kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

তাঁদের লড়াই, এগিয়ে যাওয়া

বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে দুজনের সর্বশেষ লড়াই দেখে স্মিত হাসি কোচ নজরুল ইসলাম রুমির মুখে, ‘এটা দারুণ ব্যাপার। দুজন লড়াই করে নিজেদেরকেই আরো এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। খুবই উপভোগ্য এটি। আমাদের জন্যও ভালো খবর।’

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাঁদের লড়াই, এগিয়ে যাওয়া

রিতু আক্তার ও উম্মে হাফসা রুমকি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুজন দুই প্রান্তে। সেনাবাহিনীর ক্যাম্প বনানী স্টেডিয়ামের পূর্ব প্রান্তে তো, পশ্চিম প্রান্তে নৌবাহিনীর। অ্যাথলেটিকসের ট্র্যাকে, মাঠেও দুই দলের লড়াই দারুণ হাড্ডাহাড্ডি। এবারই যেমন ২০ সোনা জিতে নৌবাহিনী চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু সেনা দলও কম যায়নি, তারা জিতেছে ১৯টি। উম্মে হাফসা রুমকি ও রিতু আক্তারের মধ্যেও সেই দূরত্ব, একই প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তবে দুজন আবার একও।

দুজন মিলেই যে বাংলাদেশে মেয়েদের হাই জাম্পটাকে তুলে নিচ্ছেন নতুন উচ্চতায়। দুজনের মধ্যে প্রথম রুমকি ২০১৯ সালে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন ১.৬৮ মিটার লাফিয়ে। ২০২১ সালে এসে রিতু তা ভেঙে দেন ১.৭০ মিটার পার করে। এ বছরের জানুয়ারিতেই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রুমকি সেই রেকর্ড পুনরুদ্ধার করেন ১.৭১-এ। কিন্তু রিতু কিছুদিন আগে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে আবার তাঁকে ছাড়িয়ে যান, এবার তিনি লাফান ১.৭৩ মিটার। গল্পের সর্বশেষ অঙ্ক মঞ্চস্থ হয়েছে গত পরশু শেষ হওয়া সামার মিটে। যেখানে ১.৭৪ মিটার পেরিয়েছেন রুমকি। আবার তাই ভেঙেছে রিতুর রেকর্ড। বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে দুজনের সর্বশেষ এই লড়াই দেখে স্মিত হাসি কোচ নজরুল ইসলাম রুমির মুখে, ‘এটা দারুণ ব্যাপার। দুজন লড়াই করে নিজেদেরকেই আরো এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। খুবই উপভোগ্য এটি। আমাদের জন্যও ভালো খবর। ’

যে দুজন এমন করে প্রতিনিয়ত একজন আরেকজনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন, তাঁরা কী ভাবছেন? সেনাবাহিনীর রিতুর উত্তর, ‘রুমকি ভালো করলে আমাকে সেই চ্যালেঞ্জটা নিতেই হয়। আমার মধ্যেও একটা বিশ্বাস তৈরি হয় যে, আমিও পারব। এমনটা হয়তো ওর ক্ষেত্রেও হয়। এভাবে হয়তো আমরা দুজন দুজনকেই এগিয়ে দিচ্ছি। ’ নৌবাহিনীর হয়ে ২০১৫ সাল থেকে খেলছেন রুমকি। বলছিলেন রিতুর সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন একটা মান গড়ে দিয়েছেন তাঁরা মেয়েদের হাই জাম্পে, ‘একটা সময় ১.৫৫-তেও সোনা এসেছে। আর আমরা এখানে জাম্প দেওয়া শুরুই করছি ১.৬০ থেকে। আমার ১.৬৮-এর রেকর্ড দুই বছর ছিল। ও যখন ১.৭০ করে ফেলল আমাকে তখন কিন্তু ওই লেভেলেই ভাবতে হয়েছে। আবার আমি এখন যখন ১.৭৪ করলাম, তখন দুজনই কিন্তু ভাবছি আর এখানে পড়ে থাকলে হবে না, অন্তত ৭৫-৭৬-এ লাফাতে হবে। ’

দুজন একসঙ্গেই আবার নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার এই লড়াইটা করেন যখন থাকেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। রুমকি বলেন, ‘রিতু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। প্রতিদ্বন্দ্বিতা তো আছেই। তেমনি আছে বন্ধুত্বও। ’ রিতু বলছিলেন, ‘আমরা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনীর হয়ে যখন দুই দিক থেকে জাম্প দিই, তখনো অন্য প্রান্ত থেকে একজন অন্যজনকে উৎসাহ দিই। তাহলে বুঝুন, জাতীয় দলের ক্যাম্পে যখন থাকি বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যখন যাই, তখন বন্ধুত্বটা কেমন থাকে। কার কোথায় ভুল হচ্ছে, কী করতে হবে—এসব নিয়েও আলোচনা করি তখন। ’ রুমকি অ্যাথলেটিকসের পাশাপাশি ফুটবলও খেলেন। রিতু প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন। দুজনের মধ্যে মিল তাই অনেকভাবেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ঠিক ততটাই। শেষ পর্যন্ত লাভবান তাই দেশের অ্যাথলেটিকসও।



সাতদিনের সেরা