kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

৩-১ ব্যবধানেই শোধ নিল নেপাল

১৮ মিনিট থেকে উল্টো ধারায় চলতে থাকে ম্যাচ। এই উল্টোযাত্রার গতি এতটাই যে মাত্র ২০ মিনিটে অঞ্জন বিস্তার হ্যাটট্রিকে ছেলেদের ফুটবলে বাংলাদেশের হতশ্রী চেহারা বেরিয়ে আসে আরেকবার।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফুটবলের সুসময়কে পণ্ড করে দেওয়ার জন্য তাঁরা তৈরিই থাকেন। মেয়েদের অমন বীরোচিত ফুটবলের পর দেশে যখন ফুটবলের একটা ইতিবাচক হাওয়া তৈরি হয়েছে, তখনই জামাল ভুঁইয়ারা ৩-১ গোলে হেরেছেন নেপালের কাছে। হেরেছেন আসলে হ্যাটট্রিকম্যান অঞ্জন বিস্তার কাছে। ঠিক যেন মেয়েদের সাফ হারের প্রতিশোধ নিয়েছেন এই নেপালি ফরোয়ার্ড!

অথচ নেপালকে হারানো কত সহজ, সেটা কিছুদিন আগে দেখিয়েছেন সাবিনারা।

বিজ্ঞাপন

দশরথ রঙ্গশালায় স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে ৩-১ ব্যবধানে ফাইনাল জিতে মেয়েদের ফুটবলে আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের আসন নেয় বাংলাদেশ। সেই দলের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই নাকি দশরথ রঙ্গশালায় নেমেছিলেন জামাল ভুঁইয়ারা। কিন্তু প্রেরণাদায়ী ফুটবল খেলেছেন মাত্র ১৭ মিনিট। শুরুর ওইটুকু সময়ে হাভিয়ের কাবরেরার দল খেলেছে প্রতিপক্ষের অর্ধে। খানিক চাপও তৈরি করেছিল নেপালের ওপর। এর মধ্যে জামালের একটি ফ্রি কিক ফিরে আসে নেপালের ক্রসবারে লেগে। দৃশ্যটা আপাত হতাশার হলেও আশা ছিল খেলার ধারায়, যেকোনো সময় হয়তো গোলের দেখা পেয়ে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি, ১৮ মিনিট থেকে উল্টো ধারায় চলতে থাকে ম্যাচ। এই উল্টোযাত্রার গতি এতটাই যে মাত্র ২০ মিনিটে অঞ্জন বিস্তার হ্যাটট্রিকে ছেলেদের ফুটবলে বাংলাদেশের হতশ্রী চেহারা বেরিয়ে আসে আরেকবার।

হাভিয়ের কাবরেরার ‘ফিফটি-ফিফটি’ ম্যাচটি শেষ হয়ে যায় প্রথমার্ধেই! তিন গোল খাওয়ার পর ম্যাচের কিছু আর বাকি থাকে না। কয়েক বছরে বাংলাদেশ ফুটবলের রক্ষণভাগের যে সুনাম তৈরি হয়েছিল, টুটুল-বিশ্বনাথ-রহমত মিলে সেসব ধুয়ে মুছে দিয়েছেন এক ম্যাচে। স্প্যানিশ কোচের অধীনে লম্বা ট্রেনিংয়ের পর শিশুসুলভ ফুটবল খেলেছেন রক্ষণভাগে। ১৮ মিনিটে বিমলের মাপা ফ্রি কিকে কয়েক বাংলাদেশি লাফিয়েও নাগাল পাননি। অথচ তাঁদের ভেতর থেকে অঞ্জন ঠিকই মাথা ছুঁয়েছেন এবং বল পাঠিয়েছেন লক্ষ্যে। ২৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের সূত্রপাতও অকার্যকর রহমতের ডান দিক থেকে। বিশাল রাইয়ের ক্রস বক্সের ভেতরে ধরে বিমল এগিয়ে দেন তেজ তামাংয়ের দিকে। তাঁর জোরালো শট আনিসুর ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ফেরালেও ফিরতি বলে অঞ্জনের নিখুঁত প্লেসিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেপাল। ৩৮ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বিশালের ফ্রি কিকে লক্ষ্যভেদী হেডে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন অঞ্জন। ২০ মিনিটের এই ‘অঞ্জন ঝড়ে’ই লণ্ডভণ্ড লাল-সবুজের ছেলেদের ফুটবল। কম্বোডিয়াকে হারিয়ে ‘আত্মবিশ্বাসে ভরপুর’ হাভিয়ের কাবরেরার দলের রক্ষণভাগের হাড়গোড় বেরিয়ে গেছে নেপালে।

কম্বোডিয়ার কাছে কখনো হারেনি বাংলাদেশ। সেই তাদের হারানোর আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি বানিয়েই কি ভুল করেছেন জামাল ভুঁইয়ারা? নইলে এমন হতশ্রী ফুটবল কেন খেললেন তাঁরা? বিরতির পর ব্যবধান আরো লজ্জাকর হতে পারত। ৫২ মিনিটে আরেকটি গোলের আয়োজন প্রায় করেই ফেলেছিল নেপালিরা। রক্ষণের ভুল-বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে তেজ তামাং নিয়েছিলেন কোনাকুনি শট। তাতে গোলরক্ষক আনিসুর পরাস্ত হলেও বল পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যাওয়ায় রক্ষা হয়েছে। তখনো পর্যন্ত ম্যাচে দাপট স্বাগতিকদেরই। টানা তিনটি পাসও নিখুঁত হচ্ছিল না জামাল-বিপলুদের। ৫৫ মিনিটে একটি গোল অবশ্য ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। সেই গোল সফল একটি প্রতি-আক্রমণের ফসল। ঝোড়ো গতিতে রাকিব হোসেন উঠে ক্রস ফেললে সাজ্জাদের লক্ষ্যভেদী হেডে ব্যবধান কমে ম্যাচে। বাংলাদেশি মেয়েরা যে স্কোরলাইনে নেপালকে হারিয়েছিল, সেটাই ফিরিয়ে দিয়েছে জামাল ভুঁইয়াদের।



সাতদিনের সেরা