kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নিজেদের পাতা ফাঁদেই আটকাল বাংলাদেশ

৪ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিজেদের পাতা ফাঁদেই আটকাল বাংলাদেশ

ছবি : আশকার আমিন রাব্বি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পাকিস্তানকে হারানোর জন্য বাংলাদেশের স্পিনাররাই যথেষ্ট, আগের দিন অলরাউন্ডার রুমানা আহমেদ তা জোর গলায়ই বলেছিলেন। সে জন্য সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ধীরগতির নিচু বাউন্সের উইকেটও তাঁদের এমন ভরসার জায়গা ছিল যে পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে স্পিনসজ্জা বাড়িয়েই নেমেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই চেনা ছক হিতে বিপরীত হলো। বৃষ্টি আর মেঘলা আবহাওয়া মিলিয়ে সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ম্যাচে বড্ড স্যাঁতসেঁতে উইকেটে টস হেরে নিগার সুলতানাদের নামতে হলো ব্যাটিংয়ে।

বিজ্ঞাপন

শুরু থেকেই পাকিস্তানি স্পিনাররা যেমন টার্ন পেতে শুরু করলেন, তেমনি বাংলাদেশের ব্যাটারদের নিজেদের পাতা ফাঁদে ফেলতে বেশ কিছু বল গোড়ালি উচ্চতায় তাঁদের দিকে ধেয়েও গেল। একাধিক ড্রপে বল উইকেটরক্ষকের কাছে যাওয়াই বুঝিয়ে দেয় এ রকম উইকেটে ব্যাটিং করা কতটা কঠিন! সেই কঠিন কাজটি নিজেরাও কম কঠিন করলেন না নিগার সুলতানারা। এমন উইকেটে যেখানে সোজা ব্যাটে খেলাই নিরাপদ, সেখানে তাঁরা একের পর এক খেলতে থাকলেন আড়াআড়ি শট। ফলাফল যা হওয়ার কথা ছিল, হলোও তা-ই!

২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে কোনোমতে ৭০ রান জমা করতেই নির্ধারিত হয়ে যায় ম্যাচের ফল। রান তাড়ায় ৪৬ বল বাকি থাকতেই ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় বিসমাহ মারুফের দল। এই হার নিজেদের মাঠে এশিয়া কাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে বড় এক ধাক্কাই। তাই বলে একেবারে নিরাশ হওয়ারও কিছু নেই। বিশেষ করে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে জেতা এশিয়া কাপ থেকেই এই পরিস্থিতিতে অনুপ্রেরণা নেওয়া যেতে পারে। সেবার শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেই আসর শুরু করেছিলেন সালমা খাতুনরা। একই ম্যাচে মাত্র ৬৩ রানে অল আউট হওয়ার লজ্জায়ও ডুবেছিলেন মেয়েরা। তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েই পরে শিরোপা জেতার পথে তারা মেয়েদের ক্রিকেটের পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তানকে হারায়। ফাইনালেও আরেক দফা হারায় ভারতকে। এবার থাইল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়ে শুরু করা স্বাগতিকদের পাকিস্তানের কাছে হেরে হোঁচট খাওয়ার পরও ফিরে আসার সুযোগত আছে তাই। কিন্তু দেশের মাঠে মন্থর গতি ও নিচু বাউন্সের উইকেট বেছে নেওয়ার জন্য এখন সমালোচনাও শুনতে হচ্ছে তাদের।

৭১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৩৫ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংস খেলা পাকিস্তানি ওপেনার সিদরা আমিন যেমন সরাসরিই বলে দিয়েছেন, ‘আমার মনে হয়, ১০০ বা ৮০, এমনকি ৭০ রানও হয়তো এই উইকেটে জেতার জন্য যথেষ্ট। কারণ বল টার্ন করছিল। যে বোলারই ঝুলিয়ে বল করছিলেন, টার্ন পাচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বলও নিচু হচ্ছিল। এখানে শট খেলা খুব কঠিন। এটি অবশ্যই টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ উইকেট নয়। ’ আদর্শ না হলেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য এ রকম উইকেটে কিভাবে খেলতে হয়, সেই শিক্ষা নেওয়ার আছে সিদরার ব্যাটিং থেকেও, ‘খেলোয়াড় হিসেবে যেকোনো উইকেটেই মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে। ’

মানিয়ে নিয়ে স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা সোজা ব্যাটে না খেলে বরং খেলতে থাকলেন আড়াআড়ি। তাঁরা খেলতে থাকলেন পুল, ফ্লিক আর সুইপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ শট। তাতে একের পর এক বিপদও ধেয়ে আসতে থাকল। কিন্তু একজনের ব্যর্থতা থেকে আরেকজন শিক্ষা নিলেন না বলেই পরের জন্য পাতা ফাঁদ উল্টো আটকে ফেলল তাঁদেরই। তাও ভালো যে অভিজ্ঞ সালমা খাতুন ২৯ বলে অপরাজিত ২৪ রানের ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। না হলে যে ৭০-ও হয় না!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ নারী দল : ২০ ওভারে ৭০/৮ (সালমা ২৪ *, নিগার ১৭, লতা ১২; ডিয়ানা ২/১১, নিদা ২//১৯)।

পাকিস্তান নারী দল : ১২.২ ওভারে ৭২/১ (সিদরা ৩৬*, মুনীবা ১৪, বিসমাহ ১২*; সালমা ১/২৭)।

ফল : পাকিস্তান নারী দল ৯ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : সিদরা আমিন।



সাতদিনের সেরা