kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

অর্থ নয়, নাম কুড়াতে চান রহিম

বিদেশিদের ভিড়েও কয়েকজন তরুণ ফুটবলার বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন এই মৌসুমে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কালের কণ্ঠ বাছাই করেছে পাঁচ প্রতিভাবান ফুটবলারকে। তাঁদের সামর্থ্য আছে, সঙ্গে নিজেদের চেষ্টা ও স্বপ্ন যোগ করতে পারলেই হয়ে উঠবেন তারকা। তাঁদের নিয়েই সনৎ বাবলার ধারাবাহিকে আজ তৃতীয় পর্বে থাকছেন রহিম উদ্দিন।

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থ নয়, নাম কুড়াতে চান রহিম

দেশি ফুটবলাররা টাকার পেছনে বেশি ছোটে বলে দুর্নাম হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের রহিম উদ্দিন বলেন নিজের কথা, ‘সবাই এক রকম নয়। আমি নাম চাই, দুর্নাম নয়।’

বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড লাইন নিয়ে আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির বিশ্লেষণটা দারুণ। এই আর্জেন্টাইন কোচের অভিজ্ঞতা, ‘এ দেশে উইঙ্গার আছে, তবে সামনে গিয়ে কখন কী করতে হয়, সেটা জানে না। তবে রহিম উদ্দিন সেসব শেখার ও বোঝার চেষ্টা করছে। ’ এই শেখা ও বোঝার ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে সাইফ স্পোর্টিংয়ের রহিম উদ্দিনের ফিরতি লেগের খেলায়।

বিজ্ঞাপন

 

ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে বড় দলের দুয়ারও খুলে যাচ্ছে এই উইঙ্গারের সামনে। চট্টগ্রাম জুনিয়র আবাহনীতে খেলে ক্যারিয়ার শুরু করা রহিমের ঢাকায় অভিষেক সাইফের জার্সিতে ২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ দিয়ে। একই ক্লাবে প্রিমিয়ার লিগ খেলেছেন তিনি টানা চার বছর। এবার সাইফ ছেড়ে যাওয়া এই উইঙ্গার আফসোস করেন ২০১৮-১৯ মৌসুমের জন্য, ‘এটি ছিল আমার সেরা মৌসুম, পাঁচটি গোলের সঙ্গে অ্যাসিস্টও ছিল বেশ কিছু। প্রায় সব ম্যাচ খেলেছি। ’

গোল দিয়ে বিচার করলে এ মৌসুমে রহিমের পারফরম্যান্স আহামরি নয়। কিন্তু রাইট উইং দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে সন্ত্রস্ত করা এবং গোলের সম্ভাবনা জাগানোর কাজ করেছেন তিনি খুব ভালোভাবে। পাশাপাশি রক্ষণভাগকেও সাহায্য করেছেন। ২৩ বছর বয়সী রহিমের দর্শন, ‘উইং ধরে সব সময় আক্রমণে ওঠার মানে হয় না। আমি যদি পাঁচবার উঠি আর তিনটি ক্রস ঠিকঠাক স্ট্রাইকারের পায়ে বা মাথায় ফেলতে পারি, একটি গোল হতে পারে। এটা আমি খেলতে খেলতে শিখেছি। ’

বাংলাদেশি উইঙ্গারদের সমস্যা হলো, বল নিয়ে প্রতিপক্ষের দিকে ভোঁ দৌড় দেন, দু-একজনকে কাটিয়ে হাততালিও পান। এরপর ডি বক্সের আশপাশে গিয়ে বল হারিয়ে ফেলেন নয়তো উল্টোপাল্টা মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। তাই অত খাটাখাটনির ফল দাঁড়ায় শূন্য। এটা বোঝেন রহিম। তাই দৌড়টাকে সুফলা করতে এবং শেষ পাসটা সঠিক করার দিকেই নজর থাকে বেশি তাঁর।

শিখতে গেলে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। ক্লাবের প্রথাগত ট্রেনিংয়ের বাইরেও নিজেকে কিছু করতে হয়। এই বাড়তি পরিশ্রম কজন ফুটবলার করেন, তা নিয়ে সংশয় আছে কোচদের মনেও। কিন্তু রহিমের প্রতিবাদ, ‘আমি আলাদা অনুশীলন করি। যেমন আগে আমার শ্যুটিং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে থাকত না। লং পাস নিয়ে বাড়তি প্র্যাকটিস করি। দলের প্র্যাকটিসের পর আমি আরো এক-দুই ঘণ্টা সময় মাঠে থাকি, নিজের দুর্বলতাগুলো সারানোর চেষ্টা করি। তাতে আমার উন্নতি হয়েছে। ’ এই বাড়তি পরিশ্রমের ফলও পেতে শুরু করেছেন তিনি।

উন্নতির ধারা ধরে রেখে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এই উইঙ্গার ছুটছেন বড় স্বপ্নের দিকে, ‘আমি স্বপ্ন দেখি, আমার খেলার কারণে পরবর্তী প্রজন্ম আমাকে এক নামে চিনবে। টাকা-পয়সার লোভ নেই আমার, বাবার কল্যাণে ওসব পেয়েছি। ’ তবে দেশি ফুটবলাররা পারফরম্যান্স বাদ দিয়ে টাকার পেছনে বেশি ছোটে বলে দুর্নাম হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের রহিম উদ্দিন বলেন নিজের কথা, ‘সবাই এক রকম নয়। আমি নাম চাই, দুর্নাম নয়। ’



সাতদিনের সেরা