kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আপৎকালীন ব্যবস্থাতেই আস্থা

গতকাল টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদের বক্তব্যে আরো স্পষ্ট হলো যে, ওপেনিং সমস্যার সমাধান না খুঁজে বরং আপৎকালীন ব্যবস্থাকেই আপাতত উত্তম ব্যবস্থাপত্র মনে হচ্ছে তাঁদের। দলে বিকল্প ওপেনার না থাকলেও ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে তুলে এনে ওপেন করিয়ে দেওয়ার মতো বিকল্প ব্যাটারের অভাব নেই বলেই দাবি করলেন এই সাবেক অধিনায়ক।

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আপৎকালীন ব্যবস্থাতেই আস্থা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ওপেনিং জুটি টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য দিতে পারছে না একদমই। এই অস্থিতিশীলতা আবার অস্থিরতাই বাড়িয়ে চলেছে দলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। না হলে জিম্বাবুয়ে সফরে পাঁচ-পাঁচজন ওপেনার নিয়ে গিয়ে দলের ভারসাম্য নষ্ট করার পর এশিয়া কাপের মতো বড় আসরে কেন বিকল্প কোনো ওপেনারই থাকবেন না? দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে মাত্রই দুটি সিরিজ খেলা এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছেন শুধু জিম্বাবুয়ে সফরের শেষ টি-টোয়েন্টিতে অভিষিক্ত পারভেজ হোসেন ইমন। সদ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পাওয়া এই তরুণ যে এশিয়া কাপে ম্যাচ খেলার জন্য তেমন বিবেচিত হবেন না, দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনেই সে আভাস দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন।

বিজ্ঞাপন

গতকাল টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদের বক্তব্যে আরো স্পষ্ট হলো যে, ওপেনিং সমস্যার সমাধান না খুঁজে বরং আপৎকালীন ব্যবস্থাকেই আপাতত উত্তম ব্যবস্থাপত্র মনে হচ্ছে তাঁদের। দলে বিকল্প ওপেনার না থাকলেও ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে তুলে এনে ওপেন করিয়ে দেওয়ার মতো বিকল্প ব্যাটারের অভাব নেই বলেই দাবি করলেন এই সাবেক অধিনায়ক।

বিশেষজ্ঞ না হয়েও এমন ওপেনার বনে যাওয়ার সম্ভাবনাময়দের তালিকাও লম্বা। মাহমুদ জানালেন চারজনের নাম, ‘স্বীকৃত ওপেনার বলতে দলে আছে বিজয় আর ইমন। তবে এই দলের অনেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ওপেন করেছে। আমরা ওভাবেই ভাবছি। মুশফিক হতে পারে, হতে পারে সাকিবও। মিরাজ হতে পারে, ওপেন করেছে শেখ মেহেদীও। সুতরাং আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্পই আছে। ’ ওপেনিংয়ে যাঁদের বিকল্প ভাবা হচ্ছে, তাঁদের প্রত্যেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ইনিংস ওপেন করেছেন। সাকিব যেমন একবারই ওপেন করেছেন। সেটি গত বছর শারজায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। যদিও ১২ বলে মাত্র ৯ রান করে আউট হয়ে যান। ২০০৯ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ওপেন করতে নেমে মুশফিকুর রহিম অবশ্য খেলেছিলেন ৯৮ রানের ইনিংস। তবে ২০১৯ সালে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ওপেন করা তাঁর একমাত্র ইনিংসে করেছিলেন মোটে ৫ রান। মিরাজ একবারই ওপেন করেছেন, সেটি ২০১৮ সালে দুবাইতে ওয়ানডে সংস্করণে হওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালে। আর শেখ মেহেদী গত বছর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে নেমে ১২ বলে করেছিলেন ১৩ রান।

মাহমুদের মনে হচ্ছে, আপাতত বিকল্পের কথা ভাবা ছাড়া কোনো উপায়ও নেই। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে যাওয়া তামিম ইকবালের না থাকাকেও একটি ধাক্কা বলছেন তিনি, ‘আমাদের ওপেনাররা কেউ ভালো করছে না। এটি মাথায় রাখতে হবে। জিম্বাবুয়েতে আমরা কয়েকজনকে দেখেছি, ভালো করেনি। তামিমের না থাকাটা একটি ধাক্কা আমাদের জন্য। আমাদের তাই মেক-শিফট করতে হবে। বিভিন্ন উইকেটের পরিকল্পনা করে হয়তো আমরা মেক-শিফট করব। কে খেলবে বা কে ওপেন করবে না, তা এখনই বলছি না। তবে আমরা এটি নিয়ে অনেক ভাবছি। ’ যদিও দলের যা অবস্থা, তাতে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ের বৈতরণি পার হয়ে সুপার ফোর পর্বে বাংলাদেশ যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয়ও অজানা নয় মাহমুদের। এর ভিত্তিতেই তিনি সংশয় মুছে দেওয়ার আশ্বাসও যেন দিতে চাইলেন, ‘এশিয়া কাপের দ্বিতীয় পর্বে যাওয়া নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন। যেহেতু এই সংস্করণে আমরা ভালো করছি না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আমরা সেখানে ভালো করতে পারব। এর আগেও বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে। সেটি ৫০ ওভারের ছিল, টি-টোয়েন্টিতেও আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। ’



সাতদিনের সেরা