kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

হারের পর আবার পাঠশালায়

সেন্ট লুসিয়ায় ১০ উইকেটে হারের পর সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরা টেস্ট অধিনায়কের টেস্ট ভাবনার অংশবিশেষের তুমুল সমালোচনা হয়েছে। সাকিবের বেলায় যা অভাবিত। তবে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন একদার টিমমেটের প্রতি।

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হারের পর আবার পাঠশালায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দেশে টেস্ট সংস্কৃতি গড়ে না ওঠার দায়ের যে বিস্তৃত জাল ছড়িয়েছেন সাকিব আল হাসান, সেটি ভালোভাবে নেয়নি নেটিজেনরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট লুসিয়ায় ১০ উইকেটে হারের পর সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরা টেস্ট অধিনায়কের টেস্ট ভাবনার অংশবিশেষের তুমুল সমালোচনা হয়েছে। সাকিবের বেলায় যা অভাবিত। তবে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন একদার টিমমেটের প্রতি।

বিজ্ঞাপন

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর দুজনের কথাতেই পুরনো সুর—টেস্ট পাঠশালায় ফিরে সব কিছু নতুনভাবে শুরু করা জরুরি।

অবশ্য ব্যর্থ একটি সিরিজের পর ঘরোয়া ক্রিকেটের খোলনলচে বদলে ফেলা কিংবা টেস্ট ক্রিকেটারদের শূন্য থেকে শুরু করার তাগিদ গত দুই দশকে কম শোনা যায়নি। দল হারলেই হৈচৈ হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নতুন শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাতে পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত হলেও পরের সিরিজেই নতুন করে শোর ওঠে পরিবর্তনের, ফিরে আসে ক্রিকেটের প্রাথমিক পাঠ যথার্থভাবে নেওয়ার পাঠ্যসূচি।

গত পরশু সেন্ট লুসিয়া টেস্ট শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব প্রশ্ন তুলেছেন ক্রিকেট সংস্কৃতি নিয়েই, ‘খেলোয়াড়দের এখানে খুব বেশি দোষ দেওয়াটা ঠিক হবে না। আমাদের দেশের সিস্টেমটাই কিন্তু এমন। আপনি কবে দেখেছেন বাংলাদেশে ৩০ হাজার দর্শক টেস্ট ম্যাচ দেখছে? ইংল্যান্ডে তো প্রতি ম্যাচে এ রকম দর্শক থাকে। টেস্টের সংস্কৃতিটাই আমাদের দেশে ছিল না কখনো, এখনো নেই। ’ এই সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি, ‘টেস্ট সংস্কৃতি নেই বলে হবে না, এটাও ঠিক না। এটা পরিবর্তন করাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সবাই মিলে যদি একসঙ্গে এগোনো যায়, তাহলে সম্ভব। নইলে হবে না। কারণ আমাদের টেস্ট সংস্কৃতিটাই নেই। ’

টেস্ট ব্যর্থতার আরো কারণ খুঁজতে গিয়ে সাকিবের মনে হয়েছে, ‘আমরা টেস্ট ক্রিকেটকে খুব মূল্যায়ন করি না। হতে পারে আমরা ভালো করিনি, এ কারণে মূল্যায়নও হয়নি। ’ এরপরই এই না পারার পেছনে পরোক্ষে দর্শকের বিষয়টি টেনে আনেন তিনি, ‘তবে একটার সঙ্গে আরেকটার সম্পর্ক আছে। একটার সঙ্গে আরেকটাকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলেই ভালো কিছু সম্ভব। ’

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া বাদ দিলে সব দেশেই টেস্ট দর্শকে ভাটা পড়েছে। অ্যান্টিগা কিংবা সেন্ট লুসিয়ায় কজন আর দর্শক ছিল গ্যালারিতে! আর ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার ব্যাপারটা শুধুই সংস্কৃতিগত নয়, সাফল্যও জড়িত। সম্প্রতি যে ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলে বেন স্টোকসের ইংল্যান্ড হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে, তা সাদা বলের রোমাঞ্চকর ক্রিকেটকেও ছাড়িয়ে গেছে। সেই সিরিজের ‘টিআরপি’ তাই বাংলাদেশেও বেশি ছিল।

এরপরই অবশ্য সবচেয়ে মূল্যবান কথাটি বলেছেন সাকিব, ‘এই বিরতির (ডিসেম্বরে ভারত সিরিজের আগে) মধ্যে যারা টেস্ট খেলতে আগ্রহী, তারা হয়তো যার যার জায়গা থেকে উন্নতি করার চেষ্টা করবে। আমাদের এমন কোনো সেটআপও নেই যাদের আনলে আমরা টেস্টে ভালো করে ফেলব। বাইরে আর যে দুই-চারজন আছে, সবাই মিলে যদি একসঙ্গে পরিকল্পনা করে এগোতে পারি, তাহলে ভালো কিছু সম্ভব। তা না হলে এত দিন ধরে যা হয়ে আসছে, তা থেকে খুব বেশি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ’ সাকিবের শুরুর ‘যারা টেস্ট খেলতে আগ্রহী’—এই তিন শব্দেই টেস্ট ব্যর্থতার অন্যতম কারণ নিহিত। সাদা বলের রমরমা বাজারে ম্যাচ ফি ছয় লাখ করেও টেস্ট আগ্রহী খুঁজে পায় না বিসিবি। যাঁরা খেলছেন, তাঁদের অনেকের আত্মনিবেদন নিয়েও টিম ম্যানেজমেন্টে আছে প্রবল সংশয়। টেস্ট সংস্কৃতি যাঁদের ব্যাটে-বলে ভিত পাওয়ার কথা, সেই খেলোয়াড়দের অনেকের মনেই লাল বলের ক্রিকেটে অনাগ্রহ রয়েছে! তৃতীয় মেয়াদে অধিনায়ক হওয়ার আগে টেস্ট সিরিজ থেকে প্রায়ই ছুটি নিয়েছেন সাকিব নিজেও।

তবু ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর অধিনায়কের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন মাশরাফি, ‘টেস্টে কখনোই ভালো ছিলাম না। মাঝে ঘরের মাঠে কিছু ম্যাচ জিতেছিলাম, উন্নতির ধারায় যাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে আবার নিচের দিকে। আসলে টেস্টে আমরা কখনোই ধারাবাহিক ছিলাম না। একমাত্র ওয়ানডেতেই আমরা ধারাবাহিক। ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ভালো খেলে এসেছি। টেস্ট ক্রিকেটে ইতিবাচক দিক হলো, সাকিব বেশ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। এখন অধিনায়ক। কিন্তু রাতারাতি কিছু সম্ভব নয়। ’ উন্নতির জন্য সাকিবের মতো মাশরাফিও প্রথমে ঘরের মাঠে টেস্ট জয়ের অভ্যাস গড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটও কিন্তু আমরা এভাবে পরিবর্তন করেছি। প্রথম পরিকল্পনা ছিল ঘরের মাঠে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জিতব, যেন ৮০ শতাংশ ম্যাচ জিততে পারি। টেস্টেও ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিলাম। কিন্তু সেখান থেকে একটু পিছিয়ে গেছি। এখন ঘরে টেস্ট জেতার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমি মনে করি সাকিব আক্রমণাত্মক চিন্তা-ভাবনা করছে, যা ইতিবাচক। ’



সাতদিনের সেরা