kalerkantho

অনলাইন থেকে

ব্রেক্সিট সংকটে বেহাল ব্রিটিশ রাজনীতি

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছেড়ে যাওয়ার বাস্তবতা মেনে অগ্রসর হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্যের জন্য। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের সর্বশেষ অবস্থান থেকে এ কথাই স্পষ্ট হলো যে বিষয়টি হজম করতে পারছে না তারা। প্রায় তিন বছর আগে নানা কল্পকাহিনি ছড়িয়ে ভোটারদের ভিজিয়ে ব্রেক্সিটের পক্ষে মত আদায় করা হয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, সেই কল্পকাহিনির বাস্তব রূপায়ণের সুযোগ বলতে গেলে নেই। বাস্তবতার একটি দিক বলছে, ব্রেক্সিটের জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে যুক্তরাজ্যকে। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য আইরিশ প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত উন্মুক্ত রাখা। এ সীমান্ত উন্মুক্ত রাখা হলে ইইউয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরও সংযুক্ততা অক্ষুণ্নই থাকবে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ব্রিটিশ এমপিদের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে এসব সমস্যাজনিত ক্ষতির মাত্রা কমাতে ব্রাসেলসের সঙ্গে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে এতে খুব একটা কাজ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। গত মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মতো ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট জানিয়ে দিয়েছে ভোটাররা নয়, বরং পার্লামেন্ট সদস্যরা ব্রেক্সিট-ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।

কনজারভেটিভ পার্টির ব্রেক্সিটপন্থী সব সদস্য এবং দলটির জোটসঙ্গীর কারণেই প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা ডুবতে বসেছে। তাঁরা দাবি করে এসেছেন যে এর চেয়ে ভালো চুক্তি সম্পাদন করা সম্ভব ছিল। যদিও ইউরোপীয় নেতারা প্রতি ক্ষেত্রেই তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা চুক্তির ব্যাপারে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েছেন এবং এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। ব্রেক্সিট চুক্তি দ্বিতীয়বারের মতো বাতিল করে দেওয়ার পরদিন চুক্তি ছাড়াই ইইউ ছাড়ার বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন পার্লামেন্টের সদস্যরা। কনজারভেটিভ পার্টির কট্টরপন্থীরা চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের পক্ষে ছিলেন। এর আগেও তাঁদের এ অভিমত পার্লামেন্ট বাতিল করে দেয়; যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তিসহ ব্রেক্সিটের বিষয়টি ইংলিশ চ্যানেলের দুই পারে সংকট সৃষ্টি করবে। আগামী ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট সম্পন্ন হওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারিত রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যে একটি বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট একমত হতে পারে সেটি হলো, ব্রাসেলসের সঙ্গে ব্রেক্সিট চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া। সে ক্ষেত্রে চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের আশঙ্কাকে আপাতত দূর করা যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে চলমান রাজনৈতিক সংকট আরো কয়েক মাস দীর্ঘায়িত হবে। তার পরও সংকটের সমাধান স্পষ্ট নয়।

এ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতার কারণে। প্রধানমন্ত্রী মে ব্রাসেলসের কাছ থেকে নিয়ে আসা চুক্তির শর্তের ব্যাপারে মধ্যপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং তাঁদের সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি কনজারভেটিভ পার্টির কট্টরপন্থীদের অভিমত আদায় করতে পারেননি। তিনি সে চেষ্টাও করেননি। বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন কখনোই এ সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেননি। বরং তাঁর লক্ষ্য ছিল কী করে মে সরকারকে টেনে নামিয়ে আরেকটি সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যায়। সে চেষ্টায়ও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তবে টেরেসা মে আবারও ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে পার্লামেন্টের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে সাধারণ নির্বাচনের সম্ভাবনা খানিক পরিমাণে বেড়েছে।

আবার এমনও হতে পারে, একটি সাধারণ নির্বাচন এমন একটি সরকারকে এনে দেবে, যাদের ব্রেক্সিট সম্পন্ন করার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন থাকবে। সেটি মে যে চুক্তির কাঠামো ব্রাসেলস থেকে এনেছেন, তা দিয়ে হতে পারে আবার এর চেয়ে নমনীয় কিছুও হতে পারে। পার্লামেন্টের ভেতরে-বাইরে আরেকটি পথ নিয়েও আলোচনা রয়েছে, সেটি হলো ব্রেক্সিট বিষয়ে দ্বিতীয় গণভোট। এখন ইইউ ছাড়ার প্রকৃত মূল্য ও পরিস্থিতি স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে ভোট হলে হয়তো তার ফল ভিন্ন কিছু হবে। তবে জনমত যদি একই থাকে, তাহলে পার্লামেন্টে মের চুক্তিকে অকার্যকর করার মতো জোর থাকবে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, কনজারভেটিভ পার্টির ডানপন্থী এবং লেবার পার্টির বামপন্থী বাগ্মীদের আগামী নির্বাচনে অথবা পার্লামেন্টের বিতর্কে মোকাবেলা করা। তাহলেই হয়তো যুক্তরাজ্য তার অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য অটুট রেখে এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভঙ্গুর শান্তিচুক্তি অক্ষুণ্ন রেখে ইউরোপ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথ পাবে।

মনে রাখা প্রয়োজন, উত্তর আয়ারল্যান্ড তাদের অর্থনীতির জন্য আইরিশ প্রজাতন্ত্রের ওপর খুবই নির্ভরশীল। কনজারভেটিভ পার্টির কট্টরপন্থী ও বামপন্থী সুবিধাবাদীদের কারণেই কয়েক বছর ধরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নানামুখী সংকট চলছে।

 

সূত্র : দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয়

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

 

মন্তব্য