kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ক্ষমতার ঘূর্ণাবর্তে ক্রিকেট

সাইদুজ্জামান   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এ দেশে সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার শেষ নেই। ধনীর অহংকারের সামনে নতজানু থাকতে হয়। পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। ক্ষমতাবান যেন গনগনে উনুন।

বিজ্ঞাপন

আর তারকার হাতে থাকে ‘লাইসেন্স টু কিল’!

এই ‘কিল’ মানে মানুষ খুন করার অধিকার নয়, যা খুশি করার ছাড়পত্র। অনেক দিন হলো সেই ছাড়পত্র তুলে দেওয়া হয়েছে সাকিব আল হাসানের হাতে। আছে বলেই বেটউইনার নিউজ নামের একটি কথিত নিউজ পোর্টালের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করার আগে বিসিবিকে অবহিত করার প্রয়োজন বোধ করেননি তিনি। যেটিকে সরাসরি চাকরির শর্ত ভঙ্গ বলে মনে করেন ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। তবু এই শর্ত ভঙ্গ করার দায়ে সাকিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেনি বিসিবি। কর্তারা ব্যস্ত বেটউইনার নিউজ যে বকলমে আন্তর্জাতিক বেটিং হাউস বেটউইনার, সেটি প্রমাণে।

গতকাল বিকেলে বিষয়টি নিয়ে গরম ভাষণ দিয়েছেন নাজমুল হাসান। প্রত্যাশিতভাবেই বোর্ড সভাপতির সঙ্গে সুর মিলিয়েছে মিডিয়া। আর অভাবিতভাবে সম্মিলিত জনতাও সাকিবের এই চুক্তির ব্যাপারে অসূয়া প্রকাশ করেছে।

সব পক্ষের এভাবে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টা পরই বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বরাবর একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন সাকিব। সেটিতে জানিয়েছেন, বেটউইনার নিউজের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের ফেসবুক পেজ কিংবা অন্য কোথাও এসংক্রান্ত প্রচারিত পোস্ট প্রত্যাহার করে নেবেন। বেটউইনার নিউজ ছেড়ে দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলতে প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন সাকিব। সামনেই এশিয়া কাপ। সেটির অংশ হতে আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরছেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেট তারকা।

এর মধ্যে যা হওয়ার হয়ে গেছে। সাকিবের যেকোনো ভুলের পক্ষেও অভাবিত সব যুক্তি তুলে ধরা জনতা এবারের ঘটনায় খুব সরব নয়। সেই শুরুর দিন থেকে বোর্ডও সপ্রতিভ। নিশ্চিত করে বলতে পারি, জল এত ঘোলাটে হবে, সাকিব ঘুণাক্ষরেও অনুমান করতে পারেননি। প্রথমত, বোর্ডকে না জানিয়ে চুক্তি করার বিষয়টি নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তার কোনো কারণ ছিল না। কারণ এটা সাকিব নিয়মিতই করেছেন, বোর্ডের অনুমোদনের তোয়াক্কা করেননি। কালেভদ্রে অনুমতি নিলেও সেটি ছিল মৌখিক।

কিন্তু এবার সাকিবের মুখের কথায় বিশ্বাস করেনি বিসিবি। বুধবার রাতে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে টেলিফোনালাপে চুক্তি থেকে সরে আসার কথা জানিয়েও আশ্বস্ত করতে পারেননি সাকিব। সভাপতি সাফ জানিয়ে দেন, ‘চিঠি দিয়ে জানাও। ’ গতকাল বিকেলের মধ্যেও সেই চিঠি না পেয়েই গণমাধ্যমে পরোক্ষ ‘আলটিমেটাম’ দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি। এবং এর কয়েক ঘণ্টা পরই এসেছে সাকিবের সেই ই-মেইল।

বোর্ডের এক কর্মকর্তা এই বাঁকবদলের একটি ব্যাখ্যাই দাঁড় করাতে পেরেছেন, ‘ও (সাকিব) হয়তো মিডিয়া আর পাবলিক রি-অ্যাকশন দেখতে চাচ্ছিল। ’ সেটি পক্ষে নেই দেখেই কী পিঠটান দিয়েছেন সাকিব? নাকি জনমত জরিপে এগিয়ে থাকাতেই এবার দেশের শীর্ষ ক্রিকেট তারকার ওপর খড়্গ হওয়ার সাহস দেখিয়েছে বিসিবি?

এসব প্রশ্নের সত্যাসত্য জানার উপায় নেই। তবে এই দুটি প্রশ্নেই লুকিয়ে দেশের ক্রিকেট প্রত্যাশিত গন্তব্যে পৌঁছতে না পারার কারণ। যিনি ক্ষমতাবান কিংবা তারকা, তিনি নিজের ইচ্ছামতো ক্রিকেটের গাড়ি ছুটিয়েছেন। কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করেননি। একজন সাকিব বারবার সামনে এসেছেন, পেছনে আরো কয়েকজন আছেন। তাঁদের দেখে ‘রাফ ড্রাইভিং’ ভবিষ্যতের কোনো তারকা শিখছেন কি না জানি না।

তবে সাকিব দেশের শীর্ষ ক্রিকেটার, সবচেয়ে দামি সেলিব্রেটিও। তাই তিনি তো জোরে গাড়ি চালাবেনই, নাকি?

ড্রাইভিং প্রসঙ্গে আচমকা মনে পড়ল, আরে, সাকিবের গাড়ির নম্বর প্লেট নেই কেন?



সাতদিনের সেরা