর বলছি এ জন্য যে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে তিনি কী ধরনের বীরত্ব দেখিয়ে খেতাব পেয়েছেন, তা জানি না। কিন্তু কমিক রাজনৈতিক চরিত্রের জন্য তিনি খ্যাত। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তিনি বন্ধু জিয়াউর রহমানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিএনপি গঠন করেন। কিন্তু বিএনপির রাজনীতিতে তিনি কলকে পাননি। যে বন্ধুপত্নী বেগম জিয়ার জন্য তিনি এখন মায়াকান্না কাঁদছেন, সেই বন্ধুপত্নী এবং বন্ধুপুত্র তারেক রহমানের যুগ্ম ষড়যন্ত্রে (জামায়াতের স্বার্থে) তিনি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ঠুঁটো জগন্নাথ হন এবং অবমাননাকর পরিস্থিতিতে বিএনপি ছাড়তে বাধ্য হন। কিছুদিন এতিম রাজনীতিক হিসেবে ঘোরাফেরার পর তিনি সাইনবোর্ডসর্বস্ব লিবারেল পার্টি গঠন করেন। তারপর তাঁরই মতো বিএনপিত্যাগী ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারার সঙ্গে হাত মেলান। বেশিদিন এই মৈত্রী থাকেনি। তিনি তাঁর দল নিয়ে বিএনপির দিকে ঝুঁকতে থাকেন এবং তাঁর কথাবার্তার দরুন দেশে কমিক চরিত্রের অধিকারী রাজনীতিক বলে পরিচিত হন।

দেশের রাজনীতিতে ড. কামাল হোসেন, ডা. বি. চৌধুরী বা আ স ম আবদুর রবদের নেই নেই করেও যে গুরুত্ব, সে গুরুত্ব কর্নেল অলির নেই। তাই গত নির্বাচনের আগে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বর্তমান ভগ্নদশার সময় তিনি ভাঙা দুর্গ মেরামত করতে না নেমে নতুন একটি যুক্তফ্রন্ট গঠনের কথা বলে মাঠে নেমেছেন, তাঁর সঙ্গে আগের ঐক্যফ্রন্টের অর্থাৎ হারাধনের নিখোঁজ ছেলেদেরই দু-একজনকে দেখা যাচ্ছে। তাঁর এই উদ্যোগও রাজনীতিতে নতুন কৌতুকের মাত্রা যোগ করেছে। মানুষ বলছে, ‘হাতি-ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।’

হতাশা মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। অনেক সময় হতাশায় আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটায়। কর্নেল অলি আহমদও কি রাজনৈতিক হতাশা নামক ব্যাধিটির একজন শিকার? কারওয়ান বাজারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেসব কথা বলেছেন, তাতে কি সন্দেহ করা চলে, তিনি দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক হতাশায় ভোগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন, না রাজনীতির মাঠে কোনো পাত্তা না পেয়ে অত্যন্ত নিন্দনীয় কথা বলে বিতর্ক সৃষ্টি করে তাঁর প্রতি দেশের মানুষের দৃষ্টি ফেরাতে চাইছেন?

তাঁর উদ্দেশ্য যা-ই হোক, তা চরিতার্থ করার ব্যাপারে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি দেশের রাজনীতিতে একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে গণ্য হলে তাঁর মন্তব্যে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঝড় উঠত। তাঁর বিচারের দাবি উঠলেও বিস্মিত হতাম না। কিন্তু তাঁর উক্তিকে বলতে গেলে কেউ পাত্তা দেয়নি। হয়তো পাগলের প্রলাপ বলে অনেকের কাছে গণ্য হয়েছে। পাগলা মেহের আলীর প্রলাপোক্তিকে মানুষ যেমন কৌতুক হিসেবে গণ্য করত, কর্নেল অলির বক্তব্যকে সেভাবে গ্রহণ করলে বিস্ময়ের কী থাকবে?

