kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

ভিন্নমত

একসময় মনে হতো বাংলাদেশ এগোতে পারবে না

আবু আহমেদ   

১১ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



একসময় মনে হতো বাংলাদেশ এগোতে পারবে না

অনেকের সেই ধারণাকে বাংলাদেশ মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। অর্থনীতি যদি সঠিকভাবে গ্লোবাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে তাহলে সৃষ্টির ঋণাত্মক উপাদানগুলো অর্থনীতিকে পেছনে টেনে ধরে রাখতে পারে না। এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, আমাদের অর্থনীতি গতি পেয়েছে গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়ন থেকে। গ্লোবালাইজেশনের গতি থেমে নেই। বহুজাতিক দোহা রাউন্ড মুখ থুবড়ে পড়লেও অন্য আঙ্গিকে গ্লোবালাইজেশনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। অর্থনীতিগুলো অতিদ্রুত একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। যতই যুক্ত হচ্ছে ততই উৎপাদনের উপকরণগুলোর মূল্য স্থানীয়ভাবেও প্রতিযোগী হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের আছে অনেক কর্মী, যাদের কখনো শ্রমিক বলা হয়, কখনো কৃষক বলা হয়, কখনো খেটে খাওয়া মজদুর বলা হয়। আসলে মানবসম্পদের মধ্যে কৃষক-শ্রমিক-মজদুর যেমন আছে, তেমনি ডাক্তার-প্রকৌশলী-শিক্ষক-ব্যবসায়ী, টেকনোক্র্যাট- এঁরা সবাই আছেন। গ্লোবালাইজেশনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়ভাবে এঁদেরও কাজ বেড়ে যাবে। এঁদের কাজের জন্য আগে থেকে অনেক বেশি চাহিদা হবে। ফলে বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁদের শ্রমের কৌশলের সেবার মূল্য বেড়ে যাবে। কত দ্রুত বাড়বে তা নির্ভর করছে কত দ্রুত বাংলাদেশের অর্থনীতি গ্লোবাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এটাও ঠিক, বাংলাদেশের তুলনায় অন্য অনেক অর্থনীতি আরো বেশি গ্লোবাল হয়েছে। বাংলাদেশের এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতা আছে। অনেক অনেক অর্থনীতি দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয়ভাবে অনেক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTAs) সই করেছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিনা ট্যারিফে বিনা কোটায় এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্যের প্রবেশাধিকার। আগে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে শুধু বাণিজ্যের বা পণ্যের আমদানি-রপ্তানির ব্যাপারটা মুখ্য থাকলেও এখনকার সময়ে যেসব বহুপক্ষীয় চুক্তি সই হচ্ছে সেগুলোতে সেবা ও বিনিয়োগও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বিশ্ব শিগগিরই অর্থনীতির পরিমাপ ও মানের দিক দিয়ে একই মানদণ্ডের নিচে আসবে। মুশকিল হলো দোহা রাউন্ডকে পাশ কাটিয়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির আলোচনা চলছে এবং একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও এশীয় অঞ্চলে যে TPP চুক্তির আলোচনা দ্রুত এগিয়ে চলছে ওইগুলোর সফল সমাপ্তি হলে বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতিগুলো যেগুলো ওই আঞ্চলিক চুক্তির অংশীদার হবে না, তারা আপাতত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভিয়েতনাম এখন রেডিমেড গার্মেন্ট প্রস্তুতকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। ভিয়েতনামের অর্থনীতি ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (TPP) চুক্তির সদস্য হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়াও ওই চুক্তির সদস্য হবে। অন্যদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডও ওই চুক্তির সদস্য হবে। চীন অন্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। এরই মধ্যে চীন-অস্ট্রেলিয়াও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে। বাংলাদেশ কিন্তু এখনো বড় কোনো আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির সদস্য হতে পারেনি। বাংলাদেশ রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক বড় বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানিকে মূল্যের ওপর ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ ট্যারিফ প্রদান করতে হয়। অন্য অনেক আফ্রিকান দেশ এ ক্ষেত্রে কোনো রকম ট্যারিফই দেয় না। বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুয়ার আর বেশি ফাঁক হবে বলে মনে হয় না। তবে বাংলাদেশকে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করতে হবে ভারত, চীনসহ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে এবং আঞ্চলিকভাবে মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য। এত জনসংখ্যা নিয়ে আরো দ্রুতগতিতে এগোতে হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির দুয়ারকে যেমন অন্যদের জন্য খুলে দিতে হবে, তেমনি অন্যদের দুয়ারও যেন বাংলাদেশের জন্য খোলা হয় সে ব্যাপারে বিরতিহীনভাবে কড়া নাড়তে হবে। বাংলাদেশ যতটুকু গ্লোবাল হতে পেরেছে ততটুকুর মাধ্যমেই আজকে এই অর্থনীতি ৬ থেকে ৬.৫ শতাংশ হারে প্রতিবছর বাড়ছে। এই বৃদ্ধি খারাপ নয়।  তবে বাংলাদেশকে এগোতে হবে ৭ থেকে ৮ শতাংশ হারে। তখন দেখা যাবে পরিবর্তনের ছাপ সর্বত্র প্রতিভাত হবে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে নিম্ন-মধ্যম শ্রেণির অর্থনীতিতে প্রবেশ করেছে। বিশ্বব্যাংক হিসাবটা দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটা বড় খবর। তবে বিশ্বব্যাংকের এ ক্ষেত্রের হিসাবটা দুই বছর আগের। তারা ২০১৩-২০১৪ সালের মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বলেছে, বাংলাদেশ এরই মধ্যে নিম্ন-মধ্যম আয় শ্রেণির অর্থনীতির মর্যাদা অর্জন করেছে। অবশ্য আমাদের অবস্থানটা অতি প্রান্তিকে। ১০৪৬ ডলার হলেই অর্থনীতি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের অন্তর্ভুক্তি অর্জন করে। আমাদের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের ওই সময় মাথাপিছু আয় হলো ১০৮০ ডলার। অবশ্যই এই মাথাপিছু আয় ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে আরো বেড়েছে। এখন এই আয় ১১৫০ ডলারের ওপরে হবে। সেদিক দিয়ে এটা বলা যায়, বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এমনকি ৬ শতাংশ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়েও আমরা এ ক্ষেত্রে শুধুই সামনে যাব। অনেক অর্থনীতিবিদ এটা বলতে চাচ্ছেন, কেন এই অর্থনীতি ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে না। করাটা অতি সম্ভব। শুধু আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। ব্যক্তি খাত এখন বড় পুঁজির অধিকারী। এ খাতকে যেভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করে সাফল্য আনা গেছে, তেমনি অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও তাদের ব্যবহার করা যায়। সরকারকে বলতে হবে কোথায় তারা পুঁজি বিনিয়োগ করবে। ব্যক্তি খাতই মুনাফা বিবেচনায় সুবিধাজনক খাতকে চয়ন করবে। তবে সে জন্য আমাদের বড় বড় রাস্তা-ব্রিজ এগুলোকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বানানোর জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সরকার এখন একাই বড় পুঁজি বিনিয়োগ করছে। এ ক্ষেত্রে সহযোগী পার্টনার হতে পারত ব্যক্তি খাত। অর্থায়নের অভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আছে বলে মনে হয় না। যে জাতি নিজস্ব সম্পদ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারে, সেই জাতির জন্য নতুন এয়ারপোর্ট নির্মাণ, মেট্রো রেল নির্মাণ, চার-ছয় লেনের আন্তশহর রাস্তা নির্মাণ, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ- এগুলো কোনো স্বপ্নের প্রকল্প হতে পারে না। শুধু যে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যর্থ হচ্ছে সেটা হলো সময় অনেক বেশি নিয়ে নিচ্ছে। অন্যত্র সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। লেখাপড়াকে সহজলভ্য করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মানে ধস নামার ফলে অপেক্ষাকৃত গরিব ঘরের ছেলেরা মেধা থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়ছে। সরকারের উচিত হবে আপাতত নতুন করে পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন না দিয়ে কোয়ালিটি এডুকেশনের দিকে বেশি করে অর্থ ব্যয় করা। আমাদের দেশের ধনীর ছেলেরা ভালো শিক্ষা অর্থ দিয়ে কিনছে। তারা ভালো শিক্ষার জন্য শতে শতে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। এটাও একটা ভালো দিক বটে। চীন-ভারতের অর্থনীতির মেধানির্ভর পদগুলোতে ওরাই বেশি অবদান রাখছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে একাডেমিক ডিগ্রি নিয়েছে। কিন্তু অর্থ ব্যয় করে ভালো শিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া গরিব