kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

মনের কোণে হীরে-মুক্তো

বিশুদ্ধ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র হয় না

ড. সা’দত হুসাইন

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বিশুদ্ধ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র হয় না

নির্বাচনসংক্রান্ত একটি খবর সব সচেতন পাঠককে সচকিত করেছে। খবরটির মূলে ছিল নির্বাচনপ্রক্রিয়ার ব্যতিক্রমী রঙ্গ। পৃথিবীর অনেক দেশে এখন জালিয়াতি ও কারচুপির নির্বাচন হয়। তবে এর মধ্যে কিছুটা রাখঢাক থাকে। এতৎসত্ত্বেও দেশ-বিদেশের নাগরিকসাধারণ এরূপ নির্বাচনের নিন্দা করে, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আওয়াজ তোলে। কখনো কখনো এরূপ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল বা সংশোধিত হয়। পত্রিকায় উল্লিখিত দেশের কিম্ভূতকিমাকার নির্বাচনপদ্ধতি ছিল একেবারে স্বচ্ছ। এ পদ্ধতি প্রয়োগে কর্তৃপক্ষের বিন্দুমাত্র আড়ষ্টতা ছিল না। তারা বুক ফুলিয়ে পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে এর জন্য উল্লাস প্রকাশ করেছে। সহযোগী একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরটি পাঠকের সুস্পষ্ট ধারণা লাভের সুবিধার্থে আমি তা নিচে তুলে ধরছি—

“উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন ক্ষমতায় আসার পর গতকাল রোববার দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। দেশটির ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যান। এই নির্বাচনের সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এতে ভোটাররা আসলে প্রার্থী পছন্দের সুযোগ পান না। ব্যালটে কেবল একজন প্রার্থীর নামই থাকে। সেই ব্যালট হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যালট বাক্সে ভরতে হয় ভোটারকে। আর তারপর ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে গিয়ে ভোট দিতে পারার জন্য নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে হয়। এর ব্যত্যয় ঘটলেই বিপত্তি।

পঞ্চাশের দশকে কোরিয়া ভেঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এর পর থেকে কিম পরিবার উত্তর কোরিয়া শাসন করে আসছে। উত্তর কোরিয়ার সব নাগরিককে কিম পরিবারের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করতে হয়।

উত্তর কোরিয়ায় তিনটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। একটি কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি। পার্লামেন্টে এই দলটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বাকি কয়েকটি আসন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও কনডোইস্ট চঙ্গু পার্টির ‘দখলে’ থাকে। দল তিনটি হলেও এসব দলের কাজের ধরন একই। তার ওপর এই ‘পুতুল পার্লামেন্টের’ কোনো ক্ষমতাই নেই।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বসবাসকারী উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফিয়োদর টারটিটস্কি বলেন, ‘ভোট দিতে গেলে আপনাকে একটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে, যেখানে একটাই নাম থাকবে। পূরণ করার বা সিল দেওয়ার মতো কিছু থাকে না সেখানে। আপনি কেবল ব্যালট পেপারটি নেবেন, আর ব্যালট বাক্সে ভরে আসবেন।’

মিন ইয়ং লি নামে আরেক বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘প্রতিটা ভোটকেন্দ্রের বাইরেই থাকে ‘চিয়ার গ্রুপ’, যাঁরা উৎসব উদ্যাপন করেন। ভোটারদেরও ভোট দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে হয়, ‘বিজ্ঞ নেতৃত্বকে’ ভোট দিতে পারার জন্য উল্লাস প্রকাশ করতে হয়।

জনসংখ্যা গণনা এবং কতজন নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তা জানতে ও তাদের চিহ্নিত করতে এই নির্বাচন উত্তর কোরিয়ার সরকারের জন্য এক মোক্ষম ‘অস্ত্র’।”

গণতন্ত্রের নানা সংজ্ঞা, নানা অনুষঙ্গ রয়েছে। ফলত বিষয়টি ঘিরে বিতর্কের প্রশস্ত অবকাশ রয়েছে। তবে মোটা দাগে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা বলতে (শাসিত) জনগণ কর্তৃক গোপন ভোটে তাদের পছন্দ অনুযায়ী শাসকগোষ্ঠী নির্বাচন করার পদ্ধতি বা ব্যবস্থাকে বোঝায়। এ ব্যাপারে সর্বমহলের সাধারণ সম্মতি রয়েছে। জনগণই মুক্ত পছন্দের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী তথা সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ফোরামে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কে বা কারা অধিষ্ঠিত হবে। এককথায় জনগণই তাদের প্রতিনিধি-শাসক নির্বাচিত করবে। কোনো দেশ জয়ের মাধ্যমে নয়, অস্ত্রবলে নিজ দেশের জনগণকে অবদমিত করে নয়, উত্তরাধিকারের দাবি খাটিয়ে নয় কিংবা পারত্রিক অনুশাসনের দোহাই দিয়ে নয়, শুধু জনগণের দেওয়া ‘ম্যান্ডেট’কে ভিত্তি করেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত ব্যক্তি (বৃন্দ) দেশ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মধ্যে নিখাদ উদার গণতন্ত্র সর্বোত্তম ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। এই শাসনব্যবস্থার কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। বিশদ পর্যালোচনা এবং গবেষণার মাধ্যমে বিশেষত্বগুলো নির্ণীত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে : ১. সব দলের অংশগ্রহণধর্মী সুষ্ঠু নির্বাচন, ২. অর্থবহ কার্যকর সংসদ, ৩. নাগরিকের মৌলিক অধিকারের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ৪. অন্তর্ভুক্তিমূলক

