kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

২৫০ করেও জেতার নেপথ্যে

১১ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২৫০ করেও জেতার নেপথ্যে

অবশেষে...

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ২ রানে একবার জীবন ফিরে পেয়েছিলেন আফিফ হোসেন। নিজের বলেই বাংলাদেশের এই ব্যাটারের ক্যাচ ফেলেছিলেন ইনোসেন্ট কাইয়া। ওভাবে জীবন ফিরে পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে যেখানে নিয়ে যান আফিফ, সেখানে গিয়েও অস্বস্তিতেই ছিল বাংলাদেশ। না থেকে উপায় কী! আগের দুই ম্যাচে ৩০৩ ও ২৯০ রান করেও যখন নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পড়েছিল, তখন ৯ উইকেটে তোলা ২৫৬ রানে সুরক্ষা খোঁজার কারণ ছিল না।

বিজ্ঞাপন

তবু এই পুঁজি নিয়েও ১০৫ রানের বিশাল জয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানো বাংলাদেশের প্রথম দুই ম্যাচের ভুল উঠে এলো ম্যাচসেরা আফিফের কণ্ঠেই। অবশেষে জেতার স্বস্তি ঘোষণা করতে গিয়ে ৮১ বলে অপরাজিত ৮৫ রানের ইনিংস খেলা এই তরুণ ব্যাটার ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে সঞ্চালককে বলছিলেন, ‘অবশ্যই বিজয়ী দলে থাকতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। আজ সত্যিই খুব ভালো খেলেছি। তবে বোলিং বিভাগে আমাদের উন্নতি করাটা ভীষণ দরকার হয়ে পড়েছে। ’

জিম্বাবুয়ে সিরিজ তো গেল, সামনে অপেক্ষায় আরো কঠিন সব মিশন। এই মাসের শেষেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি। অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডেও একটি কুড়ি-বিশের ত্রিদেশীয় আসরে খেলা ঠিক হয়ে আছে। বোলিংয়ে উন্নতি দেখার আশায় আগে কিছুদিনের বিশ্রামও উপভোগ করে নিতে চান আফিফ, ‘আপাতত কয়েকটা দিনের বিশ্রাম। এরপর এশিয়া কাপ দিয়ে শিগগিরই ফিরছি আমরা। ’ ফেরার আগে জিম্বাবুয়ে সফর বড় এক শিক্ষাই হয়ে থাকল বাংলাদেশের জন্য। সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে বিশেষ করে বোলারদের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। তবে শেষ ম্যাচে এসে জয়ের হাসি হাসা তামিম ইকবালের অকুণ্ঠ প্রশংসাই পেলেন আফিফ। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক বলছিলেন, ‘আফিফ যেভাবে ব্যাটিং করেছে, দেখার জন্য সত্যিই দারুণ ব্যাপার ছিল। ওর টাইমিংও হচ্ছিল ভালো। এককথায় বললে অসাধারণ ব্যাটিংই করেছে সে। ’ আফিফের ব্যাটেই আড়াই শ পার করে সফরকারীরা; কিন্তু তাতে সুস্থির হওয়ার সুযোগ যে ছিল না, সেটি স্বীকারেও দ্বিধাহীন তামিম, ‘৩০০ রান করেও যখন আপনি হারেন, তখন ২৫০ রানকেও ২০০ রানের সমানই দেখায়। ’

আগের দুই ম্যাচে শুরুতে আঘাত হেনেও চাপ ধরে রাখতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম ম্যাচে সিকান্দার রাজা-ইনোসেন্ট কাইয়ার ১৯২ রানের জুটি বিপদ সামলে জয়ের তীরে নিয়ে যায় জিম্বাবুয়েকে। পরের ম্যাচে সঙ্গী বদল হয় রাজার। কাইয়ার অল্পতেই বিদায় নেওয়ার দিনে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রেজিস চাকাভা দাঁড়িয়ে যান রাজার সঙ্গে। তাঁদের ২০০ ছাড়ানো পার্টনারশিপ সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসায় জিম্বাবুইয়ানদের। দুইবার জুটি ভাঙতে ব্যর্থ বাংলাদেশের বোলাররা এবার কোনো সুযোগ রাখেননি প্রতিপক্ষের ঘুরে দাঁড়ানোর। ৩১ রানে ৫ উইকেট হারানো স্বাগতিকদের আর লড়াইয়ে ফেরার পথ ছিল না। ওয়ানডে অভিষেকে এক ওভারেই ২ উইকেট তুলে সে পথ অনেকটাই রুদ্ধ করেন এবাদত হোসেন। এর মধ্যে আছে আসল শিকারও। টানা দুই ম্যাচে অপরাজিত সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকদের সিরিজ জয়ের নায়ক রাজাকে ওয়াইড ইয়র্কারে সাজঘরের পথ দেখানো পেসার এবাদত অধিনায়কের কাছ থেকে প্রাপ্য প্রশংসাও পেলেন তাই, ‘সৌভাগ্যক্রমে আজ আমরা পাঁচটি উইকেট খুব দ্রুত পেয়ে গেছি। যা ভীষণ রকম পক্ষে গিয়েছে আমাদের। এবাদতের কথাও বলতে হয়। অনেক দিন থেকেই সে দলের সঙ্গে আছে। তবে লম্বা সময় ধরে ওর একাদশে সুযোগ না পাওয়াটা বিস্ময়করই। তবে এই শেষ ম্যাচের জন্য ওকে আমরা পেলাম এবং নেমেই সে আস্থার প্রতিদানও দিয়ে দিল। ’



সাতদিনের সেরা