kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘প্রস্তুতি’ ম্যাচেও অপ্রস্তুত বাংলাদেশ

অঘটন প্রায় ঘটেই যাওয়ার মতো অবস্থা। তবে শেষ ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে শরীফুল অঘটন ঠেকালেন। একটু আগেই ক্যাচ ছাড়া মোসাদ্দেক আর সাইফ উদ্দিনও এবার ক্যাচ ধরলেন ঠিকঠাক। ‘প্রস্তুতি’ ম্যাচেও তাই অপ্রস্তুত হয়ে পড়া বাংলাদেশ পাস করল টেনেটুনেই। হার দেখতে দেখতেও ২ বল বাকি থাকতে পেল ৭ রানের জয়। সিরিজেও এগিয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে জানান দিল নিউজিল্যান্ড সফর এবং বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই সংস্করণে এখনো উন্নতি করতে না পারার ব্যাপারটিও।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘প্রস্তুতি’ ম্যাচেও অপ্রস্তুত বাংলাদেশ

তাঁরা তিন : ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৮১ রানের পার্টনারশিপে দলের ব্যাটিংয়ের ত্রাণকর্তা আফিফ হোসেন ও অধিনায়ক নুরুল হাসান। পরে বোলিংয়ে ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা মেহেদী হাসান মিরাজ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সীমানায় পড়ল সহজ ক্যাচ। সেটিই শেষ নয়। শেষ ওভারেও ক্যাচ পড়ল আরেকটি। মিস ফিল্ডিংয়ে রানও ছুটল বেশ কিছু।

বিজ্ঞাপন

তাই ভাগ্য প্রায় নির্ধারিত হয়ে যাওয়া ম্যাচেও প্রাণ ফিরল। এমনই যে দুই টি-টোয়েন্টির আন্তর্জাতিক সিরিজের মোড়কে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি বিশাল এক ধাক্কা খেতে পারত প্রথম ম্যাচেই।

টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে তবু ৬ রানে আফিফ হোসেন বেঁচে গিয়েছিলেন বলে রক্ষা! বেঁচে গিয়ে দলের ব্যাটিংয়ে প্রাণের সঞ্চারও করলেন এই বাঁহাতি ব্যাটারই। শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে তাঁর ক্যারিয়ারসেরা অপরাজিত ৭৭ রানের ইনিংসের সঙ্গে যোগ্য সংগত দিলেন অধিনায়ক নুরুল হাসানও। দুয়ে মিলে পাওয়ার প্লেতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসা দল শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে তুলল ১৫৮ রান। এমন বড় কোনো পুঁজি নয়, তবু মেহেদী হাসান মিরাজের অফস্পিনে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় নামা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জয়ের আশাও প্রায় নিঃশেষ করে দেওয়া গেল। ১২৪ রানেই স্বাগতিকরা হারিয়ে ফেলল ৮ উইকেট। ১৮ বলে ৩৫ রানের সমীকরণ মেলানো তাদের টেল এন্ডারদের পক্ষে কঠিনই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ হয়েও হলো না শেষ!

ক্যাচ পড়া আর রান বিলানোর যোগফলে মৃতপ্রায় আশাও জাগল আমিরাতের। শরীফুল ইসলামের করা ১৮তম ওভারে ১৬ রানে থাকা আয়ান আফজাল খানকে জীবন দিলেন মোসাদ্দেক। সঙ্গী জুনায়েদ সিদ্দিককে নিয়ে তাই শেষ চেষ্টাও করতে পারলেন তিনি। ওই ওভার থেকে এলো ১৪ রান। পরের ওভারে আরো ১০। তাই শেষ ওভারে ২ উইকেট হাতে নিয়ে আমিরাতের সমীকরণ নেমে এলো ১১ রানে। অসম্ভব কিছু ছিল না মোটেও। তার ওপর দ্বিতীয় বলে জুনায়েদের সহজ ক্যাচ ফেললেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনও। অঘটন প্রায় ঘটেই যাওয়ার মতো অবস্থা। তবে পরের দুই বলে শরীফুল অঘটন ঠেকালেন। একটু আগেই ক্যাচ ছাড়া মোসাদ্দেক আর সাইফ উদ্দিনও এবার ক্যাচ ধরলেন ঠিকঠাক। ‘প্রস্তুতি’ ম্যাচেও তাই অপ্রস্তুত হয়ে পড়া বাংলাদেশ পাস করল টেনেটুনেই। হার দেখতে দেখতেও ২ বল বাকি থাকতে পেল ৭ রানের জয়। সিরিজেও এগিয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে জানান দিল নিউজিল্যান্ড সফর এবং বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই সংস্করণে এখনো উন্নতি করতে না পারার ব্যাপারটিও।

ইনিংসের ৫ ওভার শেষ না হতেই ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে দল। ষষ্ঠ ওভারে আফিফ ক্যাচ হয়ে গেলে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ৪ উইকেট খোয়া যেত। তখন বেঁচে যাওয়া আফিফই শেষ পর্যন্ত টানেন দলকে। অধিনায়ক নুরুলকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৫৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮১ রানের জুটি। ৩৮ বলে ১ ছক্কা ও ৫ চারে ফিফটি করা আফিফ পরে মারেন আরো দুটি করে ছক্কা আর চার। ৫৫ বলে অপরাজিত ৭৭ রানের ইনিংস খেলার পথে ৬৩ রানেও আরেকবার জীবন পান এই তরুণ। তবে তুলনায় দ্বিতীয় সুযোগটি বেশ কঠিনই ছিল। অধিনায়ক নুরুল ২৫ বলে দুটি করে চার আর ছক্কায় খেলেন ৩৫ রানের হার না মানা ইনিংস। রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১ উইকেট হারানো আমিরাতও চোখ রাঙাচ্ছিল। তবে ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার মিরাজ স্বস্তিই ফিরিয়ে এনেছিলেন। শেষে ফিরে আসা অস্বস্তি দূর করেন ২১ রানে ৩ উইকেট নেওয়া পেসার শরীফুল। না হলে ম্যাচসেরা আফিফের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটিও যে বিফলেই যেতে বসেছিল!



সাতদিনের সেরা