kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

রোড টু ওয়েম্বলি

মাজহারুল ইসলাম, লন্ডন থেকে ফিরে   

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোড টু ওয়েম্বলি

ওয়েম্বলি পার্ক স্টেশন থেকে সোজা ২০০ গজের মতো হাঁটা পথ পেরোলেই স্টেডিয়ামের মূল স্থাপনা। এরপর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে চোখে পড়বে ববি মুরের ভাস্কর্য্য!

‘ওয়েম্বলি’—হোম অব ফুটবল! ইংরেজ আভিজাত্যের প্রতীক। ইংরেজদের গর্ব। সাবওয়ের মেট্রোপলিটন ট্রেনে ওয়েম্বলি পার্ক স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে সোজা তাকালেই নজরে আসবে চোখ-ধাঁধানো স্থাপনাটি। চোখে পড়বে এর ওপরে ১৩৩ মিটার লম্বা ধনুকের মতো বাঁকানো আর্চ।

বিজ্ঞাপন

আলোকিত আর্চ লন্ডনের যেকোনো প্রান্ত থেকেই দৃশ্যমান। অপূর্ব নকশার বৃত্তাকার ওয়েম্বলির সৌন্দর্যও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এই আর্চ। পোর্টেবল ছাদও ওয়েম্বলির অন্যতম আকর্ষণ।

ওয়েম্বলি পার্ক স্টেশন থেকে সোজা ২০০ গজের মতো হাঁটা পথ পেরোলেই স্টেডিয়ামের মূল স্থাপনা। এরপর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে চোখে পড়বে ববি মুরকে, বুকে দুই হাত রেখে গর্ব নিয়ে যেন ওয়েম্বলির স্টেশন বরাবর তাকিয়ে আছেন ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক! গ্যালারিতে প্রবেশপথের বাইরে ববি মুরের ব্রোঞ্জের এই বিশালাকার ভাস্কর্য। পেছনেই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের স্মরণে ববি মুর এনট্রান্স। এর ডান দিকে স্যুভেনির শপ। পুরনো মাঠের জায়গায়ই নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে বর্তমান মাঠটি।

ওয়েম্বলির মালিকানা ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ)। এফএর সদর দপ্তরও এ ওয়েম্বলিতেই। ২০০৭ সালের ১৯ মে এফএ কাপের ফাইনাল দিয়ে পথচলা শুরু নতুন ওয়েম্বলির। এর ১১ দিন আগে মাঠে প্রবেশপথের বাইরে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ববি মুরের ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন স্যার ববি চার্লটন।

ঐতিহাসিক এই মাঠে অনন্য কিছু অর্জনও আছে ইংলিশদের। এই মাঠেই ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম এবং একমাত্র শিরোপা জয়ের উৎসব করেছিল ইংলিশরা। ১৯৬৬ সালের ৩০ জুলাই ওয়েম্বলির ফাইনালে জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ববি মুরের দল বিশ্বজয়ের আনন্দে ভাসিয়েছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে।

রাগবি লিগ এবং আমেরিকান ফুটবল খেলার জন্যও ব্যবহার করা হয় ওয়েম্বলিকে। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের নারী ও পুরুষদের ফাইনালও অনুষ্ঠিত হয়েছে ওয়েম্বলিতে। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের ইউরোর ফাইনাল, ১৯৪৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের মাঠ ছিল ওয়েম্বলি। নতুন ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১১ সালে বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং দুই বছর পর বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল।

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম এটি। ইউরোপ মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়ামও ওয়েম্বলি। নতুন ওয়েম্বলির ধারণক্ষমতা ৯০ হাজার। কয়েক দিন আগে নারী ইউরোর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মাঠে। ৩১ জুলাই ওয়েম্বলির গ্যালারিতে বসে সেদিন রেকর্ড ৮৭ হাজার ১৯২ জন দর্শক উপভোগ করেছে জার্মানির বিপক্ষে ইংলিশ মেয়েদের ঐতিহাসিক ট্রফি উৎসব। যেকোনো পর্যায়ের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে এটা দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড।

এমন একটি মাঠ নিয়ে গর্ব করতেই পারে ইংরেজরা। স্যুভেনির শপে জার্সি কিনতে আসা মাইকেল যেমন আপ্লুত, ‘বার্সেলোনার হোম গ্রাউন্ড ন্যু ক্যাম্পের পরই ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাঠ এটি। কয়েক দিন আগে এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে মেয়েদের ইউরোর ফাইনাল। রেকর্ড দর্শকের সামনে জার্মানিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে ইংল্যান্ডের মেয়েরা। ওয়েম্বলি আমাদের অহংকার। ’

একসময় টিভিতে ইংলিশ ফুটবল লিগের হাইলাইটস দেখানো অনুষ্ঠানটির টাইটেল ‘রোড টু ওয়েম্বলি’ তো আর অকারণে নয়!



সাতদিনের সেরা