kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

তবে তাঁরা ভার্চুয়াল জগতের তারকা

আরেকটি প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু এই লিগ দেশের ফুটবলে নতুন কিছু যোগ করতে পারেনি। বিদেশি ফুটবলারে সুসজ্জিত লিগে দেশি ফুটবলাররা আরেকটি মৌসুম পার করেছেন। পারফরম্যান্সের বিচারে নিজেদের আলাদা করতেও পারবেন না। তাই জাতীয় দলের চেহারায়ও আলাদা আকর্ষণ যোগ হয় না। ফুটবলের এই মলিন চেহারার কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন সনৎ বাবলা। আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব

১ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তবে তাঁরা ভার্চুয়াল জগতের তারকা

নেট দুনিয়ায় দারুণ আকর্ষক তাঁরা। জামাল ভূঁইয়া, আনিসুর রহমান, নাবিব নেওয়াজ জীবন, শহীদুল আলম, সোহেল রানা, রাকিব হোসেন, বিপলু আহমেদ, সাদ উদ্দিন, ইব্রাহিমসহ অনেকের নিজস্ব ফেসবুক পেজ আছে। তাঁদের ‘ফলোয়ার’ও অনেক, ৩০-৪০ হাজার থেকে ৮-১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তাঁদের এত অনুসারী তবু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারি খাঁ খাঁ করে।

দেশের ফুটবল মাঠে যতটা না, তার চেয়ে বেশি সরগরম সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে জামাল-বিপলুরা একেকজন তারকা! ফুটবলারদের পেজগুলো দেখলে দেশের ফুটবল সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা পেতে পারেন আপনি, লাখো অনুসারী তাঁদের। যদিও মাঠের ফুটবলে কোনো আকর্ষণ নেই। মনে হতে পারে, মাঠের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতের মহারথী তাঁরা!

নেট দুনিয়ায় দারুণ আকর্ষক তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

জামাল ভূঁইয়া, আনিসুর রহমান, নাবিব নেওয়াজ জীবন, শহীদুল আলম, সোহেল রানা, রাকিব হোসেন, বিপলু আহমেদ, সাদ উদ্দিন, ইব্রাহিমসহ অনেকের নিজস্ব ফেসবুক পেজ আছে। তাঁদের ‘ফলোয়ার’ও অনেক, ৩০-৪০ হাজার থেকে ৮-১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তাঁদের এত অনুসারী তবু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারি খাঁ খাঁ করে। ২০১৯ সালে কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে এক গোলেই ভার্চুয়াল জগতে খ্যাতির চূড়ায় উঠে বসেন সাদউদ্দিন। এরপর এই ডিফেন্ডার হয়ে গেলেন বাংলাদেশের জার্সিতে প্রতিপক্ষের ফুটবলার, প্রতিপক্ষকে নিয়মিত পেনাল্টি উপহার দেন যে! টানা দুই টুর্নামেন্টে তাঁর দুইবার হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত গেছে দলের বিপক্ষে। জাতীয় দল থেকে ছিটকে গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাদের বাজার গরম, তিনি নিজেও বেশ সরব।