(Inclusive) সরকার, ৫. স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন ও বিচার বিভাগ, ৬. ঐকমত্যের সরকার ব্যবস্থা  (Consensus Government), ৭. পরমতসহিষ্ণুতা, ভিন্নমতের প্রতি সাধারণ শ্রদ্ধাবোধ, ৮. সংখ্যালঘুদের (যে হিসেবেই এই গোষ্ঠী নির্মিত হোক না কেন) অধিকার নিশ্চিতভাবে সুরক্ষণ, ৯. প্রতিহিংসামূলক আচরণ বন্ধ করা, ১০. সু-আইনের সুশাসন, ১১. জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা

(Accountability), ১২. দুর্নীতিমুক্ত দায়িত্বশীল ন্যায়াচরণ, ১৩. এলাকা এবং গোষ্ঠীভিত্তিক যাবতীয় বৈষম্য দূরীকরণ, ১৪. শাসনের মেয়াদকাল যৌক্তিকীকরণ এবং ১৫. এলাকাভিত্তিক ও সমানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থার সুমিশ্রণ ঘটানো।

সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এত সব বিশেষত্ব কোনো কোনো সময়ে নাগরিক সমাজের কাছে জটিল বলে মনে হতে পারে। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিশেষত্বগুলোর সবই কি একসঙ্গে থাকা আবশ্যকীয়? এর একাংশ বিদ্যমান থাকলে ওই শাসনব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা বলা যায় কি না? বিশেষত্বাবলির মধ্যে এমন কয়েকটি বা কোনোটি রয়েছে কি না, যার অনুপস্থিতি পুরো ব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক করে তোলে। আমরা ঘুরেফিরে

Necessary Condition (অত্যাবশ্যকীয় শর্ত) এবং Sufficient Condition (পর্যাপ্ত শর্ত)-এর সামনে এসে পড়েছি। অত্যাবশ্যকীয় শর্তাবলি বা বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত থাকলে সে ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলা যাবে না, অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যতই উপস্থিত থাকুক না কেন, তার মূল্য শূন্য।

এমন বক্তব্য মাঝেমধ্যে শোনা যায় যে নির্বাচন সুষ্ঠু এবং অবিসংবাদিতভাবে গ্রহণযোগ্য হলে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়ে যাবে, তেমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে আরো অনেক কিছু করতে হবে। এ বক্তব্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের গুরুত্বকে ক্ষুণ্ন করা হয়। অন্যান্য বৈশিষ্ট্য গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করে। গণতন্ত্রের পূর্ণ সুফল পেতে হলে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের রূপায়ণ ঘটানো প্রয়োজন। তবে সব বৈশিষ্ট্যের রূপায়ণ ঘটিয়ে গণতন্ত্রের পরিপূর্ণ সুফল লাভ একটি আদর্শিক প্রত্যাশা  (ideal goal)| এটি বাস্তবে না-ও ঘটতে পারে। কিছু অসম্পূর্ণতা থাকলেও নিখাদ গণতন্ত্র দেশের গণমানুষের জন্য সুখ, শান্তি, স্বস্তি নিশ্চিত করতে পারে। অন্য কোনো শাসনব্যবস্থা জনগণের জৈবিক, বৈষয়িক এবং মানসিক চাহিদা আরো ভালোভাবে পূরণ করতে পারে বলে মনে হয় না।

