kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বার্তা দিয়ে রাখলেন ফিরে আসার

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বার্তা দিয়ে রাখলেন ফিরে আসার

করতালি থামছিলই না। থামছিল না রজার ফেদেরারের কান্নাও। দুইয়ে মিলে অদ্ভুত আবেগময় একটা মুহূর্ত তৈরি হলো লন্ডনের ওটু অ্যারেনায়। শেষ ম্যাচটা খেলেই ফেললেন কিংবদন্তি ফেদেরার।

বিজ্ঞাপন

আর কোর্টে নামবেন না, ভাবতে পারছিলেন না হয়তো ফেদেরার নিজে। তাই চোখের জল মুছতে মুছতে, আবেগে বাঁধ দিয়ে জানালেন, ‘আমি সুস্থ আছি, সুখী আছি। শেষবারের মতো জুতার ফিতা বাঁধা উপভোগ করেছি। সব কিছু ছিল শেষের মতো। তবে এখানেই শেষ নয়। আপনারা জানেন জীবন থমকে থাকে না, চলতে থাকে জীবনের নিয়মে। ’

এরপর দিলেন অন্য কোনোভাবে কোর্টে ফেরার বার্তা, ‘একটা বার্তা দিতে চাই, খেলাটার প্রতি আমার ভালোবাসা থাকবে। আবারও দেখা হবে, বিশ্বের অন্য কোথাও, অন্য কোনো টেনিস কোর্টে। তবে কখন, কোথায়, কিভাবে—পরিকল্পনা করিনি। এমন সব জায়গায় খেলতে চাই যেখানে আগে কখনো খেলিনি। যাঁরা এত দিন আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, আগামী বছরগুলোয় তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে যেতে চাই। ’

সর্বশেষ ১৮ মাসে হাঁটুতে তিনবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে ফেদেরারের। এই ধকলটা নিতে না পেরে যন্ত্রণা নিয়ে বিদায় বললেন তিনি। অবসরের ক্ষণে কৃতজ্ঞতা জানালেন স্ত্রী মিরকার প্রতি, ‘সবাই আছে এখানে। আমার ছেলেমেয়েরা আছে। আমার স্ত্রী সমর্থন জুগিয়ে গেছে সব সময়। ও আমাকে অনেক আগে থামিয়ে দিতে পারত, কিন্তু সেটা করেনি। উল্টো উৎসাহ জুগিয়ে গেছে খেলা চালিয়ে যেতে। ধন্যবাদ তোমাকে। ’

ক্যারিয়ারের শুরুতে মোটেও শান্ত ছিলেন না ফেদেরার। র‌্যাকেট ভেঙেছেন একাধিকবার। ধীরে ধীরে ফেদেরার হয়ে উঠেন টেনিসের সবচেয়ে ভদ্র খেলোয়াড়। বিদায়বেলায় তাই বাবা-মাকে কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি, ‘একটা ব্যাপার খুবই মজার, সব সময় আমরা সব কিছুর জন্য মাকে দোষ দিই! তাঁকে ছাড়া কখনো আমি এখানে থাকতাম না। আমার বাবা-মাকে ধন্যবাদ। সব সময় পাশে থেকেছেন তাঁরা। অনেক মানুষকে ধন্যবাদ দিতে হবে। অবিশ্বাস্য একটা যাত্রা ছিল। ’

নাদাল ও ফেদেরার মিলে জিতেছেন ৪২টি একক গ্র্যান্ড স্লামের শিরোপা। সেই নাদাল জুটি হয়ে খেললেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিদায়ি ম্যাচ। ফেদেরারের অবসরে আবেগী নাদালও, ‘অনন্য এই মুহূর্তের সঙ্গী হতে পারাটা আমার জন্য বিশেষ সম্মানের। দুজন একসঙ্গে কত বছর ধরে কত কিছু ভাগ করে নিয়েছি। ফেদেরারের চলে যাওয়া মানে আমার জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি হওয়া। ’

২০০৩ সালে প্রথম উইম্বলডন জেতেন ফেদেরার। এরপর ১৯ বছরে জিতেছেন সব মিলিয়ে ২০ গ্র্যান্ড স্লাম। এএফপি



সাতদিনের সেরা