kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

গোলাম রব্বানীর মধুর সকাল

মেয়েরা কোথা থেকে কোথায় এসেছে, সেই গল্পও করছিলেন রব্বানী, ‘এসএ গেমসের আগে ভাগ্যিস সাত মাসের মতো প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। তখন এই সাবিনাদের ব্যাচটাই নতুন এসেছে। আমি কাজ করতে গিয়ে দেখলাম ওরা কন্ডিশনিংয়ের ব্যাপারে কিছুই জানে না। একটু জোরে দৌড়াতে দিলেই ধুপধাপ ইনজুরিতে পড়ে যাচ্ছে। হতাশ হওয়ার মতোই ব্যাপার। একটি ব্যাপারই শুধু আমাকে আশা দেখিয়েছিল যে এদের মধ্যে পরিশ্রম করা নিয়ে কোনো ক্লান্তি নেই, ঘাটতি নেই নিবেদনে। ধৈর্য নিয়ে তাই আমিও কাজ করে গেছি।’

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোলাম রব্বানীর মধুর সকাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : খুব ভোরে তিনি ঘুম থেকে ওঠেন। কিটব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে একটি রিকশায় কমলাপুর রেললাইন পেরিয়ে আসেন বাফুফের মাঠে। বছরের প্রতিটি দিন একই রুটিন। মেয়েদেরও অনুশীলনের সময় ঠিক করে দিয়েছেন ভোর ৬টা।

বিজ্ঞাপন

খেলা থাক না থাক, এ রুটিনের ব্যত্যয় হয় না। পরশু এক নতুন ভোর দেখেছেন গোলাম রব্বানী।

বাফুফে ভবনে নিজেই মজা করে সেই গল্প করছিলেন, ‘আহা, আজকের ভোরটা একদম ব্যতিক্রম। সকালে উঠে যখন নাশতা করছিলাম, বউ পাশে। ছোট বাচ্চাটাও কাছে কাছে ঘুরছিল। ওদিকে একের পর এক ফোন আসছিল অভিনন্দন জানিয়ে, আপনাদের কাছ থেকেও ফোন পাচ্ছিলাম। খেতে খেতে কথা বলছি। সকালটা এমন ফুরফুরে, আনন্দময় কেটেছে খুব কম সময়ই। ’ মেয়েদের ফুটবল নিয়ে রব্বানীর লেগে থাকা ছোট্ট একই কথা থেকেই অনেকে আন্দাজ করে নিতে পারেন। সেই ২০০৯ সালে প্রথম দায়িত্ব পান। তার আগের বছর ছেলেদের জাতীয় দলের সঙ্গে ছিলেন সহকারী হিসেবে। সেখান থেকে দক্ষিণ এশীয় গেমসের আগে আগে তাঁর নারী দলের দায়িত্ব পাওয়া দেখে বন্ধুদের অনেকেই ভেবেছিলেন পদাবনতি হয়েছে রব্বানীর। সেই বন্ধুদের অনেকেই কাল অভিনন্দন জানানোর দলে ছিলেন। মেয়েরা কোথা থেকে কোথায় এসেছে, সেই গল্পও করছিলেন রব্বানী, ‘এসএ গেমসের আগে ভাগ্যিস সাত মাসের মতো প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। তখন এই সাবিনাদের ব্যাচটাই নতুন এসেছে। আমি কাজ করতে গিয়ে দেখলাম ওরা কন্ডিশনিংয়ের ব্যাপারে কিছুই জানে না। একটু জোরে দৌড়াতে দিলেই ধুপধাপ ইনজুরিতে পড়ে যাচ্ছে। হতাশ হওয়ার মতোই ব্যাপার। একটি ব্যাপারই শুধু আমাকে আশা দেখিয়েছিল যে এদের মধ্যে পরিশ্রম করা নিয়ে কোনো ক্লান্তি নেই, ঘাটতি নেই নিবেদনে। ধৈর্য নিয়ে তাই আমিও কাজ করে গেছি। ’

সাবিনাদের বেতন বাড়ানো নিয়ে এই মুহূর্তে সবাই সরব হয়েছে। কোচ হিসেবে রব্বানীরও যে সেই চাহিদা নেই, তা নয়। গতকাল বাফুফে সভাপতির সঙ্গে বৈঠক সেরে এসে বলছিলেন, ‘বাড়িতে আমরা হয়ে গেছি অনেকটা মেহমানের মতো। মাঝেমধ্যে যাই, বেশি সময় থাকি না। তো মাস শেষে সেখানে যদি বাজারের থলেটা বড় করে দিতে পারি, তাহলে মেহমান হিসেবে সম্মানটা থাকে আরকি। সেটা সালাউদ্দিন ভাইকে বলেছি। তিনি কোচের ব্যাপারেও আশ্বাস দিয়েছেন যে একটা ভালো কিছুই করবেন। ’ ছোটন এমন একজন কোচ, যিনি সারা বছর কাজ করেন মেয়েদের নিয়েই। তবে মোটেও একটি দল নিয়ে নয়। যেমন এখন ভাবছেন সামনে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ টুর্নামেন্ট আছে, নতুন মেয়েগুলোকে তার জন্য তৈরি করতে হবে। এরপর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০-এর বাছাই খেলতে হবে দুই ধাপে। তখন কাজ করতে হবে সেই দলটিকে নিয়ে। সিনিয়র দলের চ্যালেঞ্জ তো আছেই।

সাফ জয়ের পর সাবিনাদের নিয়ে ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী, এখন সেটিই সবাই জানতে চাচ্ছে। রব্বানী জানিয়েছেন, ‘প্রথমত দুই বছর পর এই সাফ শিরোপাটিই আমরা ধরে রাখতে চাই। সেটি নিয়ে কাজ করতে হবে। আর সামনের বছর আমাদের অলিম্পিক বাছাই পর্ব আছে। আগামী অলিম্পিকের জন্য এই বাছাই পর্বটা আমরা পেরোতে চাই। ’ রব্বানী অনেকটা পিতৃতুল্য স্নেহেই গড়ে তুলেছেন সাবিনা, কৃষ্ণা রানীদের। তাঁরাও এই কোচের প্রতি এতটাই নিবেদিত যে তাঁর ছুড়ে দেওয়া যেকোনো লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে তাঁরা এতটুকু দ্বিধা করবেন না।

 



সাতদিনের সেরা