kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ক্রিকেটের সেই মূষিক প্রসব!

সাইদুজ্জামান   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোর্ড সভাপতির বাড়ির গ্যারেজ-ঠাসা সংবাদকর্মী। ছোট্ট একটা টেবিল উপচে পড়ছে টেলিভিশনের বুম। দুপাশে দুই নির্বাচককে নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসকে দেখে মনে হচ্ছিল ক্লাস ফাংশনে মঞ্চে ওঠা হতচকিত কোনো কিশোর, কোনো রকমে ছড়া শেষ করে মঞ্চ ছাড়তে পারলেই বাঁচে!

এর কারণও আছে। জুয়াসংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাকিবের চুক্তি করা নিয়ে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের মতো তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন জালাল ইউনুসও।

বিজ্ঞাপন

অথচ তাঁকেই কিনা পাঠ করতে হলো সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব দেওয়ার ঘোষণা! দীর্ঘদিন মিডিয়া কমিটির দায়িত্বে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে নিশ্চিত জানতেন চোখা চোখা সব প্রশ্ন ধেয়ে আসবে। এসেছেও। গোটা তিনেক প্রশ্নের যে উত্তর দিয়েছেন জালাল, তার সারবেত্তা—সাকিব নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। তা ছাড়া তিনি দেশের সেরা ক্রিকেটার। তাই বিসিবি সাকিবকে ‘ওউন’ করে। সব মিলিয়ে নিজেদের সেরা সম্পদের ওপর আস্থা অটুট আছে বিসিবির। টেস্টের পর এখন টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্বও সাকিবকে সে কারণেই দেওয়া বলে জানিয়েছেন তিনি।

জালালের শেষ মন্তব্যে অবশ্য মিশে আছে আড়াল করা আত্মশ্লাঘা। শব্দটি ‘কম্প্রোমাইজ’। টি-টোয়েন্টিতে জাতীয় দলের অবস্থা সুবিধার নয়। সদ্যই জিম্বাবুয়ে থেকে সিরিজ হেরে এসেছে দল। তাতে সাকিবকে বিসর্জন দিয়ে নতুন বিপর্যয় ডেকে আনতে চায়নি বোর্ড। তাই তাঁর সঙ্গে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ‘সমঝোতা’ করেছে বিসিবি।

এই সমঝোতা অবশ্য নিয়মিতই করে আসছে বিসিবি। যত বড় ক্রিকেটার, তত বড় ছাড় মেলে ক্রিকেট প্রশাসনের কাছ থেকে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে দলের শৃঙ্খলা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটি বুঝেও না বোঝার ভান করেন কর্মকর্তারা।

এই যেমন দলের জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারদের ওপর তিতিবিরক্ত বোর্ড পরিচালকদের একটি অংশ অতিসত্বর তাঁদের বিদায় চান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। বোর্ডের এই অংশের বিশ্বাস, এঁরা চলে গেলে নতুনদের নিয়ে নতুন করে ভালো দল গড়া যাবে। কিন্তু কর্তারা কি বুঝতে পারছেন না যে জ্যেষ্ঠদের ছাড় পাওয়া দেখে অভ্যস্ত নতুনরা তাঁদের ছেড়ে যাওয়া চেয়ার দখলের জন্য তৈরি হয়ে আছে! সাকিব-তামিম ইকবালরা যেতেই তাঁদের ‘শূন্যস্থান’ পূরণ করে ফেলবেন ভবিষ্যতের ‘বড়’রা। একদিন এই নতুন ‘বড়’দের ওপর চটবেন ভবিষ্যতের বোর্ডকর্তারা, তাঁরাও আড়ালে ফুঁসবেন। আর প্রকাশ্যে তৈরি হবে নতুন সেট বড় ক্রিকেটার। এভাবে গড়িয়ে যাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

কেন যেন মনে হচ্ছে, সাকিবের সঙ্গে এই ‘সমঝোতা’ বোর্ডের একটা বাজি। চাপের মুখে আরো ভালো খেলেন তিনি। এশিয়া কাপে সেটি দেখা যাবে, অভাবিত কোনো ফল করে ফেলতে পারে বাংলাদেশ দল। অবশ্য এমন বাজিও আখেরে ভালো ফল দেয় না। এসব দিনে বোর্ড সভাপতি মনের আগল খুলে দেন। কিন্তু গতকাল তিনি নিজ বাড়ির নিচেই নামেননি। সেই মূষিক প্রসবের খবর দিতে কার ভালো লাগে!



সাতদিনের সেরা