বাংলাদেশি ফুটবলারদের এই সরবতায় থাকে ছলচাতুরী, কখনো নিজেদের ফুটবল প্রতিভার বিস্ময়কর ঝলক দেখা যায় না পেজে। নিজের পারফরম্যান্সকে তুলে ধরার ভিডিও ক্লিপিংসও খুব থাকে না। বৈশ্বিক তারকাদের মতো রবসন রোবিনহো নিজের পেজে আপলোড করেন তাঁর চমৎকার গোল ও বিস্ফোরক মুভগুলো। সুবাদে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে চেনা যায় এবং তাঁর মানও বোঝা যায় ভালোভাবে। দেশি ফুটবলারদের মধ্যে গোলরক্ষক আনিসুর রহমানের দুর্দান্ত কিছু সেভ ছাড়া অন্যদের পেজে ছবি আর বিভিন্ন উক্তি। বোঝা যায়, ভিডিও ক্লিপ তৈরির মতো নৈপুণ্য এঁদের কারোরই নেই। এর পরও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের নামসংকীর্তন হয়। ফ্যানরা তোলে হাওয়াই আলোড়ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ফুটবল গ্রুপে চলে চাপান-উতোরও। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পর একটি পক্ষ এক ফুটবলারের গায়ে লাগিয়ে দিয়েছে দেশসেরা মিডফিল্ডারের ট্যাগ। এর কয়েক দিন বাদেই তাঁর হতাশাজনক পারফরম্যান্স থেকে ক্লাব প্রেসিডেন্টের মাথায় হাত! সেদিন ফাঁকা পোস্টেও যে বল ঠেলতে পারেননি তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি ফুটবল গ্রুপের পেছনে থাকেন চার-পাঁচজন করে ফুটবলার। সুবাদে তাঁদের গুণকীর্তন হয় আর অন্যদের সমালোচনা হয় পরোক্ষে। স্বার্থহানি হলে অন্য গ্রুপের সঙ্গে লেগেও যায় ভার্চুয়াল জগতে। এমনকি ক্লাব কোচের একাদশ নির্বাচনেও তাঁরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

ভার্চুয়াল জগতের ফুটবল নিয়ে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রায়হান হাসানেরও অভিজ্ঞতা আছে, ‘আমারও ফেসবুক পেজ আছে, তবে ওরকম অ্যাক্টিভ নই। অনেক খেলোয়াড় নিজের পেজে ফুটবল এবং নিজের খেলা নিয়ে মাতামাতি করে। তাতে কতটা কী হয়, সেই আলোচনায় আমি যেতে চাই না। ’ শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের রক্ষণভাগের এই খেলোয়াড়ের কাছে বড় হলো মাঠের পারফরম্যান্স, ‘সোশ্যাল মিডিয়াকে আমি খারাপ বলব না। তবে সেটাকে কিভাবে ব্যবহার করছে, তার ওপর নির্ভর করে ভালো-মন্দ। একটি জিনিস মনে রাখতে হবে—মাঠের খেলাটিই আসল। ক্লাব আমাকে কী দিয়েছে আর বিনিময়ে আমি কী দিচ্ছি, সেটার ওপর ভিত্তি করে ফুটবলারদের জীবনমানের পরিবর্তন হয়। হাওয়াই কথা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় তর্ক করে কখনো বড় ফুটবলার হওয়া যায় না। ’ বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া জনির খুব অপছন্দের এই সোশ্যাল মিডিয়া। তাঁর সোজাসাপ্টা কথা, ‘ফেসবুক পেজ খুলে আমি কারো প্রিয়ভাজন কিংবা শত্রু হতে চাই না। চারদিকে তো দেখছি। পেজে ওসব লেখালেখি আমার একদম অপছন্দের। মাঝেমধ্যে মনে হয়, খেলাটি মাঠের পরিবর্তে মুখে (ফেসবুকে) চলে এসেছে, যে যার মতো করে বলে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল জগতে শো অফ করে কী ফুটবল ক্যারিয়ার গড়া যায়!’

এটা যে উল্টো ফুটবলারদের জন্য ক্ষতি হয় এবং তাঁদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, সেটা ভালোভাবে বুঝেছিলেন মোহামেডানের সাবেক কোচ শন লেন। কিছুদিন আগে চাকরি ছেড়ে যাওয়া এই অস্ট্রেলিয়ান সাদাকালো শিবিরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়া নির্দেশনা জারি করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ‘বলে একটি লাথি মারলেই ছবি দিতে হবে! আমি দেখেছি, খেলার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওদের মনোযোগ বেশি। এটা নিয়েই পড়ে থাকে ওরা। আগে পারফরম্যান্স, মৌসুম শেষ হলে সোশ্যাল মিডিয়া। ’ প্রিমিয়ার লিগে পারফরম্যান্স বিচার করলে প্রায় পুরোটাই বিদেশিদের। আকর্ষেণের মধ্যমণিও তাঁরা। আর দেশি ফুটবলাররা মাঠে ব্যর্থ হয়ে খেলছেন ভার্চুয়াল জগতে!



সাতদিনের সেরা