kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে

লক্ষ্যহীন বোলিং, অর্থহীন ব্যাটিং

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লক্ষ্যহীন বোলিং, অর্থহীন ব্যাটিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক : যেখানে রান করার তাড়া নেই, সেখানে দেখা যায় বাহারি সব শটের পসরা সাজিয়ে বসে নিজেদের বিপদ ডেকে আনেন ব্যাটাররা! ভুলে বসে থাকেন টেস্ট ক্রিকেটের দাবি। এবারের ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরেই অ্যান্টিগা আর সেন্ট লুসিয়ায় সেসব কারো না দেখে থাকার কথা নয়।

কিন্তু যখন টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান তোলার চাহিদা থাকে, তখন আবার উল্টো চেহারায় দেখা যায় বাংলাদেশের ব্যাটারদের। এমনকি নিজেদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার সামর্থ্যের প্রকাশও দেখা যায় না! সংস্করণভেদে বাংলাদেশের ব্যাটারদের এমন এলোমেলো হয়ে যাওয়ার সর্বশেষ নজির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ডমিনিকার উইন্ডসর পার্কে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি।

বিজ্ঞাপন

১৯৪ রানের লক্ষ্য পাওয়া দলের ব্যাটিংয়ে যেখানে শুরু থেকেই রানের ফোয়ারা বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা দৃশ্যমান হওয়ার কথা, সেখানে রক্ষণাত্মক মানসিকতা বড় হারের মুখ হাঁ করে দিয়েছিল আরো। ইনিংসের নবম ওভারের শেষ বল থেকে শুরু করে ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বল—এই ৪৫ বলের মধ্যে একটিও বাউন্ডারি নেই বাংলাদেশ দলের। দুই উইকেট হারিয়ে এই সময়ের মধ্যে রান তাই উঠেছে মাত্র ৩৫! তিন উইকেটে ৭২ থেকে পাঁচ উইকেটে ১০৭ রান পর্যন্ত যেতেই তো বিশাল হার লেখা হয়ে গিয়েছিল।

দিনের শেষে ৫২ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত থাকা সাকিব আল হাসানকে জয়ের দৌড়ে নিঃসঙ্গ যোদ্ধা বলে মনে হলেও মাঝখানের বাউন্ডারিহীন সময়টায় ‘বলক্ষয়ী’ ব্যাটিংয়ে তাঁর দায় কম নয়। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহকে যদিও বলতে শোনা গেছে যে, ‘সাকিব ভালো ব্যাটিং করেছে, তবে অন্য প্রান্তে আরো কারো অবদান রাখা জরুরি ছিল। ’ আর কেউ পারেননি, সাকিবও কি ভালো ব্যাটিং করেছেন? এই সংস্করণের চাহিদার সঙ্গে বেমানান ব্যাটিং অবশ্য তা বলছে না। ১৭ বলে ১৭ রান নিয়ে ৪৫ বলের ওই পর্ব শুরু করেন সাকিব। এর মধ্যে নিজে ২০ বল খেলে করেন ১৮ রান। ৩৭ বলে ৩৫ রান করা সাকিব শেষ দিকে তিনটি ছক্কা আর দুটো বাউন্ডারি মারলেও ততক্ষণে ওরকম ব্যাটিং আক্ষরিক অর্থেই নিরর্থক হয়ে গেছে। হারের ব্যবধান কমাতেই কেবল যা একটু ভূমিকা রেখেছে!

ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ‘ডাবল’ অর্জনের দিনে বাংলাদেশের বোলিংও ছিল লক্ষ্যহীন। মাত্র ২৮ বলে ছয় ছক্কা ও দুই চারে অপরাজিত ৬১ রানের ঝড় বইয়ে দেওয়া রোভম্যান পাওয়েলও টার্গেট করেছিলেন সাকিবকে, ‘আমার মনে হচ্ছিল, এটি সাকিবের সেরা দিন নয়। তাই ওর ওপর চড়াও হব বলে ঠিক করেছিলাম। ’ অবশ্য সাকিব একা নন, অধিনায়কের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো পুরো বোলিং বিভাগকেই, ‘শুরুটা যথেষ্ট ভালো করতে পারিনি আমরা। শুরুর দিকে অনেক বেশি আলগা বল করে ফেলেছিলাম, যা ওদের ছন্দটা ধরিয়ে দেয়। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট নিয়ে আবার ছন্দটা আমরা ফিরে পাচ্ছিলাম। কিন্তু পাওয়েল তা আবার আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়। ’

পাওয়েলের ব্যাটে ব্যয়বহুল কিছু ওভারে কোনো সমস্যা দেখেননি মাহমুদ, তিনি বরং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজেদের ঢালাও ব্যর্থতাই দেখছেন, ‘বোলিংয়ে আমরা কয়েকটি ওভারে বেশি রান দিয়ে ফেলেছি। তাতেও সমস্যা নেই, কারণ টি-টোয়েন্টিতে কয়েকটি ওভারে বেশি রান হতেই পারে। তবে যেভাবে আমাদের পরিকল্পনা ছিল, যে জায়গায় বল করার কথা, সেখানে আমরা করিনি। ’ এরপর শুরুর ধাক্কা ব্যাটিংয়েও, ‘১৯০ তাড়া করতে গেলে ভালো শুরু খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার প্লেতে ৫৫-৬০ রান করলে ম্যাচে থাকা যায়। কিন্তু আমরা প্রথম ৬ ওভারেই হারিয়ে ফেললাম ৩ উইকেট, রানও করলাম মাত্র ৪৪!’



সাতদিনের সেরা