kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

টি-টোয়েন্টির দুর্দশা কাটানোর মিশন

জিতে মনোবল বাড়িয়ে বিশ্বকাপে যাওয়াও জরুরি বাংলাদেশের জন্য। কারণ টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স যাচ্ছেতাই। এই সংস্করণে নিজেদের খেলা সর্বশেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই হার আত্মবিশ্বাস নিয়ে গেছে তলানিতে। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বের পাঁচ ম্যাচেই হার দিয়ে শুরু যে দুর্দশার, তা এখনো চলছে।

২ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টি-টোয়েন্টির দুর্দশা কাটানোর মিশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগের দুইবারের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। বরং কেউ এখন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়ে থাকলেও তাঁকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই, ‘এ রকমই তো হওয়ার কথা ছিল। ’

অবশ্য টেস্টে অসহায় আত্মসমর্পণের পর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে ঘুরে দাঁড়িয়ে স্বাগতিকদের হারের তিক্ত স্বাদ দেওয়ার নজিরও আছে বাংলাদেশের। ২০১৮ সালে এর আগের সফরই এর জ্বলন্ত প্রমাণ।

বিজ্ঞাপন

টেস্ট সিরিজে বিধ্বস্ত হওয়ার পর গিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন তখনকার ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্ব দিয়ে হারের বিষাদ মুছে দলের মুখে ফুটিয়েছিলেন জয়ের ঝলমলে হাসিও। তিন ম্যাচের সেই ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতার সাফল্য দলের মধ্যে এমন উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছিল, এরপর টি-টোয়েন্টির পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজও মাথা নত করেছিল। তিন ম্যাচের সেই সিরিজও ২-১-এ জিতে দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ।

অথচ টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের কখনোই ভালো দল বলে দাবি করে না বাংলাদেশ শিবিরও। এখনো কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে পায়ের নিচে শক্ত মাটি খুঁজে না পাওয়া দলটি এবার টেস্ট ব্যর্থতার পর সেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়েই শুরু করতে যাচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন। যে মিশনে মাশরাফিকে পাওয়ার উপায় নেই। দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে তামিম ইকবালও টি-টোয়েন্টি খেলছেন না বলে সেন্ট লুসিয়া থেকে ডমিনিকার পথে বাংলাদেশের উত্তাল সমুদ্রযাত্রায় সঙ্গী হননি। ওয়ানডে অধিনায়ক দলের সঙ্গে গিয়ে যোগ দেবেন গায়ানায়, যেখানে শেষ টি-টোয়েন্টির পর হবে ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচও। মুশফিকুর রহিমও হজের জন্য এই সফরে যাননি বলে টেস্ট ব্যর্থতার অন্ধকার থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব এখন অনেকখানিই বর্তেছে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ ও সাকিব আল হাসানের ওপর।

চার বছর আগের সফরে সাকিবের নেতৃত্বেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। আজ ডমিনিকার উইন্ডসর পার্কে সিরিজের প্রথম কুড়ি-বিশের ম্যাচ থেকে তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্যের দিকেও তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচের আগে প্রস্তুতি খুব জমাট হওয়ার সুযোগ ছিল না মাহমুদ উল্লাহদের। ম্যাচ ভেন্যুতে ম্যাচের দুই দিন আগে থেকেই অনুশীলন করার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেন্ট লুসিয়া থেকে যাত্রা এক দিন পেছাতে হয় আটলান্টিকে সাইক্লোনের ঘনঘটায়। আর ফেরিতে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ডমিনিকা যাত্রাও শেষ পর্যন্ত খুব প্রীতিকর হয়নি ‘মোশন সিকনেস’-এর কারণে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার অসুস্থ হয়ে পড়ায়।

তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই ডমিনিকায় পৌঁছানো দল ম্যাচের আগে শুধু এক দিনই উইন্ডসর পার্কে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে। পারফরম্যান্সই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে টেস্ট বাংলাদেশের পছন্দের সংস্করণ নয়। আবার সাদা বলের সংস্করণ হলেও টি-টোয়েন্টি নিয়েও ভিন্ন কিছু বলার উপায় নেই। এই সংস্করণেও বছরখানেক চরম দুর্দশা চলছে তাঁদের। তবু অধিনায়ককে আশাহত হলে চলে না বলেই হয়তো মাহমুদ উল্লাহকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমরা সিরিজ জেতার লক্ষ্য নিয়েই নামব। এই মুহূর্তে আমাদের দলের ভারসাম্যও চমৎকার বলে মনে হচ্ছে আমার। ’ তার ওপর অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেরও আর খুব বেশি বাকি নেই বলে প্রস্তুতির কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে তাঁদের, ‘বিশ্বকাপের আগে প্রতিটি সিরিজ ও প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাই সিরিজই জিততে চাই। ’

জিতে মনোবল বাড়িয়ে বিশ্বকাপে যাওয়াও জরুরি বাংলাদেশের জন্য। কারণ টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স যাচ্ছেতাই। এই সংস্করণে নিজেদের খেলা সর্বশেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই হার আত্মবিশ্বাস নিয়ে গেছে তলানিতে। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বের পাঁচ ম্যাচেই হার দিয়ে শুরু যে দুর্দশার, তা এখনো চলছে। পাকিস্তানের কাছে দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের একটিতে পাওয়া জয়ই সম্প্রতি একমাত্র সাফল্য।



সাতদিনের সেরা