kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ভাঙার ঝুঁকিতে ট্রাম্প

অনলাইন থেকে

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পানমুনজমে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে পাশে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দেশটির ভেতরে পা রাখেন তখন স্বাভাবিকভাবেই ধারণা জন্মে, পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওই অঞ্চলে যে উত্তেজনা চলছে তা কমে আসবে। হ্যানয়ে ব্যর্থ বৈঠকের পর স্থগিত হয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার আলোচনা এ সপ্তাহে আবারও শুরু হবে।

১৯৬২ সালে কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দ্বন্দ্বকে চরম সীমার দিকে ঠেলে দেয়। সে সময়ই তারা পরমাণু অস্ত্র নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা শুরু করে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ১৯৭২ সালে একটি চুক্তি সই করে তারা। পরের চার দশকে দেশ দুটি আরো সাতটি পরমাণু চুক্তিতে সম্মত হয়। তাদের যৌথ অস্ত্রভাণ্ডার ১৯৭৩-৭৪ সালে ছিল হিরোশিমায় ফেলা ১৩ লাখ বোমার সমান, যা এখন ৮০ লাখ বোমার সমতুল্য। সংখ্যাটি এখনো কম নয়। তবে আগের তুলনায় অনেকটাই সহনীয়।

পরমাণু চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখন অবশ্য আর প্রকাশ করা হয় না। ট্রাম্প একতরফাভাবে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে গেছেন। তাঁর আশা ছিল, ইরানকে আরো বৃহত্তর পরমাণু চুক্তিতে রাজি করানো সম্ভব হবে। তবে ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি ছাড়া আর কোনো ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি। ইরান ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের পর জিসিপিওএর শর্ত ভেঙে ইউরেনিয়ামের মজুদ ও মাত্রা বাড়াতে শুরু করেছে। চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ৪ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের শর্ত এরই মধ্যে পার করে ফেলেছে তারা। গত অক্টোবরে রাশিয়া চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে রব তুলে ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প। এই চুক্তিটি ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষর করেছিলেন রোনাল্ড রিগ্যান ও মিখাইল গর্বাচেভ। চুক্তির মেয়াদ আগামী ২ আগস্ট শেষ হচ্ছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ আবারও উন্মুক্ত করে দেবে। বাড়বে ক্ষেপণাস্ত্র, পরমাণু ও প্রচলিত অস্ত্রের সংখ্যা। 

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু চুক্তি রয়েছে—২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভ স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’। এতে দুই দেশের জন্য ৭০০ উেক্ষপকে এক হাজার ৫৫০টি করে ওয়ারহেড মজুদ রাখার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। প্রতিবছর এই ক্ষেত্রগুলোতে ১৮ বার করে পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয় চুক্তিটিতে। তবে নিউ স্টার্ট চুক্তিটি ১৯ মাস পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। যদি না দেশ দুটির নেতারা পাঁচ বছরের জন্য চুক্তিটির মেয়াদ নবায়ন করে না নেন। এতে অবশ্য কোনো নেতাকেই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি সুবিধার নয়। রাশিয়া আগ্রহী। এগোতে চাইছে না যুক্তরাষ্ট্র।

নবায়নের আগে দুই পক্ষের মধ্যে বিরাজমান কিছু মতপার্থক্যের সুরাহা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে রাশিয়ার তৈরি নতুন অস্ত্র নিয়ে। আর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উদ্বিগ্ন নতুন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চুক্তিতে উল্লেখ করা সংখ্যায় অস্ত্র কমিয়ে আনবে না। ক্ষমতায় আসার শুরুর দিকে ট্রাম্প পুতিন প্রসঙ্গে অতিরিক্ত আগ্রহ দেখালেও খুব দ্রুতই তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আসে। পুতিন নিজেও ট্রাম্পের বলয় থেকে বের হয়ে যান। যদিও পুতিন মনে করেন, সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধানের জন্য আলোচনার প্রয়োজন।

ট্রাম্প কেন এই চুক্তি ছেড়ে দিতে চাইছেন? বিষয়টি এমন নয় যে তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী নন। বরং তাঁর ধারণা ওবামা যা করে গেছেন তার চেয়ে অনেক ভালো কিছু করার যোগ্যতা তাঁর আছে। তিনি শুধু রাশিয়ার সঙ্গেই নয়; বরং এই চুক্তিতে চীনসহ আরো কয়েকটি দেশকে সমন্বিত করতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে নিজ প্রশাসনকে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, চীনের অস্ত্র আগামী এক দশকে দ্বিগুণ বাড়বে। এর সঙ্গে রয়েছে হাইপারসনিক অস্ত্র ও সাইবার হামলার নতুন হুমকি। তবে চীন এ ব্যাপারে মোটেই আগ্রহী নয়। তাদের পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা ২৯০টি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় হাজার ১৮৫টি এবং রাশিয়ার ছয় হাজার ৫০০টি। কাজেই এখনই কোনো সীমার মধ্যে আটকে যাওয়ার ইচ্ছা চীনের নেই। আর এনপিটি না থাকা বিশ্বজুড়ে বহু দেশকে পরমাণু অস্ত্র ক্লাবের সদস্য হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করবে।

কাজেই সময় পার হয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরু করার বিষয়টি খুব সহজ হবে না। তবে পানমুনজমে পা দেওয়ার চেয়ে এ বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।

 

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য