kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মনের শক্তি ক্ষয়েই বেহাল

কর্তাদের তৈরি এই ‘ইনসিকিউরিটি ফিলিংস’ই দলের সর্বনাশের দুয়ার খুলে দিয়েছে, দৃঢ় কণ্ঠে তা ঘোষণা করতেও দ্বিধাহীন ফাহিম, ‘ভেতরের যে অনুপ্রেরণাটা, ভেতরের যে সাহস, সেদিক থেকে আমরা খুব পিছিয়ে গেছি। এটিই খুব দুর্বল করে ফেলেছে আমাদের। সিরিজ হারার পেছনে এটিকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে আমার কাছে। মানসিক জোরের দিক থেকেই হেরে গেলাম আমরা।’

৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মনের শক্তি ক্ষয়েই বেহাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পল স্টারলিং আর হ্যারি টেক্টররা একদমই ঘাবড়ে যাননি। বরং বুকে সাহস নিয়ে পাল্টা আক্রমণে প্রবল প্রতিপক্ষের ভিতও কাঁপিয়ে দেন। যে ম্যাচের ফল আগে ব্যাট করা দলের ইনিংসের পরই নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার কথা, সেই ম্যাচের উত্তেজনাই গিয়ে ঠেকে একেবারে শেষ বল পর্যন্ত। সম্প্রতি ডাবলিনের ম্যালাহাইডে নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেটে তোলা ৩৬০ রান তাড়ায় আয়ারল্যান্ড হারে মাত্র ১ রানে।

বিজ্ঞাপন

হেরেও অকুতোভয় স্টারলিং-টেক্টরদের ব্যাটে ছিল আইরিশ বীরত্বের সগৌরব ঘোষণাও। কিন্তু জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে তেমন কোনো সাহস প্রতিফলিত না হওয়াই পোড়াচ্ছে নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে।

সাকিব আল হাসানসহ বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের এই ‘মেন্টর’ আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের মতো দলগুলোর উত্থানের সঙ্গে নিজেদের পতনও লক্ষ করছেন, ‘একটা জিনিস বোধ হয় আমরা কেউই খেয়াল করিনি। র্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলো গত এক-দেড়-দুই বছরে অনেক উন্নতি করেছে কিন্তু। একসময় যেরকম ছিল, এখন ওরা ওরকম নেই। আয়ারল্যান্ডই যেমন। জিম্বাবুয়েও সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে খুব সফল ছিল। অন্যদিকে সার্বিকভাবে আমরা একটু নিচের দিকে নামছি। ’

এই নামায় ক্রিকেটারদের যার যার দক্ষতার জায়গায় কোনো অবনমন ঘটেছে বলে মনে হয়নি তাঁর। বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা অবনমন চিহ্নিত করলেন অন্য জায়গায়, ‘স্কিল তো আর বদলায় না। কিন্তু মানসিকতার যে ব্যাপারটি, ভেতরের যে শক্তিটা, সেই জায়গাটি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের। ’ অর্থাত্ মনের শক্তি ক্ষয়েই জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডে সিরিজেও দলের এমন বাজে হাল। যদিও টানা হারের জন্য ক্রিকেটারদেরই মূলত শূলে চড়ানো হচ্ছে। এমনিতে ক্রিকেটারবান্ধব কোচ হিসেবে পরিচিত ফাহিম তাঁদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে আঙুল তুলছেন অন্য দিকেই, ‘এখন সবাই কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। হাতে গোনা দু-চারজনের কথা বাদ দিলে দলে কিন্তু কেউ নিশ্চিত নয়। এমনকি মুশফিকও নিশ্চিত না টি-টোয়েন্টিতে থাকবে কি না। নিশ্চিত নয় মাহমুদ উল্লাহও। এই অনিশ্চয়তাগুলো মানুষকে দুর্বল করে। আমার মনে হয় এই দুর্বলতাগুলোই এক এক করে পুরো দলকে দুর্বল করে ফেলছে। ’

দলও সেসব দুর্বলতারই বলি হচ্ছে বলে মনে করেন বিসিবির সাবেক ক্রিকেট উন্নয়ন কর্মকর্তা, ‘আমরা প্রয়োজনের সময়ও সাহস করে প্রতিপক্ষকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারছি না। যদি আমি আউট হয়ে যাই কিংবা যদি আমি খারাপ খেলে বসি—এই চিন্তাগুলো কখনোই ভালো চিন্তা না। ’ ওয়ানডে হারে অবশ্য টি-টোয়েন্টি ব্যর্থতার যোগও দেখেন ফাহিম, ‘এই দলের সিংহভাগই টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলেছে। টি-টোয়েন্টিতে আমরা একটি বড় ধাক্কা খেয়েছি কিন্তু। ওখান থেকে কিছুটা আস্থা হারিয়েই আমরা ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলাম। ’ তবে যেসব দুর্বলতা দলের শক্তি ক্ষয় করে চলেছে, এর বীজ টি-টোয়েন্টি সিরিজেই রোপিত হয়েছিল বলে মনে করেন তিনি, ‘প্রথমে যখন সিনিয়রদের সরিয়ে ফেলল, তখন কিন্তু ওরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেল। যদি জুনিয়ররা ভালো খেলে, তবে আমাদের কী হবে? জুনিয়ররা একটু খারাপ খেলায় যখন আবার সিনিয়র কাউকে (মাহমুদ উল্লাহ) নিয়ে আসা হলো, তখন জুনিয়ররাও ভাবতে শুরু করল আমাদের কী হবে! তাতে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হলো, যাতে কেউই নিশ্চিত না। ’

কর্তাদের তৈরি এই ‘ইনসিকিউরিটি ফিলিংস’ই দলের সর্বনাশের দুয়ার খুলে দিয়েছে, দৃঢ় কণ্ঠে তা ঘোষণা করতেও দ্বিধাহীন ফাহিম, ‘ভেতরের যে অনুপ্রেরণাটা, ভেতরের যে সাহস, সেদিক থেকে আমরা খুব পিছিয়ে গেছি। এটিই খুব দুর্বল করে ফেলেছে আমাদের। সিরিজ হারার পেছনে এটিকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে আমার কাছে। মানসিক জোরের দিক থেকেই হেরে গেলাম আমরা। ’



সাতদিনের সেরা