kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ফিরেই আরেক শিরোপায় চোখ নিগারের

আবুধাবিতে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গতকাল সকালে দেশে ফেরার পর ফুলেল অভ্যর্থনাই পেলেন তাঁরা। যদিও এই শিরোপায় বুঁদ হয়ে থাকার সুযোগ খুব একটা নেই মেয়েদের। দু-এক দিন বিশ্রাম নিয়েই তাঁদের আবার ছুটতে হবে সিলেটে। আবুধাবির পর সেখানেও তো যেতে হচ্ছে একই চ্যালেঞ্জ নিয়ে।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিরেই আরেক শিরোপায় চোখ নিগারের

ছবি : কালের কণ্ঠ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসার সময় সর্বক্ষণই সদ্য জয় করা ট্রফিটা শোভা পেল নিগার সুলতানার হাতে। আবুধাবিতে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গতকাল সকালে দেশে ফেরার পর ফুলেল অভ্যর্থনাই পেলেন তাঁরা। যদিও এই শিরোপায় বুঁদ হয়ে থাকার সুযোগ খুব একটা নেই মেয়েদের। দু-এক দিন বিশ্রাম নিয়েই তাঁদের আবার ছুটতে হবে সিলেটে।

বিজ্ঞাপন

আবুধাবির পর সেখানেও তো যেতে হচ্ছে একই চ্যালেঞ্জ নিয়ে।

চ্যালেঞ্জটি শিরোপা ধরে রাখার। বাছাই পর্বে আগের দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য বরং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি অপেক্ষায় ১ অক্টোবর থেকে সিলেটে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া কাপেই। সহযোগী সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে লড়াই বলে আবুধাবিতে নিগারদের টানা তৃতীয়বার মুকুট মাথায় পরা প্রত্যাশিতই ছিল একরকম। তবে আসন্ন এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা সামনে পাবে পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তানকে। মেয়েদের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কাকেও তাচ্ছিল্যের চোখে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই বাছাই পর্বের শিরোপা জিতে আসা নিগারদের একেকটি আগুনে লড়াইয়ের জন্যই তৈরি থাকতে হচ্ছে।

২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সর্বশেষ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির শিরোপা জেতার পথে অবশ্য এ রকম বড় সব বাধা পেরোনোর শিক্ষাটা নিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। সেবার শুধুই খেলোয়াড় নিগার এবার অধিনায়ক হিসেবে আরেকটি এশিয়া কাপে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরুর আগে প্রবল আত্মবিশ্বাসী। দেশে ফিরেই তিনি চোখ রাখলেন ১৫ অক্টোবরের শেষ বিকেলে। সেদিনই তো সিলেটে এশিয়া কাপের ফাইনাল।

নিজের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার আগাম ছবিও কল্পনা করে থাকবেন হয়তো বা। কিছুদিন আগে নেপালে সাফ ফুটবল বিজয়ী মেয়েরা তাঁদের এশিয়া কাপ জেতার অনুপ্রেরণা কি না, এমন প্রশ্নও হলো। নিগার অবশ্য ২০১৮-র এশিয়া কাপ জয় থেকে অনুপ্রেরণা নিতে আগ্রহী হলেন বেশি, ‘আমি আমাদের দিক থেকেই চিন্তা করছি। কারণ আমরা কিন্তু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। আমাদের দলে অনেকেই আছে, যারা এশিয়া কাপ খেলেছে। সুতরাং সবাই অভিজ্ঞ। আমার মতে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে না আর কিছুই। ’ এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা যদি দূর অতীতও হয়, বাছাই পর্বের শিরোপার স্মৃতি তো একদমই টাটকা। নিগার বলছেন, এই ট্রফিও অনুপ্রেরণার অফুরান উৎস, ‘সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলো আমরা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করে এসেছি। এই সাফল্য পুরো দলকেই উদ্দীপ্ত করছে। ’

উদ্দীপনার ব্যাপার আছে আরো। খেলা তো এবার দেশের মাটিতেই। তাই ট্রফি জেতার বাড়তি বিশ্বাসের কথাও বলতে শোনা যাচ্ছে নিগারকে, ‘ঘরের মাঠে যেহেতু খেলা, নিজেদের এগিয়ে রাখাই উচিত। (শিরোপা ধরে রাখার আশাবাদ) ১১০ পারসেন্ট অবশ্যই। একেই আমাদের মাঠে খেলা, তার ওপর দলও খুব ভালো অবস্থায় আছে। তাই চাইব ঘরের মাঠের ট্রফি যেন ঘরেই থাকে। ’ মাত্রই বাছাই পর্ব খেলে আসায় ম্যাচ প্রস্তুতির দিক থেকেও নিজেদের যথেষ্ট প্রস্তুত বলেই দাবি করলেন নিগার, ‘আমি বলব, এটি (বাছাই পর্ব) আমাদের জন্য সেরা প্রস্তুতি ছিল। কারণ ম্যাচ প্রস্তুতির চেয়ে ভালো কোনো প্রস্তুতি হতে পারে না। তা ছাড়া আমরা ম্যাচও খেলে এসেছি এই সংস্করণেরই। এশিয়া কাপে তাই এটি খুব কাজে লাগবে। দলও আমাদের প্রায় একই আছে। ’ নিজ দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটি চিনিয়ে দিতেও ভুললেন না অধিনায়ক, ‘আমাদের দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় চায় অবদান রাখতে। এটি কিন্তু একটি দলের জন্য অনেক ভালো বিষয়। এতে যেটা হয়, কেউ একজন ব্যর্থ হলেও অন্যরা দলের জন্য কিছু একটা করতে দাঁড়িয়ে যায়। ’



সাতদিনের সেরা