kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাকিব অটল অনড় বোর্ড

গতকাল ছিল চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সাকিবের সিদ্ধান্ত জানানোর শেষ দিন। তিনি সেটি জানিয়েছেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত বিসিবির প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি।

১১ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাকিব অটল অনড় বোর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে এর আগে নিষিদ্ধ হয়েছেন। জুয়াড়ির তথ্য গোপন করার অভিযোগে আইসিসির নিষেধাজ্ঞাও বর্তেছিল সাকিব আল হাসানের ওপর। তবু বেটউইনার নিউজের সঙ্গে দূতিয়ালি চুক্তি করে যে পরিস্থিতিতে পড়েছেন, এ রকম কিছুর সঙ্গে দেশসেরা ক্রিকেটারের এবারই প্রথম পরিচয়। ‘মামুলি’ একটি চুক্তির বিষয়ে বোর্ড এমন কড়া অবস্থান নেবে, সম্ভবত ভাবতে পারেননি সাকিব! বেটউইনারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল না করলে এশিয়া কাপে খেলা হবে না—গতকাল তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বোর্ডের পক্ষ থেকে।

বিজ্ঞাপন

উত্তরে সাকিব এখনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি। তবে তিনি চুক্তির ব্যাপারে অটল থাকলে অনড় বোর্ড কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।

বেটউইনার নিউজের সঙ্গে চুক্তিটাকে ‘মামুলি’ই মনে হয়ে থাকবে সাকিব আল হাসানের কাছে। নইলে বাধ্যবাধকতা থাকার পরও বোর্ডকে কেন চুক্তির বিষয়টি অবহিত করেননি তিনি? বেটউইনারের সঙ্গে দেশের শীর্ষ তারকার চুক্তির বিষয়টি বোর্ড জেনেছে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর। চুক্তিটি একটি স্পোর্টস নিউজ পোর্টালের হলেও এর সম্পৃক্ততা রয়েছে স্পোর্টস বেটিং কম্পানি বেটউইনারের সঙ্গে। এখানেই বিসিবির আপত্তি। বাংলাদেশের আইনে জুয়া নিষিদ্ধ। তাই এজাতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে, এমন কিছুর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়াকে নীতিবিরুদ্ধ মনে করছে বিসিবি।

নীতিগত এই অবস্থানের কথা শুরু থেকে জানিয়ে আসছেন বিসিবির সভাপতি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতনরা। গতকাল ছিল চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সাকিবের সিদ্ধান্ত জানানোর শেষ দিন। তিনি সেটি জানিয়েছেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত বিসিবির প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। যত দূর জানা গেছে, বেটউইনার নিউজের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি অব্যাহত রাখার পক্ষে নানা যুক্তি দিয়েছেন সাকিব। বলার অপেক্ষা রাখে না, সেসবে অবস্থান বদলায়নি বিসিবি। গতকাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘আপনারা এ পর্যন্ত যেটুকু জেনেছেন, বিষয়টি সেখানেই আছে। সিদ্ধান্ত হলেই জানতে পারবেন। ’ একই প্রশ্নে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক ঊর্ধ্বতন পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, ‘আমাদের দেশে জুয়া নিষিদ্ধ। সে রকম একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো কিছুই এখানে (দেশে) অনুমোদিত নয়। এখন কেউ যদি ও রকম (চুক্তি) করে, তাহলে আমাদের (বিসিবি) কী করা উচিত?’

তাঁর এই পাল্টা প্রশ্নে মিশে ছিল বিরক্তি। বিরক্তির কারণ এত দিনের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও সাকিব কেন এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে গেলেন, যেটির বৈধতা নিয়ে সংশয় আছে? কেন তিনি চুক্তি সম্পাদনের আগে একবার বোর্ডের পরামর্শের প্রয়োজন উপলব্ধি করলেন না?

বোর্ডের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আইসিসি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্পোর্টস বেটিং হাউসের ক্রিকেটসংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন সাকিব। ভারতে ওয়ানএক্সবেট নামের একই ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানে ক্রিকেটারদের বিজ্ঞাপন করতেও দেখা যাচ্ছে। তাহলে কেন বাধা দিচ্ছে বিসিবি? অবশ্য এসব যুক্তি ধোপে টেকেনি বিসিবির কাছে। কারণ ওসব দেশে স্পোর্টস বেটিং বৈধ। বাংলাদেশে অনুমোদন নেই। যে সংস্থার সঙ্গে সাকিবের সব শেষ বিজ্ঞাপনী চুক্তি হয়েছে, সেটির ওয়েবসাইট বাংলাদেশে ব্লক করা আছে। ভারতীয় যে দুজন ক্রিকেটারের উদাহরণ টানা হয়েছে, তাঁরা সাবেক।

বিসিবি আরো বিব্রত বিনা অনুমতিতে সাকিবের এমন একটি চুক্তি সম্পাদনে। বোর্ডের সঙ্গে চুক্তির শর্ত মেনে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ‘আমরা জানি একই রকম ওয়েবসাইটের প্রস্তাব আমাদের আরো ক্রিকেটার পেয়েছিল। কই, তারা তো চুক্তি করেনি’, সাকিবের কোনো যুক্তিই গ্রহণ না করার ইঙ্গিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ড কর্তার প্রতিক্রিয়ায়। তার মানে বেটউইনার নিউজ আর সাকিবকে ঘিরে আরো বড় ‘খবর’ এলো বলে!



সাতদিনের সেরা