kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আরেকটি সুযোগ চান কাবরেরা

হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে আট ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতেছে বাংলাদেশ দল। ড্র দুটি এবং হার পাঁচটিতে। এমন পারফরম্যান্সের পর প্রশ্ন উঠেছে কাবরেরার ভবিষ্যৎ নিয়ে। অবশ্য বাংলাদেশে কাজ করার ব্যাপারে আশাবাদী স্প্যানিশ এই কোচ। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স, বাংলাদেশের ফুটবলের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে রানা শেখের সঙ্গে কথা বলেছেন হাভিয়ের কাবরেরা।

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরেকটি সুযোগ চান কাবরেরা

প্রশ্ন : আপনার অধীনে আট ম্যাচে মাত্র একটি জয়, দুটি ড্র। এটাকে সাফল্য, নাকি ব্যর্থতা বলবেন?

কাবরেরা : ফলাফল দিয়ে সব কিছু মূল্যায়ন করা যায় না। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, নিজেকে তুলে ধরতে অবশ্যই ভালো ফলাফল, কিছু পারফরম্যান্স থাকতে হবে। একই সঙ্গে আপনাকে আরো অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে জাতীয় দল কী করেছে, কেমন ছিল, তা জানতে হবে। আমার সময়ে উন্নতির চেষ্টা করেছি। যদিও সেটা ম্যাচের ফলাফল বা খেলায় খুব বেশি দেখা যায়নি। কিন্তু যখন আমি বাংলাদেশে আসি, তখন আমার ধারণা একদম পরিষ্কার ছিল। আমি বলেছিলাম, প্রতিযোগিতামূলক দল গঠন করব। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। আর নেপালের বিপক্ষে ২০ মিনিট খুব খারাপ খেলেছি। আমরা ওই সময়ে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম।

প্রশ্ন : নেপাল ম্যাচে ফুটবলাররা মনোযোগ কেন হারিয়ে ফেলল?

কাবরেরা : নেপালের বিপক্ষে আমরা শুরুটা ভালো করেছিলাম। প্রথম গোল হওয়ার আগেও মনে হচ্ছিল দুই দলের জন্য কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে। জামালের একটি শট ক্রসবারে লাগল, এই গোলটা হলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত। কিন্তু আমরা দুটি গোল খেলাম সেট পিস থেকে। রক্ষণভাগ মোটেও সুসংগঠিত ছিল না, তাদের আরো দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। আসলে মাঝে মাঝে খেলোয়াড়রা মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। এটা ঘটেই থাকে।

প্রশ্ন : খেলোয়াড়রা কি আপনার দেওয়া নির্দেশনা বুঝতে পারেননি?

কাবরেরা : না না, এ রকম কিছু হয়নি। শুরু থেকেই ওদের আমি যা বুঝিয়েছি, বুঝেছে। মাঠেও করে দেখিয়েছে। আমার ধারণাগুলো বাস্তবায়নের জন্য খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। অবশ্য উন্নতির জন্য সময় দরকার। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ দল উন্নতির পথে আছে।

প্রশ্ন : আগে দল নির্বাচনে ম্যানেজমেন্টের হস্তক্ষেপের কথা শোনা যেত। আপনি কেমন দেখেছেন?

কাবরেরা : শুরুতেই আমার পলের (পল থমাস স্মলি, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর) সঙ্গে কথা হয়। টেকনিক্যাল স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে একদম পরিষ্কার ধারণা নিয়ে দল নির্বাচন করেছি। এখন পর্যন্ত যে কয়বার দল নির্বাচন করেছি, তার সবগুলোই আমার সিদ্ধান্তে হয়েছে। বাইরে থেকে কেউ কোনো রকম হস্তক্ষেপ করেনি।

 

প্রশ্ন : যে লক্ষ্য নিয়ে আপনি বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তার কতটুকু পূরণ করতে পারলেন?

কাবরেরা : আমার জন্য কঠিন প্রশ্ন। দেখুন, এখানে এসে প্রথমে আমি বাংলাদেশের সাম্প্র্রতিক ম্যাচগুলো পর্যবেক্ষণ করি। স্কোয়াডে যারা ছিল তাদের ভিডিও দেখে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই যে, এই দলকে আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তৈরি করতে হবে। আমি মনে করি, আমার অধীনে কিছু ম্যাচে সেটা (প্রতিদ্বন্দ্বিতা) করতে পেরেছি, আবার কিছু ম্যাচে পারিনি। অবশ্যই আমিও আরো ভালো ফলাফল আশা করেছিলাম।

প্রশ্ন : ডিসেম্বরে আপনার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আপনি কি চান বাংলাদেশে আরো কাজ করতে?

কাবরেরা : আমি এখানে কাজ করার ব্যাপারে আশাবাদী। আমি মনে করি, চুক্তি নবায়ন হলে সবার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে পল স্মলি ও কাজী সালাউদ্দিন যা চায়, আমিও সেটাই চাই। আমাদের লক্ষ্য এক জায়গায় মিলে যায়। আশা করি, সামনে আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারব। বাংলাদেশের ফুটবল উন্নতি করছে। ছেলেদের বয়সভিত্তিক দল ভালো করছে। মেয়েরা তো দুর্দান্ত করছে। আমি এসবের অংশ হতে চাই।

প্রশ্ন : আপনি যদি আরেকবার সুযোগ পান, তখন লক্ষ্য কী থাকবে?

কাবরেরা : লক্ষ্য একটাই, উন্নতি করতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য প্রতিভাবান ফুটবলার খুঁজে বের করতে হবে। জাতীয় দলের বাইরে যত প্রতিভাবান ফুটবলার থাকবে, তত ভালো করার সুযোগ থাকবে। সেটা নিয়েই কাজ করব।

প্রশ্ন : প্রায় ১০ মাস এখানে আছেন। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

কাবরেরা : বাংলাদেশের ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা নারী দলের কথাই বলতে পারি। এ ছাড়া অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ দলের দিকে তাকালে দেখবেন তারা ভালো করছে। ভবিষ্যতের জন্য ভালো কাঠামো তৈরি করছে বাফুফে। নতুন মৌসুমের পরিকল্পনা এবার অনেক সাহায্য করবে। আরো আকর্ষণীয় ফরম্যাট করা হয়েছে। ঘরোয়া ফুটবল প্রতিদ্বনিন্দ্বতামূলক হচ্ছে। স্থানীয় খেলোয়াড়রা অনেক ভালো করছে। ভালো মানের বিদেশি আসছে, তারা মান বাড়াচ্ছে। আমি বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছি।



সাতদিনের সেরা