ছাত্রদের জন্য সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের কাজ হলো মেধার পালন। সেই লক্ষ্যে তাদের জন্য হাজার হাজার মেধাবৃত্তির ব্যবস্থা থাকা দরকার। ওই সব বৃত্তি পেয়ে তারা যাতে বিদেশেও যেতে পারে, সে ব্যবস্থাটা রাষ্ট্রকেই করে দিতে হবে। একটা শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য সর্বোত্তম সম্পদ হবে। আজ আমরা সুশাসনের অভাব সর্বত্র লক্ষ করছি। বাংলাদেশের ব্যাপারে বিদেশিদের মনোভাব ইতিবাচক নয়। তারা মনে করে, বাংলাদেশে সহজে কোনো কাজ করা যায় না। ঘুষ না দিলে কোনো কাজই হয় না। তাদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনার মধ্যে সত্যতা আছে। আমাদের প্রশাসনের বড় রোগ হলো ঘুষ-বাধা আর দুর্নীতি। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো জনগণের মধ্যে একটা ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেছে, এ দেশে ঘুষ না দিলে কোনো কাজই হয় না। এবং তারা এও ভাবে, যাদের ক্ষমতা ও পদ আছে, তারা সবাই দুর্নীতিবাজ। আমাদের সমাজে আগে অনেক বেশি সৎ লোক ছিল। তাদের সংখ্যা এখন কমে এসেছে। জানি না, দুর্নীতির বোঝাটা বড় হতে দিয়ে আমরা যে সমাজ বিনির্মাণ করতে যাচ্ছি সেই সমাজে ডলারের ভিত্তিতে মাথাপিছু আয় বাড়লেও সুদের সূচকে বা সামাজিক মেলবন্ধনে আমরা কোথায় গিয়ে শেষ পর্যন্ত দাঁড়াব? সমাজে সমানভাবে সবাই যদি দুর্নীতিবাজ হতো, তাহলে এক ধরনের সামাজিক ভারসাম্য তৈরি হতো। কিন্তু সমস্যা হলো, সব লোক সমান ক্ষমতার অধিকারী নয়, আবার সব লোক সমান দুর্নীতিবাজও নয়। ফলে সমাজে সৎ ও পরিশ্রমী লোকদের বিপক্ষে একটা অবস্থান তৈরি হচ্ছে, যে অবস্থান আমাদের সব নৈতিক অবস্থানকে আঘাত হেনে চলেছে। এই সমাজে আয় বাড়বে, ভোগ বাড়বে, জীবন ধারণে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়বে। কিন্তু নীতিনৈতিকতা বিবর্জিত সমাজ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায় সে ব্যাপারে বাংলাদেশ একটা ভালো পর্যবেক্ষণের ভূমি হতে পারে। সত্যি বাংলাদেশ হবে বিশ্বের জন্য বহু ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণের জন্য একটা উপযুক্ত ভূমি। এই ভূমিতে নৈতিকতা-বিশ্বাস ইত্যাদি পেছনে চলে যাচ্ছে। আবার ব্যয়, ভোগ ইত্যাদিও বাড়ছে। আইনের শাসন আছে কথায় এবং কাগজে। বাস্তবে এর ভালো প্রয়োগ দেখা যায় না। সমাজের লোকগুলো নানাভাবে বিভক্ত। আবার বিভক্তি নিয়ে সংঘর্ষেও লিপ্ত হয়। বিভক্তি, দলবাজি সব সামাজিক বন্ধনে চিড় ধরাচ্ছে। মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয় দলের ভিত্তিতে কিছু পাওয়ার জন্য। এ অবস্থায় সততা ও পরিশ্রমের মূল্যের বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। মানুষ স্বার্থপর ও এককেন্দ্রিক হচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে ক্ষুদ্র এককের পরিবার গঠিত হচ্ছে। অবশ্যই কিছু পরিবর্তন আমরা পছন্দ না করলেও অর্থনীতি এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আয় ও ভোগ বাড়লে ওই সব পরিবর্তন এসে যাবে। তবে বাংলাদেশ যদি দুর্নীতি কমাতে পারে এবং কোনো রকমে সুশাসনের ব্যবস্থা করতে পারে, তাহলে অর্থনীতি আরো গতি পাবে। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে বাংলাদেশ খাদের কিনারা থেকে বহুদূরে চলে গেছে। বহুদূরে তখনই যাবে, যখন ডলারের হিসাবে মাথাপিছু আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক বন্ধনটাও দৃঢ় হবে। তখন কেউ কাউকে হামলা করবে না। কেউ বাধা দিয়ে জোর খাটিয়ে অন্যের সম্পদকে নিজের সম্পদ বানাতে পারবে না। সব লোকের মনে একটা বিশ্বাস থাকবে যে সমাজ-সরকার-রাষ্ট্র তার প্রতি অবিচার করবে না। বাংলাদেশ যে অর্থনীতির ক্ষেত্রে এত ভালো করছে তার মূলেও আছে গরিব লোকদের অবদান। যে ৬০ লাখ বাংলাদেশি দেশের বাইরে আছে, তারাই তো বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বড় সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তারা তো ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিবছর দেশে পাঠাচ্ছে। তাদের ওই টাকায় দেশের ভেতরে থাকা অন্যরা ভালো চলছে। এসব লোক তাদের অর্জিত অর্থকে দেশে পাঠাচ্ছে ঠিকই; কিন্তু সমাজের একশ্রেণির লুটেরা কথিত ধনী লোকেরাই এই দেশের বহু বিলিয়ন ডলার পাচার করে প্রতিবছর বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। সবার জন্য সমান সুযোগ ও সবার জন্য নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়