kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পদোন্নতি এবাদতের উন্নতির অনুপ্রেরণা

এশিয়া কাপে খেলার সুযোগ পেলে প্রতিটি ওভার শেষ করতে চান আরো কম সময়ে, ‘আজও (গতকাল) আমি অনুশীলনে তিন মিনিট ২৫ সেকেণ্ডের মধ্যে প্রতিটি ওভার শেষ করার চেষ্টা করেছি।’ সেই সঙ্গে চেষ্টায় আছেন টি-টোয়েন্টির চাহিদানুযায়ী বোলিংয়ে আরো বেশি বুদ্ধির মিশেল ঘটানোর।

মাসুদ পারভেজ   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পদোন্নতি এবাদতের উন্নতির অনুপ্রেরণা

ছবি : মীর ফরিদ

ডাক এলো আর ফ্লাইটে চড়ে বসলেন, অন্য সতীর্থদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি এ রকম হলেও তাঁর ক্ষেত্রে মোটেও সেরকম নয়। ওয়ানডে সিরিজের মাঝপথে জিম্বাবুয়ে সফরে যাওয়ার আগে যেমন কর্মক্ষেত্রের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তবেই এবাদত হোসেনকে ধরতে হয়েছে হারারের ফ্লাইট। এখানেও অন্য ক্রিকেটারদের চেয়ে আলাদা এই পেসার। তাঁর কর্মস্থল যে দুটি! বিসিবির চুক্তিবদ্ধ টেস্ট ক্রিকেটার তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সৈনিকও।

বিজ্ঞাপন

কাজেই দেশ ছাড়ার আগে নিতে হয় বাহিনীর অনাপত্তিপত্রও। সেই ছাড়পত্র আনতেই গিয়েছিলেন বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে। তখনই সুযোগ মিলে যায় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের সঙ্গে দেখা করার। সেখান থেকে চলে আসার সময় অশেষ অনুপ্রেরণা নিয়ে ফেরার ঘোর যেন গতকাল সন্ধ্যায়ও এবাদতের কথায় লেগে থাকল। বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয়ের নায়ক তাঁর ‘ঘোর লাগা’ সেই সময়টি তুলে ধরলেন এভাবে, ‘‘স্যার এমন কিছু কথা বলেছেন যে ভালো খেলার অনুপ্রেরণা এখন আরো বেশি পাচ্ছি। তিনি বলছিলেন, ‘তুমি শুধু ভালো খেলতে থাকো আর বাংলাদেশকে জেতাতে থাকো। তুমি যত ভালো খেলবে, তোমাকে আমরা তত ভালো র‌্যাংক (পদবি) প্রদানের চেষ্টা করব। ’ বাহিনী প্রধানের মুখে এ রকম অনুপ্রেরণাদায়ক কথা শোনার পর থেকেই ভালো করার চেষ্টা আরো বেড়ে গেছে আমার। ’’

পদোন্নতিও তাই এখন থেকে এবাদতের ক্রিকেট সাফল্যে অন্যতম প্রভাবক হয়ে উঠবে নিশ্চিতভাবেই। বাহিনীর পদোন্নতি বকেয়া থাকলেও ক্রিকেটের ভুবনে সেটি পাওয়া তাঁর চলছেই। জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে হারার পরপর নাঈম শেখের সঙ্গে উড়লেন হারারের পথে। দ্বিতীয় ওয়ানডের দিন পৌঁছে মাঠে বসেই দেখলেন সিরিজ হারও। এত দিন শুধুই টেস্ট ক্রিকেটার এবাদতের ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যায় শেষ ম্যাচে। দলের ব্যর্থতার ধুলায় মলিন সফরে তাঁর অভিষেকটাও ছিল ঝলমলে। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই এই পেসার এমন আঘাত হানেন যে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সান্ত্বনার জয়ের পথও খুঁজে পায় বাংলাদেশ। কিছুটা লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে প্রথমে ওয়েসলি মাধভেরেকে পয়েন্টে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানান এবাদত। পরের বলেই ওয়াইড ইয়র্কার, তাতে ব্যাট নামিয়ে কুলোননি সিকান্দার রাজা, আগের দুই ম্যাচে যাঁকে আউটই করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। টানা দুই ম্যাচেই হার না মানা সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকদের সিরিজ জেতানোর নায়ক তৃতীয় ওয়ানডেতে মারেন ‘গোল্ডেন ডাক’। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে সেখানেই শেষ। ৩৮ রানে ২ উইকেট পাওয়া এবাদতের আরেক নতুন শুরুর পথও খুলে দেয় সেই ম্যাচই।

ওয়ানডে অভিষেকের পর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রথমবারের মতো তাঁর জায়গা হয়ে যায় টি-টোয়েন্টি দলেও। টেস্টে লম্বা সময় ধরে বোলিংয়ে অভ্যস্ত পেসারকে সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের দ্রুততার সঙ্গেও খাপ খাওয়াতে হচ্ছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রায়ই স্লো ওভার রেটের জন্য জরিমানা গুনতে হয়। জিম্বাবুয়েতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একই অপরাধে গেছে ম্যাচ ফির শতকরা ৪০ ভাগ। এর দায় মূলত পেসারদেরই। অভিষেকে নেমেই তাই সময়ের মূল্য বোঝা বোলিংও করতে হয়েছে এবাদতকে, ‘প্রথম ওভারটি করতে শুধু একটু সময় বেশি লেগেছিল। তবে পরের সবগুলো সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যে শেষ করেছি। ’

এশিয়া কাপে খেলার সুযোগ পেলে প্রতিটি ওভার শেষ করতে চান আরো কম সময়ে, ‘আজও (গতকাল) আমি অনুশীলনে তিন মিনিট ২৫ সেকেণ্ডের মধ্যে প্রতিটি ওভার শেষ করার চেষ্টা করেছি। ’ সেই সঙ্গে চেষ্টায় আছেন টি-টোয়েন্টির চাহিদানুযায়ী বোলিংয়ে আরো বেশি বুদ্ধির মিশেল ঘটানোর, ‘এই সংস্করণে বোলিংয়ে বুদ্ধি খাটানো খুব জরুরি। কিছু ডেলিভারিতে আরো নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করছি। আমার স্লোয়ারের সঙ্গে কাজ করছি পারফেক্ট ইয়র্কার করা নিয়েও। ’

ওয়াইড ইয়র্কারে সিকান্দার রাজাকে বোল্ড করা গেছে। পারফেক্ট ইয়র্কারে নিশ্চয়ই আরো অনেককেই যাবে। আরো নিখুঁত হওয়ার সেই চেষ্টায় এবাদতকে বাড়তি শক্তি জোগাতে থাকছে বাহিনীর পদোন্নতির আকর্ষণও!



সাতদিনের সেরা