kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘ব্যর্থ’ ইমনই মোহামেডানের নতুন ভরসা

বিদেশিদের ভিড়েও কয়েকজন তরুণ ফুটবলার বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন এই মৌসুমে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কালের কণ্ঠ বাছাই করেছে পাঁচ প্রতিভাবান ফুটবলারকে। তাঁদের সামর্থ্য আছে, সঙ্গে নিজেদের চেষ্টা ও স্বপ্ন যোগ করতে পারলেই হয়ে উঠবেন তারকা। তাঁদের নিয়েই সনৎ বাবলার ধারাবাহিকে আজ দ্বিতীয় পর্বে থাকছেন শাহরিয়ার ইমন।

১৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ব্যর্থ’ ইমনই মোহামেডানের নতুন ভরসা

চার বছর আগে তাড়িয়ে দেওয়া শাহরিয়ার ইমনই মোহামেডানের অন্যতম ভরসা! আবাহনীর বিপক্ষে দারুণ সুন্দর এক গোল করে সেই আশার পালে এমন হাওয়া দিয়েছেন, কোচও তাঁর চোখ রাঙিয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের স্বপ্নে।

খুলনায় টুর্নামেন্ট খেলে বেড়াতেন শাহরিয়ার ইমন। গোল করা ও করানোয় তাঁর বিশেষ খ্যাতি তৈরি হয় এলাকায়। এলাকার ‘ওস্তাদ’ প্রশান্ত দাশ ছাত্রের স্বপ্নটি বড় করতে চেয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তাই ২০১৮ সালে তাঁকে পাঠিয়েছিলেন ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানে। কিন্তু সেই স্মৃতি তাঁর মধুর ছিল না, ‘সেবার আমি মোহামেডানের অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলতে এসেছিলাম। আমার ওস্তাদ প্রশান্ত দাশ আমাকে পাঠিয়েছিলেন মোহামেডানে ট্রায়াল দিতে। কয়েক দিন ট্রায়াল দিয়েও আমি দলে জায়গা করতে পারিনি, বাড়ি ফিরে গিয়েছিলাম। এবার মৌসুমের শুরুতে স্বাধীনতা কাপের ম্যাচের পর সেই মোহামেডানই ডেকে নিয়েছে আমাকে। ’

সাদা-কালোর ট্রায়ালে ব্যর্থ হয়ে ইমনের মন ভাঙলেও দমে যাননি। বিকল্প পথ বেছে নেন সেনাবাহিনী ফুটবল দলে নাম লিখিয়ে। ফুটবল তারকা আলফাজ আহমেদ তখন সেনাবাহিনীর কোচ, তাঁর কল্যাণে সৈনিক হিসেবে সেনাবাহিনীতে তাঁর চাকরি হয় ২০১৯ সালে। তাদের হয়ে খেলেন স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে আর সেটিই হয়ে ওঠে ২১ বছর বয়সী এ ফুটবলারের ভাগ্য পরিবর্তনের টুর্নামেন্ট, ‘এই টুর্নামেন্টে আমি সেনাবাহিনীর হয়ে খেলেছি এবং আমার গোলে হারিয়েছিলাম মোহামেডানকে। এরপর সাদা-কালো থেকে ডাক পাই। সত্যি এটি আমি ভাবিনি। এ ম্যাচটিই আসলে মোহামেডানের দুয়ার খুলে দিয়েছে আমার। ’ সাদা-কালোর ঐতিহ্যের সুদিন ফুরিয়ে গেলেও এখনো এই নামের প্রতি মোহ আছে অনেক তরুণ ফুটবলারের। মোহাবিষ্ট শাহরিয়ার ইমনও পড়েন তার প্রেমে এবং স্বপ্নপূরণের চাবি হয়ে ওঠে মোহামেডানের জালে ওই গোলটি।

এরপর মোহামেডানের সাবেক অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেনের অধীনে এই ফরোয়ার্ডের জায়গা হয় নিয়মিত একাদশে। খেলেছেন দুই উইংয়ে, তবে নিজের পছন্দ বাঁ দিকে খেলা। যদিও আবাহনীর বিপক্ষে লিগে দুর্দান্ত গোলটি করেছেন ডান দিক দিয়ে ঢুকে বডি ডজে দুজনকে পরাস্ত করে। সেই ম্যাচ হারলেও ইমনের ছোট্ট ক্যারিয়ার রাঙিয়ে দেওয়ার ম্যাচ এটি, ‘মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ যুদ্ধের মতো মনে হয় আমার কাছে। সেই ম্যাচে আমি গোল করেছি, এটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা স্মৃতি এখন পর্যন্ত। ’ লিগে তাঁর আরেকটি গোল আছে সাইফের বিপক্ষে, সেই ম্যাচটি জিতেছে মোহামেডান। এ ছাড়া তিনটি অ্যাসিস্ট আছে।

মাত্র দুই গোল দিয়ে কি কারো গায়ে প্রতিভাবানের ট্যাগ লাগানো যায়? সেটি হয়তো যায় না, তবে মোহামেডানের সহকারী কোচ আলফাজ আহমেদের ব্যাখ্যা অন্য রকম, ‘একটি ছেলে ঢাকায় কোনো লিগে না খেলে সরাসরি দেশের শীর্ষ লিগে খেলেছে প্রথম। আবাহনীর বিপক্ষে করেছে একটি অদ্ভুত সুন্দর গোল। তা ছাড়া গোল করার জায়গায় সে খেলেনি, বেশির ভাগ সময় দুই উইং থেকে ক্রস ফেলেছে। তার পাসগুলো ভালো। দেখবেন, দু-তিন বছরের মধ্যে এই ছেলে জাতীয় দলে খেলবে। ’

কোচের ভীষণ আস্থা তাঁর ফুটবলারের ওপর।



সাতদিনের সেরা