kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দামে বেশি মানে কম

নেপাল থেকে মাথা নিচু করে ফিরেছেন জামাল ভূইয়ারা। হারে গ্লানি থাকে; কিন্তু ২০ লাখ নেপালি রুপির এক ফুটবলারের কাছে যখন বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ফুটবলার সর্বস্বান্ত হয়ে ফেরেন তখন অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। জামাল-রহমত-টুটুলদের মানের সঙ্গে দামের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না যে!

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দামে বেশি মানে কম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নেপাল থেকে মাথা নিচু করে ফিরেছেন জামাল ভূইয়ারা। হারে গ্লানি থাকে; কিন্তু ২০ লাখ নেপালি রুপির এক ফুটবলারের কাছে যখন বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ফুটবলার সর্বস্বান্ত হয়ে ফেরেন তখন অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। জামাল-রহমত-টুটুলদের মানের সঙ্গে দামের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না যে!

২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের মিডফিল্ডার আরমান মিয়া প্রশ্ন তুলেছেন, ‘নেপালের কোনো ফুটবলার ২০ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ শেষ করে দিলে বাংলাদেশ ফুটবলের মান কোথায় থাকে? খেলা দেখে মনে হয়েছে, আমাদের ফুটবলাররা লক্ষ্যহীন। তারা বোধ হয় দেশের ফুটবল ইতিহাসই জানে না!’ নেপালের সঙ্গে এভাবে কখনো হারেনি বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

হারলেও লড়াই করেছে; কিন্তু ২৭ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে কোনো লড়াই হয়নি। নেপালের অঞ্জন বিস্তা ম্যাচের ১৮ থেকে ৩৮ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করে ধসিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। এটাই অবিশ্বাস্য ঠেকেছে অনেকের কাছে। তখনই প্রশ্নটা ওঠে, লাল-সবুজের ফুটবল মান কি এত পড়ে গেছে? সাফজয়ী দলের স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদের জবাব, ‘মান যে নেমে গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ জন্য মাঠে খেলা দেখার দরকার নেই, ভালো খেললে তাদের নিশ্চয়ই এই সমাজের অনেকে চিনত, কদর করত। মনে দাগ কাটার মতো কিছু খেলতে পারেনি। ’

এই ম্যাচে বিশেষভাবে দাগ কেটেছেন অঞ্জন বিস্তা। ২০২১-২০২২ মৌসুমে এই নেপালি ফরোয়ার্ড খেলেছেন মানাং মার্সিয়াংদিতে, পারিশ্রমিক নেপালি টাকায় মাসে দুই লাখ রুপি করে। কাঠমাণ্ডু পোস্টের সাংবাদিক প্রোজ্জ্বল ওলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ফুটবল মৌসুম চলে মাত্র ছয় মাস। টেনেটুনে সাত মাস ধরলেও ক্লাব থেকে তাঁর আয় ১৪ লাখ রুপি। সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কিছু আয় ধরলে সর্বমোট ২০ লাখ রুপির মতো দাঁড়ায়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আরো কম। এই অঞ্জনই নেপালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার। অথচ বাংলাদেশ দলে তাঁর চেয়ে কম দামি একজন ফুটবলারও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বরং একেকজন অনেক উচ্চমূল্যের পারিশ্রমিক পান বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাব থেকে। ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ফুটবলারও খেলেছেন লাল-সবুজের জার্সিতে। সেই তাঁরাই কিনা হার মেনেছেন মাত্র ২০ লাখ নেপালি রুপির এক ফুটবলারের কাছে! অর্থ-বিত্তে এগিয়ে থাকলেও জামালরা অনেক পিছিয়ে ফুটবল মানে।

তারকা ফুটবলার আরমান মিয়া বিশ্বাস করেন, ‘কোটি টাকা দিয়ে সুপারস্টার বানানো যায় না। কাউকে যোগ্যতার চেয়ে বেশি টাকা দিলে তার আর উন্নতির তাড়না থাকে না। এখন কোনো ফুটবলারকে দেখি না, নিজের উন্নতির জন্য আলাদা ট্রেনিং করতে। ’ বাংলাদেশের ক্লাবগুলো এখনো ফুটবল ভালোবাসে, দল গড়তে প্রচুর অর্থ খরচ করে। খেলোয়াড়রা এমন চড়া দাম হাঁকান, ক্লাবগুলোরও কোনো উপায় থাকে না। সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড আলফাজ আহমেদ ক্লাব কোচিংয়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, ‘ফুটবলার কম বলেই এত দাম হয়েছে। প্রতিটা পজিশনে একজন করেও ভালোমানের বিকল্প ফুটবলার পাবেন না। আগে এক পজিশনের জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন তিন-চারজন। ঢাকার বাইরের ফুটবল মরে যাওয়ায় খেলোয়াড় সংখ্যা কমে গেছে। তাই ফুটবলের ধারাও নষ্ট হয়ে গেছে। ’

আলফাজ ধন্যবাদ দিচ্ছেন সালাউদ্দিনকে জাতীয় দলকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় জন্য। আর আক্ষেপ করেন নিজেদের অতীতের কথা ভেবে। সে সময় জাতীয় দলের জন্য এত আয়োজন ছিল না। তবে সে সময় ছিল ফুটবলের দারুণ ‘পাইপলাইন’, সেটা কাটা পড়ায় ভেস্তে যাচ্ছে লাল-সবুজের সব আয়োজন।

 



সাতদিনের সেরা