kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

এনামুল বলছেন ছক্কা হবে!

টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ঠিকই দেখালেন এনামুল, ‘নির্দিষ্ট দিনে হয়তো আমরা নিজেদের মেলে ধরতে পারছি না। কিন্তু তাই বলে মেলে ধরতে পারব না, এমনও নয়। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই বড় মঞ্চে পারফরম করতে সক্ষম। এরা করবেও ইনশাআল্লাহ। হয়তো এখন হচ্ছে না তবে অবশ্যই হবে।’

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এনামুল বলছেন ছক্কা হবে!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাঁদের একেকজনকে প্রায়ই টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের অক্ষমতার জায়গা চিহ্নিত করতে দেখা যায়। প্রত্যেকের কথার মূল সুরও মোটামুটি এ রকমই, ‘আমরা কেউই পোলার্ড-রাসেল নই। ’ অবশ্য পাওয়ার হিটিংয়ে নিজেদের পিছিয়ে থাকা নিয়ে সতীর্থদের অনেকের এমন সরল স্বীকারোক্তির সঙ্গে কিছুতেই একমত হতে পারেন না এনামুল হক বিজয়। বরং ছক্কা মারার সামর্থ্য সবারই আছে বলেও বিশ্বাস করেন তিনি, ‘হয়তো বলে ফেলেছে কথাটা।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এই বাংলাদেশ দলের ব্যাটারদের কাকে আপনি ছক্কা মারতে দেখেননি? কে ছয় মারতে পারে না? সবাই মারতে পারে। ’

সবাই পারলেও এর সম্মিলিত প্রকাশ তেমন দেখা যায় না। আবার টি-টোয়েন্টিসুলভ স্ট্রাইক রেটের সঙ্গেও তাল মেলাতে পারেন না অনেকে। এ রকম একাধিক না পারার যোগফলেই সম্প্রতি কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে বড্ড বেহাল বাংলাদেশ। এই সংস্করণে নিজেদের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্নে যখন দলের তরফ থেকেও কেউ সেভাবে প্রতিবাদ করেন না, তখন এখানেও ব্যতিক্রম এনামুল, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমরা ভালো দল না, এটা আমি স্বীকার করি না। আমি বরং বিশ্বাস করি, আমরা নিজেদের সেভাবে প্রয়োগ করতে পারছি না। কেউ বললে তাই মানব না। এমন না যে কেউ এসে দলে বসে পড়েছে। যারা আসে, সবাই পারফরম করেই বাংলাদেশ দলে আসে। জাতীয় দল কোনো ছোট মঞ্চ না। ’

এই বড় মঞ্চে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা জিম্বাবুয়ে সফরে। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ এ হেরে আসা দল এখন একে একে বিশাল মঞ্চে খেলার অপেক্ষায়। সামনেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ। যে আসরের জন্য ঘোষিত ১৭ জনের বাংলাদেশ দলে ওপেনার বলতে মাত্র দুজনই। জিম্বাবুয়েতে পাঁচ ওপেনার নিয়ে যাওয়া দলটিই এবার এনামুলের সঙ্গে রেখেছে কেবল পারভেজ হোসেন ইমনকে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো না হলেও এশিয়া কাপ দিয়েই টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ঠিকই দেখালেন এনামুল, ‘নির্দিষ্ট দিনে হয়তো আমরা নিজেদের মেলে ধরতে পারছি না। কিন্তু তাই বলে মেলে ধরতে পারব না, এমনও নয়। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই বড় মঞ্চে পারফরম করতে সক্ষম। এরা করবেও ইনশাআল্লাহ। হয়তো এখন হচ্ছে না তবে অবশ্যই হবে। ’

হওয়ার জন্য নিজেদের প্রয়োগ করার একটি রেসিপিও দিলেন সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) এক হাজারের বেশি রান করে দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরার পথ প্রশস্ত করা এই ওপেনার, ‘টি-টোয়েন্টিটা বিভক্ত হয় ছোট ছোট ভূমিকায়। এটি ফোকাস করে এগোলেই ভালো। ৬ ওভারের মধ্যে দুজন ফিল্ডার বৃত্তের বাইরে থাকে। তখন পাওয়ার প্লে কাজে লাগালে প্রয়োগটা হয়ে যায়। ৬ ওভারের পর সব ফিল্ডার বাইরে চলে গেলে সিঙ্গল-ডাবলের সঙ্গে যদি বাউন্ডারিও বের করতে পারি, তাহলেও প্রয়োগ হয়। এরপর শেষ পাঁচ ওভারে ৫০ রান করা এই যুগের ক্রিকেটে অসম্ভব নয়। তা যদি করতে পারি, তাহলেও তো প্রয়োগটা হচ্ছে। এভাবে পারলে বড় স্কোর সম্ভব। আমরা কিছুদিন ধরে এই জায়গাগুলোতেই ভুল করে ফেলছি। ভুলটা শোধরাতে পারলেই হয়ে যায়। ’

আবার এই সংস্করণে প্রতিদিনই বড় স্কোর করার দরকার আছে বলেও মনে করেন না এনামুল, ‘এমন না যে প্রতিদিন ২০০ রান করতে হবে টি-টোয়েন্টিতে। একেক ম্যাচের উইকেট ভিন্ন হয়, প্রতিপক্ষও আলাদা থাকে। খেলোয়াড়ভেদে ভিন্নতা থাকে পরিকল্পনায়ও। হিটিংয়ের চেয়ে প্রয়োগটাই বেশি জরুরি। সে জন্য বেশি দরকার বুদ্ধিমত্তারও। ’ এই সংস্করণে ‘সম্মিলিত’ চেষ্টায়ই সাফল্য দেখেন তিনি, ‘এখন যে পরিবেশ দলে, কারো ওপরই অনেক বেশি দায়িত্ব নেই। ২০ ওভারের খেলা, সবাই যদি অল্প অল্প করে অবদান রাখে, তাহলেই বড় স্কোর গড়া সম্ভব এবং সম্ভব দলকে জয় এনে দেওয়াও। দল হিসেবেই খেলি আমরা। তাই ছোট ছোট অবদানই যথেষ্ট। শুরুটা ভালো করে দিতে পারলে দলও ভালো অনুভব করবে। ’



সাতদিনের সেরা