kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মৌসুমের ‘সেরা আবিষ্কার’

বিদেশিদের ভিড়েও কয়েকজন তরুণ ফুটবলার বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন এই মৌসুমে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কালের কণ্ঠ বাছাই করেছে পাঁচ প্রতিভাবান ফুটবলারকে। তাঁদের সামর্থ্য আছে, সঙ্গে নিজেদের চেষ্টা ও স্বপ্ন যোগ করতে পারলেই হয়ে উঠবেন তারকা। তাঁদের নিয়েই সনৎ বাবলার ধারাবাহিকে আজ প্রথম পর্বে থাকছেন মোরসালিন আহমেদ।

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৌসুমের ‘সেরা আবিষ্কার’

চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে দুর্দান্ত গোল ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার কারণে মোরসালিন আহমেদকে মনে করা হচ্ছে মৌসুমের ‘সেরা আবিষ্কার’।

মোহামেডানের জার্সিতে প্রিমিয়ারে অভিষেক মৌসুমে মাত্র সাত ম্যাচ খেলেই হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন মোরসালিন আহমেদ। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে দুর্দান্ত গোল ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার কারণে তাঁকে মনে করা হচ্ছে মৌসুমের ‘সেরা আবিষ্কার’। তবে এই তরুণ মিডফিল্ডার জপ করেন আরেক সেরার নাম, ‘আমি কেভিন ডি ব্রুইনের ভক্ত। তিনি যে রকম খেলেন তাঁর কানাকড়িও যদি খেলতে পারতাম...!’

মোরসালিনের শয়নে-স্বপনে এই বেলজিয়ান মিডফিল্ডার।

বিজ্ঞাপন

তাই বিকেএসপির লাইব্রেরির কম্পিউটারে বসে নিয়মিত দেখতেন ড্রি ব্রুইনের খেলার ভিডিও। এরপর মাঠেও সেসবের চর্চা করতেন। তাঁকে দেখেই কি শ্যুটিংয়ের দিকে ঝুঁকেছেন? ‘না। ছোটবেলা থেকেই আমি শ্যুটিংচর্চা করি। কোনো দিন শ্যুটিং ছাড়া ট্রেনিং শেষ করেছি বলে মনে করতে পারি না। এটা আমার খেলার সহজাত ব্যাপার হয়ে গেছে, ডি বক্সের বাইরে জায়গা পেলেই আমি শ্যুটিংয়ের সুযোগ নেব। কোনো কোচও আমাকে বাধা দেননি। দুই পায়ে শট আছে, তবে ডান পায়ের শট নিখুঁত হয় বেশি’—নিজের শ্যুটিং নিয়ে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ১৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার। মোরসালিনের শটের তীব্রতা বিঁধেছে বসুন্ধরা কিংসকেও। অথচ এই মোরসালিন তাঁদেরই, ধারে মোহামেডানকে দিয়েছিল ফিরতি লেগে। সাত ম্যাচে দুই গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট আছে মোরসালিনের।

২০১৯-২০ মৌসুমে তৃতীয় বিভাগে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষভাবে চোখে পড়েছিল বসুন্ধরা কিংসের। ১৬ ম্যাচে ১৯ গোলের কীর্তি দেখেই দেশসেরা ক্লাবটি তিন বছরের চুক্তিতে নিয়েছিল এই তরুণকে। বিকেএসপিতে পড়ুয়া এই তরুণও চেয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে ট্রেনিং করতে, ‘এ বছর লিগে খেলব, এতটা ভাবিনি। আমার পরিকল্পনা ছিল কিংসের ট্রেনিংয়ে তিন বছর শিখব, তারপর প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে নামব; কিন্তু এক বছর পার না হতেই ইমরুল স্যার লোনে খেলতে পাঠালেন মোহামেডানে। এটা ছিল প্রথম বিস্ময়। পরে দেখি আমার পারফরম্যান্স নিয়ে সবাই কথা বলছে, এই আনন্দ আমি বলে বোঝাতে পারব না। ’ কিংসের সঙ্গে তাঁর ট্রেনিংয়ে থাকার মূল উদ্দেশ্য হলো শেখা। দক্ষ কোচ ও দেশি-বিদেশি ফুটবলারে সমৃদ্ধ বিশাল পাঠশালায় শেখা। ট্রেনিংয়ে মোরসালিনের উন্নতি সবার চোখে পড়লেও তিনি কখনো ম্যাচ টাইমের দাবি তোলেননি; কিন্তু কিংস ম্যানেজমেন্টই উদ্যোগী হয়ে তাঁকে ম্যাচ টাইম দিতে চেয়েছে এবং সেই সুবাদে মোহামেডানের জার্সিতে মাঠে দেখা গেছে মোরসালিনকে।

এমন চমকে দেওয়া পারফরম্যান্সের পর মোরসালিনকে কি ফিরিয়ে আনবে কিংস? এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তারাদের ভিড়ে কিংসের মধ্যমাঠে এই মিডফিল্ডারের জায়গা হবে কি না, এটাও একটা ব্যাপার। তবে মাঝমাঠে খেলাটা তিনি বেশ উপভোগ করেন, ‘আমার পছন্দের পজিশন সেন্ট্রাল মিডফিল্ড। এখানে খেলাটা তৈরি করা, বল বিতরণ করা ও বিশেষভাবে থ্রু বলগুলো বাড়িয়ে খুব আনন্দ পাই আমি। এগুলোই তো আসলে মিডফিল্ডারের কাজ, এর মাঝে আমি নিজেও গোলের সুযোগ পাব। তা ছাড়া আমাকে গোল করতেই হবে এমন নয়, ঠিক ডি ব্রুইনের মতো...। ’

বাংলাদেশি তরুণের সব স্বপ্ন ঘিরেই কেভিন ডি ব্রুইন! এই স্বপ্নের সামান্যও যদি মাঠের বাস্তবতায় মেলে ধরতে পারেন, তাহলেই মোরসালিন হতে পারেন প্রজন্মের দেশসেরা মিডফিল্ডার।



সাতদিনের সেরা