kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আস্থা আদায় করে নেবেন সোহেল রানা

বিদেশিদের ভিড়েও কয়েকজন তরুণ ফুটবলার বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন এই মৌসুমে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কালের কণ্ঠ বাছাই করেছে পাঁচ প্রতিভাবান ফুটবলারকে। তাঁদের সামর্থ্য আছে, সঙ্গে নিজেদের চেষ্টা ও স্বপ্ন যোগ করতে পারলেই হয়ে উঠবেন তারকা। তাঁদের নিয়েই সনৎ বাবলার ধারাবাহিকে আজ চতুর্থ পর্বে থাকছেন সোহেল রানা।

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আস্থা আদায় করে নেবেন সোহেল রানা

একসময় ভেবেছিলেন, সেনাবাহিনীর চাকরিই হবে জীবনের পাথেয়। কিন্তু সেই চাকরি ছেড়ে পেশাদার ফুটবলে নাম লিখিয়ে জীবনের নতুন বাঁকের সামনে দাঁড়িয়ে সোহেল রানা, ‘আমি কৃষক পরিবারের ছেলে। ফুটবল খেলে এখন আমার আয় খারাপ হয় না। কিন্তু বাবাকে কৃষিকাজ না করতে বললেও শোনেন না, লুকিয়ে কাজ করতে চলে যান জমিতে।

বিজ্ঞাপন

আসলে যার যেখানে আনন্দ...!’ অবশ্য তিনি নিজেও মনের খোরাক মেটাতে আর্থিক নিশ্চয়তা পেছনে ফেলে পা রেখেছেন পেশাদার ফুটবলের ঝুঁকিপূর্ণ জীবনে।

পেশাদার জগতে পা রাখার পর থেকেই সোহেল রানা ফুটবলকে নতুনভাবে উপভোগ করতে শুরু করেন। ফুটবলে যেমন তাঁর জীবন বাঁধা, তেমনি বাবার আনন্দ কৃষিতে। অথচ কয়েক বছর আগেও জীবনের লড়াইয়ে বেঁচে থাকতে চাকরি নিয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে। ২০১৫ সালে যোগ দিয়েছিলেন সৈনিক পদে। সেখানে কয়েক বছর কাটিয়ে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ নেন পেশাদার ফুটবলের, ‘খুব ঝুঁকি নিয়ে চাকরি ছেড়ে এসেছিলাম। ২০১৮-১৯ মৌসুমে রহমতগঞ্জে খেলে আমার আত্মবিশ্বাস জন্মে, আমি এখানে পারব। সর্বশেষ চট্টগ্রাম আবাহনীতে খেলে মারুফ স্যারের কাছে অনেক কিছু শিখেছি। জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাকও পেয়েছি এ বছর। ’

ঝুঁকি ও লড়াই বৃথা যায়নি কুমিল্লার এই ফুটবলারের। রহমতগঞ্জের হয়ে প্রথম মৌসুমেই চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে, এই মিডফিল্ডারের ছয় অ্যাসিস্টের সঙ্গে ছিল পাঁচ গোলও। সে তুলনায় এবার আছে মাত্র এক গোল ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট। ‘রহমতগঞ্জে আমি উইং, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডসহ অনেক জায়গায় খেলেছি। চট্টগ্রাম আবাহনীতে গিয়ে বুঝেছি, আমার আসল পজিশন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড। প্রতিপক্ষের খেলা নষ্ট করার কাজটা করতে হয়। এই পজিশনে খেলে গোল করা কঠিন’, নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সোহেল রানা, ‘আমার পাসিং খারাপ হয় না। তবে কোচ বলেছেন, কঠিন পাসগুলোর ক্ষেত্রে আমাকে আরো পরিশ্রম করতে হবে। যেমন—থ্রু বল, অ্যাটাকিং থার্ডে ফরোয়ার্ডের পায়ে বল বাড়ানো নিখুঁত করার চেষ্টা করছি। ভালো খেলা ও নিজেকে উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই। ’

জাতীয় দলে জায়গা করতে হলে পারফরম্যান্সের আরো উন্নতি জরুরি। জাতীয় দলে একই পজিশন থেকে জামাল ভুঁইয়াকে সরাতে পরিশ্রমের বিকল্পও নেই। রক্ষণকে ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি-আক্রমণের সূচনা করতে হবে ফরোয়ার্ডের পায়ে নিখুঁত বল বাড়িয়ে। এই বাড়তি উপাদানগুলো যোগ করতে পারলে ২৪ বছর বয়সী সোহেল রানা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারেন। এখন যেটুকু আছে সেটুকু দিয়েই তিনি নতুন মৌসুমে নাম লেখাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আবাহনীতে, ‘নতুন মৌসুমে ঢাকা আবাহনীতে খেলব। পারফরম্যান্স দিয়ে সামনে আরো বড় ক্লাবের যোগ্য হয়ে উঠতে চাই। আমার লক্ষ্য, মাঠে পারফরম করে সব সময় বড় দলের বিবেচনায় থাকা। ’ আরো বড় দল মানে কোনটা, সেটা তিনি পরিষ্কার করেননি।   

বড় ক্লাবে দুটো বাধা থাকে। প্রথমত একাদশে জায়গা করে নেওয়া। দ্বিতীয়ত প্রত্যাশার বাড়তি চাপ। ভালো খেললে যেমন বাড়তি প্রশংসা মিলবে, তেমনি ব্যর্থতার বিশ্লেষণ হুল হয়ে বিঁধবে গায়ে। কিন্তু ভালোবাসার টানে ফুটবলে আসা সোহেল রানা এ ক্ষেত্রে অকুতোভয় সৈনিক, ‘সেই সেনাবাহিনী থেকে লড়াই করে এত দূর এসেছি। তাই বড় দল নিয়ে বাড়তি ভয় নেই। পরিশ্রম করে দলের আস্থা অর্জন করব। ’



সাতদিনের সেরা