kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পবিত্র কোরআনের আলো

ফেরাউনের সঙ্গে মুসা (আ.)-এর সংগ্রাম

   

৪ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরাউনের সঙ্গে মুসা (আ.)-এর সংগ্রাম

১০৩. অতঃপর আমি তাদের পর মুসাকে আমার নির্দেশাবলিসহ ফেরাউন ও তার সভাসদদের কাছে পাঠালাম। বস্তুত তারাও সেই নির্দেশাবলির প্রতি জুলুম করল। সুতরাং চেয়ে দেখো, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কী হয়েছে।

১০৪. আর মুসা বলেছিল, হে ফেরাউন, নিশ্চয়ই আমি বিশ্ব পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত রাসুল।

১০৫. এটা স্থির নিশ্চিত যে আমি আল্লাহর বিষয়ে সত্য ছাড়া অন্য কোনো কথা বলব না। আমি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছি। সুতরাং (হে ফেরাউন) তুমি বনি ইসরাইলকে আমার সঙ্গে পাঠিয়ে দাও।

১০৬. ফেরাউন বলল, (হে মুসা!) যদি তুমি কোনো নিদর্শন নিয়ে এসে থাকো, তাহলে তা উপস্থিত করো, যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকো।

১০৭. অতঃপর মুসা তার লাঠিটি নিক্ষেপ করল এবং তৎক্ষণাৎ তা একটি জলজ্যান্ত অজগরে পরিণত হয়ে গেল।

১০৮. আর সে নিজ হাত (বগল থেকে) বের করল এবং তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের দৃষ্টিতে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল। (সুরা আরাফ, আয়াত : ১০৩-১০৮)

তাফসির : নুহ, হুদ, সালেহ, লুত ও শোয়াইব (আ.)-এর পর আলোচ্য আয়াতগুলোতে প্রাগৈতিহাসিক যুগের নবী মুসা (আ.)-এর জীবনের ঘটনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। এতে ফেরাউনের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন, রাজশক্তির সঙ্গে বিরোধ মোকাবিলার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। মুসা (আ.) ছিলেন ইয়াকুব (আ.)-এর চতুর্থ অধস্তন পুরুষ। তিনি মিসরের বাসিন্দা ছিলেন। মিসরের সম্রাটদের উপাধি ছিল 'ফারাও' বা ফেরাউন। ফেরাউন ছিল সার্বভৌম ক্ষমতার দাবিদার। তার সঙ্গে মুসা (আ.)-এর সংগ্রাম একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

মুসা (আ.) ও ফেরাউনের মধ্যে কথোপকথন

এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে মুসা (আ.) ও মিসরের সম্রাটের মধ্যকার কথোপকথন ও দুটি মোজেজার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে তিনি যে আল্লাহর কাছ থেকে নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে মিসরবাসীকে, বিশেষ করে মিসরের সম্রাটকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আনার জন্য এসেছেন, সে কথাটি ঘোষণা করেছেন এবং বনি ইসরাইলকে জুলুম থেকে মুক্তি দিয়ে তাঁর হাতে সোপর্দ করতে বলেছেন। আর নবী হিসেবে তিনি আল্লাহর যে নির্দেশ ও নবুয়তের প্রমাণ নিয়ে এসেছেন, তা-ও প্রকাশ করেছেন। মূলত বনি ইসরাইলদের প্রতি মিসরের সম্রাট ও মিসরীয় জাতির নেতাদের আচরণ ছিল অন্যায় ও অমানবিক। সম্রাট তার রাজকীয় ফরমান জারি করে দিয়েছিল যে বনি ইসরাইলীয় ঘরে কোনো পুত্রসন্তানের জন্ম হলে তাকে তৎক্ষণাৎ মেরে ফেলতে হবে। তার ওই ফরমান কার্যকর করে বনি ইসরাইলদের ওপর চরম অত্যাচার করা হয়েছিল। সে বনি ইসরাইলের নারীদের দাসী বানিয়ে ব্যবহার করত।

১০৭ ও ১০৮ নম্বর আয়াতে হজরত মুসা (আ.)-এর দুটি মোজেজার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.)-কে জাদুবিদ্যা ও উজ্জ্বল হাত- এ দুটি মোজেজা দান করেছিলেন। সে যুগে জাদুর ব্যাপক প্রচলন ছিল। জাদুটোনা দিয়ে মানুষকে বিমোহিত করা এবং জাদুর কূটকৌশল দেখানোর মধ্যে বীরত্ব ছিল। জাদুকর বা ওঝাদের দ্বারা সম্রাট ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিলেন। এ কারণেই তাঁকে এ ধরনের মোজেজা দেওয়া হয়েছিল। আর উজ্জ্বল হাত মানুষের মনোযোগ আকর্ষণে সহায়ক ছিল।

(তাফসিরে মা'আরেফুল কোরআন ও ইবনে কাছির অবলম্বনে)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা