kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিদেশির সংকটে ছাড়ের বিপিএল

আসন্ন আসরে একেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যত খুশি তত বাইরের ক্রিকেটার নিবন্ধন করাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সব বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার কথা জানাতে গিয়ে নিরুপায়ই মনে হলো বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিককে।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশির সংকটে ছাড়ের বিপিএল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জানাই ছিল যে আগের মতো আর বিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারের ঢল নামবে না। বরং এমন সংকট তৈরি হবে যে উঁচু দরের ভিনদেশি কাউকে আনাই মুশকিল হয়ে যাবে। সংকটে টিকে থাকার চেষ্টায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) তাই বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধনে বড় রকমের ছাড় দিতে বাধ্য হচ্ছে। আসন্ন আসরে একেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যত খুশি তত বাইরের ক্রিকেটার নিবন্ধন করাতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

এ ক্ষেত্রে সব বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার কথা জানাতে গিয়ে নিরুপায়ই মনে হলো বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিককে, ‘বিদেশি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনে এবার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখব না। একেবারে উন্মুক্ত রাখব। ধরুন, কেউ তিন দিনের জন্য এসে খেলে গেল, তার বদলি হিসেবেও আরেকজনকে নেওয়া যাবে। ’

আগামী ৫ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে বিপিএলের পরবর্তী আসর। ৪৩ দিনের টুর্নামেন্টে মাত্র তিন দিনের জন্য হলেও নামি কোনো ক্রিকেটারকে দেখতে চাওয়ার আকুতিও স্পষ্ট। এতটা হাহাকারের কারণ একই সময়ে বিশ্বজুড়ে মাঠে গড়াবে আরো তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোড়ন তুলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি। অর্থের ঝনঝনানিতে যেটি শুরুর আগেই ভারতের আইপিএলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ লিগের মর্যাদা পেয়ে যাচ্ছে। সেখানেই শুধু নয়, আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন একই সময়ে প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া এসএ (সাউথ আফ্রিকা) টি-টোয়েন্টিতেও। নতুন এই দুই আসরের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ তো আছেই। আমিরাত আর দক্ষিণ আফ্রিকার লিগই মূলত টি-টোয়েন্টির শীর্ষ থেকে শুরু করে মাঝারি মানের ক্রিকেটারদের টেনেছে বেশি। এই বাস্তবতায় আবার বিপিএল পেছানোরও উপায় নেই কোনো। দুয়েমিলে সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ বন্ধ বিসিবির। ইসমাইলও বলছিলেন সে কথাই, ‘আপনারা জানেন দক্ষিণ আফ্রিকা ও আমিরাতের লিগে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিরাই দল নিয়েছে। বেশির ভাগ বিদেশি ক্রিকেটার ওই দুই লিগেই চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেছে। আমরাও জাতীয় দলের ব্যস্ততার জন্য বিপিএল এগিয়ে আনা বা পিছিয়ে দেওয়া, কোনোটিই করতে পারছি না। ’ তাই পূর্বঘোষিত সময়েই হচ্ছে বিপিএল। যাতে আগের মতোই প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি খেলানো যাবে। খেলোয়াড়সংকট থাকায় এবারের নিয়মে সংযোজন বলতে একাদশে সর্বনিম্ন দুজন বিদেশি রাখতে হবে।

স্থানীয় খেলোয়াড় মূলত ড্রাফট থেকে নিতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে। ড্রাফটের বাইরে থেকে একজনের সঙ্গে কেবল সরাসরি চুক্তি করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নির্ধারিত হবে খেলোয়াড় ও ফ্র্যাঞ্চাইজির সমঝোতার ভিত্তিতেই। নামি ক্রিকেটারদের চুক্তি সরাসরি হবে ধরে নিয়ে এবার ‘আইকন’ ক্রিকেটারও রাখা হচ্ছে না। ড্রাফটে অবশ্য দেশি-বিদেশি সবার পারিশ্রমিকের একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। বিদেশিদের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ধরা হচ্ছে ৮০ লাখ টাকা। দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকও বিদেশিদের সমান। বাকি ছয় ক্যাটাগরির পারিশ্রমিক যথাক্রমে ৫০, ৩০, ২০, ১৫, ১০ ও পাঁচ লাখ টাকা। ড্রাফটের আগে বেছে নেওয়া সাত ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে বিসিবি। এই সময়ের মধ্যে আগামী তিন বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি ফির (প্রতি বছর দেড় কোটি করে) পাশাপাশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের গ্যারান্টি মানিও দিতে বলা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা