kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ট্রাম্প, মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর ও অচলাবস্থা

বিনয় কাম্পমার্ক

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ট্রাম্প, মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর ও অচলাবস্থা

নতুন বছর নিয়ে মানুষের মনে নানা রঙিন কল্পনা কাজ করে। এ সময়টা পরিবর্তন নিয়ে ভাবার সময়। হোমো সেপিয়েন্স তথা বুদ্ধিমান মানব প্রজাতি এ সময় নানা পরিবর্তনের শপথ নেয়; পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয়। দেখা যায়, পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি যারা দেয় পরিবর্তনের প্যাকেজ তারাই দ্রুত আশা করে। এ আশাও করা হয়, দুর্বলরা শক্তিশালী ও শক্তিশালীরা মানবিক হবে। যত মেকি কথাই বলা হোক, পরিবর্তন আসতেই হয়।

বাস্তবে অবশ্য বিপরীত ঘটনার ইঙ্গিত দেখতে পাওয়া যায়। ২০১৯ সাল শুরু হয়েছে হোয়াইট হাউসের একগাদা বাজে সিদ্ধান্ত দিয়ে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটরা একদিকে একাট্টা হয়েছেন, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একেবারে বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে সরকারে আংশিক অচলাবস্থা চলছে। নতুন বছরের নতুন প্রভাত প্রেসিডেন্টকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি বলেই মনে হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের কিছু অংশে ইস্পাতের বেড়া নির্মাণ করার জন্য ৫৭০ কোটি ডলারের দাবি পেশ করেছেন কংগ্রেসে। একই সঙ্গে তিনি ডেমোক্র্যাটদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা ২০০৬ সালে এক হাজার ১১২ কিলোমিটার সীমান্তরেখায় বেড়া দেওয়ার জন্য ভোট দিয়েছিলেন। ট্রাম্প এমনও বলেছেন, নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় বেড়ার জন্য অর্থায়ন করবে মেক্সিকো, যদিও মেক্সিকোর কর্মকর্তা ও রাজনীতিকরা ট্রাম্পের এ বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন শুরু থেকেই।

গত ৮ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বলেন, ‘আমাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট বাড়ছে। ওই সীমান্ত হেরোইন, কোকেনের মতো বিপুল পরিমাণ মাদকের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পথ। প্রতি সপ্তাহে আমাদের অন্তত ৩০০ নাগরিক শুধু হেরোইনের জন্য প্রাণ হারায়। এই মাদকের ৯০ শতাংশই আসে দক্ষিণের সীমান্ত পথে।’

অ্যাডাম স্মিথের বর্ণনা অনুসারে, ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে দর্শন অনেকটা এমন যে মেক্সিকো সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্ত তহবিল ব্যবহার করতে পারবেন। ‘মানবিক’ ও ‘নিরাপত্তা’ সংকট সমাধানের জন্য এটি একটি ব্যবস্থা হতে পারে। এ কারণেই তিনি তহবিল পেতে চান। অন্যথায় যে অচলাবস্থা চলছে, তা চলতেই থাকবে।

প্রতিনিধি পরিষদের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম স্মিথ বলেন,  ‘আইনের একটি ধারায় বলা আছে, প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। আগে বেশ কয়েক দফায় এ ধারা ব্যবহার করা হয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যেতেই পারে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। জরুরি অবস্থাটি কোথায়? কিসের কারণে? অবশ্যই এসব বিষয়ের প্রমাণ দিতে হবে।

মেক্সিকো সীমান্তে যে জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তা কিছুদিন আগেও ছিল কষ্টকল্পিত। তবে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স জানান, প্রায় চার হাজার চিহ্নিত ও সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আটক হয়েছে। তাঁর ভাষায়, মেক্সিকোর ওই সীমান্ত এলাকা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট। বিবৃতিতে স্পষ্ট করেই বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে মেক্সিকো অবিবেচকের মতো আচরণ করছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা কেলিয়ানি কনওয়ে পরে জানান, স্যান্ডার্স যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন, তা ২০১৭ সালের। সীমান্তে প্রবেশের পথে আটকের সংখ্যাও জানান তিনি।

আইনানুসারে ট্রাম্প জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সামরিক তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করতে পারেন। তবে এর সম্ভাবনা ক্ষীণ। ট্রাম্প হয়তো দেখাতে চাইছেন যে সীমান্তপ্রাচীর সামরিক দুর্গের মতোই একটি বিষয়। তবে এ সিদ্ধান্ত আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্প হয়তো আগে যা করেছেন, তেমনই করার সিদ্ধান্ত নেবেন। ২০১৮ সালে তিনি এ কাজ করেছিলেন। তিনি অল্পতেই অধৈর্য হওয়ার মতো মানুষ হলেও কখনো একেবারে অবিচল থাকেন। হয়তো এবারও আমরা তেমনটিই দেখতে যাচ্ছি। গত ৮ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ তিনি দেন, সেটিও তেমনই এক চেষ্টা। ওই ভাষণে তিনি কেন ডেমোক্র্যাটদের তাঁর প্রাচীর প্রকল্পে সহায়তা করা উচিত, তা বলার চেষ্টা করেছেন।

বিরোধীদের বোঝা উচিত, এ লোকের মন পেতে হলে এমন কাজ করতে হবে, এমন প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তিনি যা চেয়েছেন, তা তিনি পেয়েছেন বা পেতে যাচ্ছেন। বাকি সব চুলায় যাক। ট্রাম্প আমলের রাজনীতিতে টুইট শুধুই একটি বার্তা নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ বার্তা এটি। ট্রাম্পের ৮ জানুয়ারির ভাষণের পর মিশিগানের কংগ্রেসম্যান জাস্টিন অ্যাম্যাশ বলেছেন, কেউ কাউকে কিছু বোঝাতে পারছে না। তিনি ঠিকই বলেছেন।

লেখক : অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান

সূত্র : গ্লোবাল রিসার্চ অনলাইন

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা