kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

নামি ক্লাবের শহর লন্ডন

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নামি ক্লাবের শহর লন্ডন

ঐতিহ্যের ধারক লন্ডন। এর অলিতে-গলিতে ইতিহাস। ক্লাবের শহরও লন্ডন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেরই সাতটি ক্লাব আর্সেনাল, ব্রেন্টফোর্ড, চেলসি, ক্রিস্টাল প্যালেস, ফুলহাম, টটেনহাম ও ওয়েস্ট হাম—বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এই শহরে গড়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

মাত্র চার মাইল দূরত্বে ইংল্যান্ডের অন্যতম দুই জনপ্রিয় ক্লাব আর্সেনাল ও টটেনহাম! চেলসি অবশ্য পশ্চিম লন্ডনে।

ইসলিংটনের হাইবুরি হাউসে এমিরেটস স্টেডিয়ামে ঠিকানা আর্সেনালের। ইংল্যান্ডের প্রাচীনতম ক্লাবগুলোর একটি আর্সেনাল। শিরোপার সংখ্যায় ইংল্যান্ডের তৃতীয় সফল ক্লাব। দর্শক ধারণক্ষমতায় চতুর্থ। নতুনভাবে তৈরি স্টেডিয়ামের চারদিকে আভিজাত্যের ছোঁয়া। ডেনিস বার্গক্যাম্প, টনি অ্যাডামস, প্যাট্রিক ভিয়েরা, ইয়ান রাইট, রবার্ট পিরেস, ডেভিড সিম্যানের মতো কিংবদন্তিরা মাতিয়েছেন গানার জার্সি।

মূল স্টেডিয়ামের চারদিকের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে পরিচয়সহ গানার কিংবদন্তিদের ছবি। তিন দিকেই আছে প্রবেশপথ। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ব্রিজের মতো খানিকটা পথ পেরিয়ে নিচে নামলেই টনি অ্যাডামস ও থিয়েরি অঁরিদের বুনো উল্লাসের ছবি। ছবির পাশেই তুলে ধরা হয়েছে তাঁদের পরিচয়। ফরাসি তারকাকে নিয়ে সাবেক কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের প্রশংসাসূচক বাণীও আছে শিলালিপিতে, ‘পার্কের মাঝপথে বল ধরেও গোল করতে পারত। বিশ্বের আর কারো এই ক্ষমতা নেই। ’ একইভাবে তুলে ধরা হয়েছে আরেক কিংবদন্তি টনি অ্যাডামসকে বিশাল ভাস্কর্যে।

মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ডান দিকে এগোলে আরেকটি প্রবেশপথ। ফটকের সামনে দুই দিকে দুটি কামান। এর সামনে দাঁড়িয়েই কথা হচ্ছিল সায়গান বানিসাইদের সঙ্গে। ইরানের যুবদলের হয়ে খেলা বানিসাইদ এখন আর্সেনাল এবং প্রতিবেশী টটেনহামের ফাউন্ডেশনের ফুটবল কোচ। নিজেকে নিয়ে আলাপচারিতা করলেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ক্লাব নিয়ে কথা বলতে অপারগতা জানিয়েছেন তিনি।

সমর্থকদের এতে বিপত্তি নেই। নতুন মৌসুমে আর্সেনাল কেমন করবে, কোচের ভবিষ্যৎ কী—এ নিয়ে কথা বলতে তাই আপত্তি করেননি ম্যান্নি। গানার স্যুভেনির শপ ‘দ্য আর্মারিতে’ দাঁড়িয়ে এই ভক্ত বলছিলেন সেরা চারে থাকতে না পারলে নিশ্চিতভাবে চাকরি হারাবেন মিকেল আর্তেতা, ‘গ্যাব্রিয়েল জেসুস এসেছেন। কিন্তু আর্তেতা দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগে তুলতে না পারলে তিনি চাকরি হারাবেন। কারণ তাঁর চাহিদা অনুযায়ী দল গড়া হয়েছে। ’

এমিরেটেস স্টেডিয়াম থেকে ঠিক চার মাইলে দূরে টটেনহাম হটস্পার স্টেডিয়াম। হ্যারি কেইনরা নতুন এ মাঠে খেলেই স্পার্সদের এনে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট! ক্লাবের আগের মাঠ হোয়াইট হার্ট লেনে নতুনভাবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় তৈরি দৃষ্টিনন্দন এক স্থাপনা টটেনহাম হটস্পার স্টেডিয়াম। ২০১৯ সালে চালু হওয়া মাঠটির এই নাম অবশ্য অস্থায়ী। স্পন্সর পেলে তা বদলে যাবে। ৬২ হাজার ধারণক্ষমতার বিশালাকার এই স্টেডিয়ামের সাজসজ্জাও তাই পুরোপুরি শেষ হয়নি। এখনো সংস্কার হচ্ছে পেছনের দিকে। কাজ বাকি মূল ফটকেরও।

পশ্চিম লন্ডনের ক্লাব চেলসির মাঠ স্টামফোর্ড ব্রিজ। লন্ডনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠের মতো অবশ্য অতটা জৌলুস নেই স্টামফোর্ড ব্রিজের। মাঝেমধ্যে সংস্কার হয়তো হয়েছে, কিন্তু ১১৭ বছর আগে তৈরি মাঠটি বর্তমান সময়ের দর্শক চাহিদার তুলনায় একটু বেমানানই। দর্শক ধারণক্ষমতা মাত্র ৪০ হাজার। রোমান আব্রামোভিচ দায়িত্ব নেওয়ার পর চেলসির মাঠের পারফরম্যান্স ছিল ঈর্ষণীয়। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পাশাপাশি দু-দুইবার জিতেছে ইউরোপের অভিজাত ক্লাব প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। কিন্তু নগর কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেয়েও মাঠের খোলনলচে বদলে দিতে পারেননি আব্রামোভিচ।

রুশ ধনকুবের এখন অতীত, চেলসি এখন নতুন মালিকানায়। আর নতুন মালিকদের প্রথম লক্ষ্যই হচ্ছে দর্শক চাহিদা অনুযায়ী মাঠটিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো। পাশের রাস্তাঘাটের সংস্কার করা। লন্ডন ডার্বিতে টটেনহামের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম হোম ম্যাচের আগে নতুন মাঠ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ক্লাবের নতুন মালিকরা। সংস্কার করা হবে পশ্চিম গ্যালারির প্রবেশপথের চেলসি এফসি লোগোটিও। ১২০ বছরের ইতিহাসে ব্লুজ যে কয়টি শিরোপা জিতেছে, সেগুলো তুলে ধরা হবে নতুনভাবে তৈরি উঁচু ব্যানারে। এই সব সংস্কার হলে সৌন্দর্য বাড়বে স্টামফোর্ড ব্রিজেরও।

তবু একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ভক্তরা—মাঠের নৈপুণ্য চেলসি ধরে রাখতে পারবে তো নতুন মালিকানায়?



সাতদিনের সেরা