নিখাদ গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হচ্ছে প্রশ্নাতীত সুষ্ঠু নির্বাচন। একে ভিত্তি করেই পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মিত হয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ-অগ্রহণযোগ্য হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধসে পড়ে। অন্যান্য বৈশিষ্ট্য তখন বাস্তবিক পক্ষে সুদূরপরাহত হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে প্রকৃতপক্ষে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে পর্যবসিত হয়। কোনো ‘পাবলিক’ পরীক্ষা যখন ত্রুটিযুক্ত এবং দুর্নীতিতে আক্রান্ত হয়, সে পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের মেধা-মান মূল্যায়ন করা যায় না। কোনো প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষা অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা কবলিত হলে তার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা যায় না। নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরের পদগুলো পূরণের জন্য প্রার্থী বাছাই করা হয়। ত্রুটিপূর্ণ নিম্নমানের নির্বাচন হলে সে নির্বাচনে বাছাই করা ব্যক্তিরা যে নিকৃষ্ট মানের (sub-standard) হবে, তাতে সন্দেহ নেই। নিকৃষ্ট মানের ব্যক্তিদের দিয়ে গ্রহণযোগ্য মানের শাসনব্যবস্থা কায়েম করা যাবে না। দুর্নীতি, অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অকার্যকারিতা তথা সামগ্রিক ব্যর্থতা দেশকে খাদের কিনারে নিয়ে যাবে। এরূপ পরিস্থিতিতে দেশ সাধারণত ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পর্যবসিত হয়।

একটি দেশকে উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তির পথে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই এর নির্বাচনপদ্ধতিকে সম্পূর্ণরূপে ত্রুটিমুক্ত (বিশুদ্ধ) এবং গ্রহণযোগ্য করতে হবে। সরকারের সমর্থন নিয়ে দেশের নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য সৎ, সাহসী, নির্লোভ, দক্ষ, প্রজ্ঞাবান, স্বচ্ছ রেকর্ডের অধিকারী এবং সাধারণভাবে জনগণের কাছে আস্থাবান ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। কমিশনের প্রধান এবং কমিশনাররা এমন মর্যাদাবান ব্যক্তি হবেন যে শাসকদলও তাঁদের সমীহ করে চলবে। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিবিদ, প্রজ্ঞাবান সুধীজন, দক্ষ ব্যবস্থাপক, সুপ্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী, সমাজসেবী এবং সমাজ-চিন্তকদের সঙ্গে প্রগাঢ় আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে নীতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ করে কমিশনকে এগোতে হবে। কমিশনকে জনমনে এমন ধারণা বদ্ধমূল করতে হবে যে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান তাদের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য। এ লক্ষ্য অর্জনে তারা অনড়-অবিচল। এ ব্যাপারে তারা যেকোনো সৎ-উপদেশ এবং সৎ-সহযোগিতা গ্রহণে আগ্রহী। অপরদিকে সব বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে তারা বদ্ধপরিকর।

নির্বাচনপ্রক্রিয়া বিশুদ্ধ হলে, ত্রুটিমুক্ত হলে সে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদ গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাবান এবং কার্যকর হবে। সৎ, মর্যাদাবান, সুনামধারী এবং দক্ষ ব্যক্তিরা পর্যায়ক্রমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত হবেন। নির্বাচিত হলে তাঁদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় হবে। জাতীয় ইস্যুগুলোর ওপর আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংসদ অধিষ্ঠিত হবে, মন্ত্রণালয়গুলোর ওপর খবরদারি করার নৈতিক শক্তি ও যোগ্যতা অর্জন করবে। এককথায় যথার্থ প্রতিনিধি ফোরাম হিসেবে সংসদ জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা, শ্রদ্ধা-ভরসার মহান পীঠস্থান হিসেবে গড়ে উঠবে। সংসদ যদি আস্থা, মর্যাদা এবং কার্যকারিতার প্রতীক হিসেবে তার অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারে, তবে রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগকে সুঠাম কাঠামোর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত করা অনেক সহজ হবে। একমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনই সংসদের গ্রহণযোগ্যতা, নৈতিক শক্তি, কার্যকারিতা এবং রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো তদারকি, এমনকি প্রয়োজনবোধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা সুনিশ্চিত করতে পারে।

নিখাদ গণতন্ত্রের অনেক শর্ত বা বৈশিষ্ট্য থাকলেও সুষ্ঠু নির্বাচনই হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণ। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে অন্য শর্তাবলির কিছু অংশ এর মধ্য দিয়ে পূরণ হয়ে যাবে। আরো কিছু শর্ত পূরণের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে, তবে এ উদ্যোগ সহজে সফল হবে। কিছু বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত বা অসম্পূর্ণ থাকলে গণতান্ত্রিক বন্দোবস্তের পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া যাবে না। দেশে সুখ-সমৃদ্ধি অর্জনের প্রচেষ্টা বেগবান হবে না। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। তখন আলোচনা-পর্যালোচনা এবং উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে সব বৈশিষ্ট্য অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সে উদ্যোগ সফল হবে। হয়তো তাতে কিছু সময় লাগবে।

 

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা