kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাংলাদেশকে এখন কেউ হালকাভাবে নেবে না

সাবেক কোচ মোস্তফা কামাল কিংবা ইয়াদ আলীর মতো সাবেক তারকা খেলোয়াড়ের মতেও দেশের ভলিবলকে বদলে দেওয়ার কারিগর আলিপোর আরোজি। ইরানি এই কোচের অধীনেই জাতীয় দলের খেলায় লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এসেছে সাফল্য। এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন ভলিবলে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা বা যুব এশিয়ান ভলিবলে পঞ্চম হওয়া তারই স্বাক্ষর। সেই আরোজিই বাংলাদেশে তাঁর কোচিং অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন খোলাখুলি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহজাহান কবির।

১ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশকে এখন কেউ হালকাভাবে নেবে না

চাইলে আমি একটা বই লিখতে পারব। একটা উদাহরণ দিই। ভলিবলে পাঁচটি পজিশনের যে ভূমিকা, এবং কোর্টে অনেকটা গাণিতিকভাবে সেগুলো যেভাবে কাজ করে, এই সম্বন্ধে কোনো ধারণাই ছিল না এখানে। এই সময়ের মধ্যে সেখান থেকে এতটা বদল আনতে পারব, নিজেও ভাবিনি।

প্রশ্ন : অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান ভলিবলে অসাধারণ ফলের জন্য আপনাকে অভিনন্দন।

আলিপোর আরোজি : আমিও অভিনন্দন জানাতে চাই এই সাফল্যের পেছনে আর যারা যারা কাজ করেছে সবাইকে। এশিয়ার সব শক্তিশালী দলের টুর্নামেন্ট ছিল এটি। সেখানে আমরা চীন, জাপানের মতো দলকে পেছনে ফেলেছি।

বিজ্ঞাপন

স্বাগতিক বাহরাইন, ইরাক, পাকিস্তানও ছিল আমাদের পেছনে। চীন, জাপান এর আগে একাধিকবার এই আসরের শিরোপা জিতেছে। সেখানে আমরা জানান দিয়েছি—বাংলাদেশও উঠে আসছে।

প্রশ্ন : অথচ বাহরাইন যাওয়ার আগে আপনি কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারেননি...

আরোজি : কারণ এটা অনেক বড় টুর্নামেন্ট। এখানে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলো টুর্নামেন্টের আগে মাসখানেকের নয়, বরং কোনো কোনো দল তিন বছরের প্রস্তুতি নিয়ে আসে। চ্যাম্পিয়ন ইরান তৈরি হয়েছে চার বছর ধরে। তারা এর আগে অনূর্ধ্ব-১৮ খেলেছে। থাইল্যান্ডে সিনিয়রদের আসর এভিসি কাপ খেলেছে। সেখান থেকেই সরাসরি এসেছে বাহরাইনে। থাইল্যান্ডে হয়তো ভালো পজিশন ওই অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে এশিয়ান জুনিয়রে চ্যাম্পিয়ন হতে। আমাদের প্রস্তুতি তো ছিল মোটে এক মাসের। তবে এই তরুণ খেলোয়াড়রা ভীষণ মেধাবী, পরিশ্রম করেছে যেভাবে বলেছি। আমি একটা পরিকল্পনা করেছিলাম। অনেক কঠিন পরিস্থিতিতেও তা মেনে চলার চেষ্টা করেছে খেলোয়াড়রা।

প্রশ্ন : সামনে এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন টুর্নামেন্টেও নিশ্চয় সাফল্যটা ধরে রাখতে চান...

আরোজি : এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টের আয়োজক। ইরান যাাচ্ছি আমরা, সেখানে এই টুর্নামেন্টের জন্য বেশ কিছু প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চাই। এটা খুবই দরকার। এশিয়ায় শক্তিশালী দল চীন, জাপান, ইরান, কোরিয়া বা পাশের ভারত। ভারতেও আমরা এ রকম সফর করতে পারি। সে ক্ষেত্রে খরচও কমবে। কিন্তু আমি যত দূর জেনেছি, ওরা (ভারত) মুখে মুখে এ ধরনের প্রস্তাবে আগ্রহ দেখালেও কার্যত কোনো উদ্যোগ নেয় না।

প্রশ্ন : সে জন্য বারবার ইরানেই?

আরোজি : বলতে পারেন। এটা থাইল্যান্ডেও হতে পারে। আমাদের খেলোয়াড়দের আরো সুযোগ, আরো অনেক অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সে জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর বিকল্প নেই। ঘরে বসে থাকলে উন্নতি হবে না। বাইরে থেকে অনেক ধ্যান-ধারণা নিয়ে আসা যায়। আমি টিভিতে দেখি, এখানকার ক্রিকেট অনেক সক্রিয়। বাইরের দলগুলো যেমন—ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এখানে আসছে। বাংলাদেশ আবার তাদের দেশে গিয়ে খেলছে। উন্নতির জন্য এটাই প্রয়োজন।

প্রশ্ন : এখানে আসার আগে ক্রিকেট সম্বন্ধে জানতেন?

আরোজি : না, না। একদমই না। কিন্তু এখানে এসে এই খেলাটায় আমি পেশাদারি দেখছি।

প্রশ্ন : ভলিবলে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান?

আরোজি : বাংলাদেশের ভলিবল এখন সামনে এগোচ্ছে। এবারের টুর্নামেন্টের পর বাংলাদেশের কোচ হিসেবে আমি অনেক শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছি বিভিন্ন দেশ থেকে। এখন কেউ বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেবে না। তবে আমি চাই বাংলাদেশ একটা শক্তিশালী লিগের পরিকল্পনা করুক। পৃষ্ঠপোষক আসুক ভলিবলে। আরো কার্যক্রম দেখতে চাই।

প্রশ্ন : সবাই বলছে, বাংলাদেশে ভলিবলটাকে বদলে দিয়েছেন আপনি, আপনার চোখে বদলটা কী কী?

আরোজি : হা, হা। এটা নিয়ে চাইলে আমি একটা বই লিখতে পারব। একটা উদাহরণ দিই। ভলিবলে পাঁচটি পজিশনের যে ভূমিকা, এবং কোর্টে অনেকটা গাণিতিকভাবে সেগুলো যেভাবে কাজ করে, এই সম্বন্ধে কোনো ধারণাই ছিল না এখানে। এই সময়ের মধ্যে সেখান থেকে এতটা বদল আনতে পারব, নিজেও ভাবিনি।

 

 

 



সাতদিনের সেরা