কর্নেল অলি অবশ্যই বেগম জিয়ার মুক্তি দাবি করতে পারেন, কারাগারে তাঁর প্রতি কোনো অবহেলা হয়ে থাকলে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে পারেন। কিন্তু তিনি যখন তিলকে তাল করে বেগম জিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের আচরণ (১৯৭১ সালে ক্যান্টনমেন্টে বেগম জিয়া পাকিস্তানি সৈন্যদের হেফাজতে থাকার সময়) এবং বর্তমান হাসিনা সরকারের আচরণের তুলনা করে ৩০ লাখ বাঙালি হত্যাকারী পাকিস্তানি সৈন্যদের আচার-আচরণের প্রশংসা করেন, তখন বুঝতে বাকি থাকে না এটা কোনো দেশপ্রেমিকের কণ্ঠস্বর নয়।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের মন্ত্রী এমেরির পুত্র জন এমেরি জার্মানিতে পালিয়ে গিয়ে হিটলারের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। যুদ্ধ শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘যুদ্ধে নাৎসিরা যে অত্যাচার করেছে, তার চেয়ে কম অত্যাচার ব্রিটিশ ও মিত্রপক্ষের সৈন্যরা করেনি।’ তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং নাৎসি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার করে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

কর্নেল অলির কপাল ভালো; তাঁর কারওয়ান বাজারের বক্তব্যকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না, কৌতুক অথবা প্রলাপ ভেবে অবজ্ঞা করছে। নইলে তাঁর কপালেও জন এমেরির পরিণতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিত। এখনো দেখা দিতে পারে। কর্নেল অলি বলেছেন, ‘বেগম জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা। কারণ তিনি পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি ছিলেন।’ বেগম জিয়া কি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা? ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তিনি ৯ মাস অবস্থান করেছেন। কিন্তু বন্দি ছিলেন কি? থাক, অতীতের কুতর্কে যেতে চাই না।

আসল কথা, খালেদা জিয়া এখন জেলে। তাঁর প্রতি বর্তমান কর্তৃপক্ষের ব্যবহার। জেলে বেগম জিয়াকে সর্বোচ্চ সুখ-সুবিধায় রাখা হয়েছে। সঙ্গে একজন পরিচারিকাও দেওয়া হয়েছে। অসুস্থতায় তিনি চিকিৎসা পাচ্ছেন। তাহলে তাঁকে অত্যাচার করা হচ্ছে কোথায়? জেলে থাকার সময়ও কি তাঁকে গার্ড অব অনার দিয়ে সম্মান দেখাতে হবে? জেনারেল এরশাদের মতো সাবেক রাষ্ট্রপতিও কি জেলে বেগম জিয়ার মতো সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিলেন?

কর্নেল অলি পাকিস্তানি হানাদারদের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘পাকিস্তানি সৈন্যরা বাংলাদেশে অনেক কিছু করেছে। কিন্তু তাদের যে একটা কালচার, একটা স্ট্যান্ডার্ড তা বিসর্জন দেয়নি। বেগম জিয়া তাদের কাছে যে সম্মান পেয়েছেন, আজ নিজের দেশে সেই সম্মান তিনি পাচ্ছেন না। যাদের আমরা গালি দিই, তারাও বেগম জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছিল। অথচ যাঁরা জাতির পিতার সন্তান হিসেবে দাবি করেন, তাঁদের কাছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোনো সম্মান নেই।’

সত্যের ঢাক আপনি বাজে। কর্নেল অলির কথায় বোঝা গেল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদাররা যখন সারা বাংলাদেশে ধ্বংসের তাণ্ডব চালাচ্ছিল, হাজার হাজার সধবা-বিধবা কুমারী নারীর ওপর পৈশাচিক অত্যাচার চালিয়ে তাদের ‘কালচার’ ও ‘স্ট্যান্ডার্ড’-এর পরিচয় দিচ্ছিল, তখন বেগম জিয়াকে তাঁরা ক্যান্টনমেন্টে রানির সম্মানে রেখেছিলেন। এটা কি প্রমাণ করে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন? তাহলে হাজার হাজার বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধা নারীর মতো সমান ‘ট্রিটমেন্ট’ তিনি না পেয়ে হানাদারদের কাছে এত সম্মানিত হয়েছিলেন কেন?

কর্নেল অলি শুধু বেগম জিয়া সম্পর্কে নয়, তাঁর বন্ধু জিয়াউর রহমান সম্পর্কেও একটি সত্য উদ্ঘাটন করে দিয়েছেন তাঁর মন্তব্যে। তিনি বলেছেন, জেনারেল নিয়াজি (একাত্তরের গণহত্যার নায়ক) ছিলেন জিয়াউর রহমানের প্রথম অধিনায়ক। এই অধিনায়ক হলেন অন্যান্য অফিসারের পিতার মতো। সুতরাং জিয়াউর রহমানের কাছেও তিনি ছিলেন পিতার মতো। ব্যাটালিয়ানের অন্য অফিসারদের স্ত্রীর মতো বেগম জিয়াও ছিলেন নিয়াজির কাছে তাঁর মেয়ের মতো।’

কর্নেল অলির এই বক্তব্যে কি জিয়াউর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর আসল পরিচয় তুলে ধরা হয়নি? পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের সেনা-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল, শয়ে শয়ে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা এবং জিয়া নিহত হলে তাঁর স্ত্রীর ক্ষমতায় বসে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও একাত্তরের ঘাতক দালালদের সঙ্গে আঁতাত করার আসল কারণ এখানেই বোঝা যায়। কর্নেল অলিকে এই একটা কারণে ধন্যবাদ, তাঁর প্রলাপোক্তি থেকেও একটা সত্য বেরিয়ে এসেছে। বোঝা গেল, প্রধানমন্ত্রী হয়ে বেগম জিয়া কেন একাত্তরে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন, এমন এক জেনারেলের মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।

কর্নেল অলি বলেছেন, ‘যাঁরা জাতির পিতার সন্তান হিসেবে (অর্থাৎ শেখ হাসিনা) দাবি করেন, তাঁদের কাছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোনো সম্মান নেই।’ এটা জঘন্য মিথ্যা। জিয়াউর রহমান শয়ে শয়ে মুক্তিযোদ্ধা (কর্নেল তাহেরসহ) হত্যা করেছেন। বেগম জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোট পাকিয়ে তাঁর সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারদের সব সুযোগ-সুবিধা-সম্মান থেকে বঞ্চিত করেছিলেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। বীরাঙ্গনাদের সামাজিক স্বীকৃতি দেন।

কর্নেল অলি বিশ্বের নিকৃষ্টতম বর্বর সেনাবাহিনীর প্রশংসা অবশ্যই করবেন। সম্ভবত পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে তিনি জিয়াউর রহমানের মতোই কোনো পাকিস্তানি সেনা কমান্ডারের সন্তানতুল্য অফিসার ছিলেন। তাই মুক্তিযোদ্ধা হয়েও ‘পিতাদের’ প্রতি অনুরাগ ও আনুগত্য ভুলতে পারেননি। ইউরোপিয়ান মিডিয়ায় পর্যন্ত একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতাকে নাৎসিদের চেয়েও জঘন্য বলে অভিহিত করা হয়েছে। তাকে কর্নেল অলি ‘কালচার ও মানসম্মত’ বলে প্রশংসা করছেন। এটা কৌতুক, না বদ্ধ পাগলামি?

বেগম জিয়া দুর্নীতির মামলায় জেলে আছেন। তিনি অন্য দণ্ডিত ব্যক্তিদের চেয়ে অনেক বেশি ভালো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। তাঁকে অসম্মান জানাবে কে? এটাকে একাত্তর সালের পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করে পাকিস্তানিদের বর্বরতাকে স্ট্যান্ডার্ড বলা পাগলের কৌতুককর পাগলামি ছাড়া আর কিছু বলার উপায় নেই। এটাকে সজ্ঞানে করা অপরাধ বললে অপরাধীর বিচার চাইতে হয়।

শুধু পাকিস্তানিরা নয়, তাদের ‘শ্রদ্ধাভাজন’ বেগম জিয়াও বাংলাদেশের জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের প্রতি আচরণে কতটা ‘কালচার’ ও স্ট্যান্ডার্ডের পরিচয় দিয়েছেন তার প্রমাণ, জাতির পিতা ও তাঁর পরিবার, এমনকি শিশু রাসেলের বর্বর হত্যাকাণ্ডের দিনটিকেও তাঁর জন্মদিন বানিয়ে তাঁর বয়সের সমান ওজনের কেক কেটে শানশওকতের সঙ্গে উৎসব করতেন। শেখ হাসিনা প্রতিশোধপরায়ণ হলে তাঁর সঙ্গে কী ব্যবহার করা উচিত ছিল?

লন্ডন, ৫ আগস্ট, সোমবার, ২০১৯

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা